এস এম মনসুর নাদিম (নিজের মাতৃভাষা)

মঙ্গলবার , ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ at ৮:৩২ পূর্বাহ্ণ
34

: নব্বই দশকের মাঝামাঝি সময়ে আমাদের কোম্পানি ইতালি থেকে একটি অটোমেটিক অয়েল প্লান্ট আমদানি করেছিলেন। সেই প্লান্ট টা কোম্পানির প্রধান প্রকৌশলী পাকিস্তানী সাহাব আনোয়ার বসাতে গিয়ে ফিটিংস এ গোলমাল করে ফেলায় প্লান্টটি চালু করা যাচ্ছিল না। ফলে ইতালি থেকে প্রস্তুত কারক কোম্পানি একজন ইঞ্জিনিয়ার পাঠালে তার সাথে ভাষাগত সমস্যার জন্য কেউ কাজ করতে পারছিল না। ইতালিয়ান ইঞ্জিনিয়ার তার ভাষায় কথা বলছিলেন। আমাদের কোম্পানির এমডি থেকে জিএম সবাই ইংরেজিতে তার সাথে কথা বলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলেন। তিনি ইংরেজি বুঝলেও ইংরেজি বলছেন না। অগত্যা স্থানীয় পত্রিকা গালফ নিউজ ও খালিজ টাইমস-এ বিজ্ঞাপন দিতে হলো একজন দোভাষীর জন্য। দোভাষী পেয়ে গেলো। কাজ শুরু হয়ে গেলো দোভাষীর সহযোগিতায়। পরে পাকিস্তানী দোভাষী থেকে জানলাম, ইতালিয়ানরা ইংরেজি জানলেও নিজ ভাষা ব্যতীত কথা বলে না। এটা তাদের এক ধরনের জাত্যাভিমান। এ কথাটা আজ মনে পড়ে গেলো আমাদের রক্তে অর্জিত ভাষার মাসের কথা মনে হতেই। পৃথিবীর আর কোন জাতি ভাষার জন্য এত রক্ত দেয়নি। কিন্তু তারা নিজ ভাষাকে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করে থাকে। অপ্রিয় হলেও সত্য’যে আমরা শুধু ফেব্রুয়ারি এলেই ভাষার জন্য মায়াকান্না করি। ফেব্রুয়ারি এলেই শহীদ মিনার গুলি ধুয়ে-মুছে রঙ করি। ফেব্রুয়ারি এলেই ভাষার জন্য দরদ উতলে উঠার ঢং করি। প্রতিটি ঘরে ঘরে হিন্দি সিরিয়াল দেখি। আমাদের ভালোবাসা, প্রেম, চাওয়া-পাওয়া, আবেদন-নিবেদন সকল কিছুতে যেন একটা মেকি ভাব এসে গেছে। ১৯৫২ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত এই ৬৭বছরেও সাইন বোর্ড বাংলা করতে পারিনি। বাংলা চর্চার উপদেশ মূলক টকশো করতে হচ্ছে। বাঙালি হলে আগে নিজের বাঙালিত্বকে উন্নয়নের ক্রমাগত ধারায় ফেলতে হবে। পারিবারিকভাবে দেশ জাতি ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি মমত্ববোধ জাগাতে হবে। অন্যথায় ঘটা করে অনুষ্ঠানের নামে অর্থনাশ করার কোন মানে হয় না।

x