এস এম মনসুর নাদিম (বইমেলা প্রাণের মেলা)

সোমবার , ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ at ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ
18

প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে রাজধানীতে বই মেলা হয়। এই বইমেলাকে ঘিরে প্রতিদিন পত্রিকার পাতায় থাকে নানা আয়োজন। টিভি চ্যানেল গুলোতে থাকে বিশেষ প্রচার। বইমেলা নিয়ে এই আড়ম্বর আমাকে অনুপ্রাণিত করে। বই হোক নিত্যসঙ্গী। বই মানুষকে জ্ঞানী করে, এই জাতীয় নানা আকর্ষণীয় পোস্টার ফেস্টুনে ভরে আছে মেলা। প্রতিবার বইমেলায় হাজার হাজার বই প্রকাশিত হলেও সেখানে মাত্র হাতে গোনা শ’ দেড়েক বইই হয় আসল মান সম্পন্ন বই। বাকী সব জঞ্জাল। অধিকাংশ নতুন লেখক। যারা ঘ্যাঁটের পয়সা ব্যয় করে নিজের লেখা ছাপার অক্ষরে দেখতে আকুল, তাদেরকেই ব্যবসায়ী প্রকাশকেরা অত্যধিক ব্যাকুল করে রেখেছেন। বইমেলায় যেই হারে লোক সমাগম হয়ে থাকে, সেই হারে বই বিক্রি হয় না। অনেকে মেলায় যায় খানিকটা ঘোরা-ঘুরি কিংবা বন্ধুদের নিয়ে মজা করার জন্য। বলা যায় দর্শক বেশি ক্রেতা কম। অনেকে শিক্ষিত ও নিজেকে সাহিত্যানুরাগী হিসেবে জাহের করার জন্য মেলায় গিয়ে থাকেন। লেখকের চেয়ে অলেখকের সংখ্যা প্রচুর। অতি অল্প সময়ে অনেকে একাধিক বই প্রকাশ করে থাকেন। আমার এক পরিচিত খুবই তাড়াতাড়ি দুই / তিনটা নিজের লেখা বই প্রকাশ করে সৌজন্য কপি আমাকে দিয়ে গেলেন। দুঃখিত আমি পুরো বই পড়তে পারিনি। লেখার এতো কাঁচা হাত, বানান বিভ্রাট বর্ণনাশৈলীর নড়বড়ে অবস্থা দেখে আমি আর বেশিদূর আগাতে পারিনি। আমার লেখক জীবনের চারদশকেরও বেশি সময় ধরেও একটি বই প্রকাশ করার সাহসী ও সৎ প্রকাশক পাইনি। আমি কেমন লিখি সেটা পাঠক বিচার করবেন। কিন্তু আজও সেই বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে পারিনি। তাই বার বার স্যালুট করি সেই বিদগ্ধ লেখক প্রফেসর আসহাব উদ্দীন সাহেবকে। যিনি তাঁর অমূল্য গ্রন্থ ”ভূমিহীন কৃষক, কড়িহীন লেখক” এ এই বিষয়ে সরস ও বাস্তব চিত্র এঁকেছেন। তাই আজকাল অলেখকদের বইয়ের ঠেলায় হারিয়ে যাচ্ছে প্রকৃত লেখকদের বই।

x