এশিয়ান উইমেন ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাসের নির্মাণকাজ শুরু অক্টোবরে

আজাদী প্রতিবেদন

শুক্রবার , ১৫ মার্চ, ২০১৯ at ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ
172

চট্টগ্রামে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের (এইউডবিস্নউ) স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপনে দেশীয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত ভিত্তি স্থপতিবৃন্দ লিমিটেডের পড়্গে প্রজেক্টের উপদেষ্টা স্থপতি ইসতিয়াক জহির তিতাস ও প্রজেক্ট পরিচালক স্থপতি মুস্তাক হাবিব বলেন, ১০ লক্ষ বর্গফুটের এইউডবিস্নউর স্থায়ী ক্যাম্পাসের নির্মাণ কাজ শুরু হবে আগামী অক্টোবর মাসে। আশা করছি দু’বছর অর্থাৎ ২০২১ সালের মধ্যেই নির্মাণকাজ শেষ হবে। এর পর শুরু হবে ৮০০ শিড়্গার্থী থেকে ৩ হাজার শিড়্গার্থীতে উন্নীত করার প্রক্রিয়া। একইসাথে পূর্ণাঙ্গ রূপদানে মাস্টার্সের ক্লাস শুরু করার কাজ। গতকাল বৃহস্পতিবার নগরীর একটি হোটেলে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন স্থপতিবৃন্দ।
তারা বলেন, চট্টগ্রামে এশিয়ার সবচেয়ে বড় উইমেন ইউনিভার্সিটি হচ্ছে এইউডবিস্নউ। একই ছাদ ও আকাশতলে মিলেমিশে জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা ও সাধনায় ভিনদেশ জাতি নৃগোষ্ঠী ধর্ম-বর্ণ ও ভাষাভাষীর এ যেন এক মিলনমেলা। প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্পটি নির্মিত হলে বাংলাদেশে মহিলাদের উচ্চশিড়্গা ও ক্ষমতায়ন বাড়বে। মতবিনিময় সভার মধ্য দিয়ে প্রকল্প সংশিস্নষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও স্থানীয় এলাকাবাসীর পরিবেশ ও সামাজিক প্রভাব সম্পর্কে মতামত ও চিনত্মা ভাবনার প্রতিফলন হয়েছে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। তাই শুধু কাজ শুরু করার পূর্বে নয়, কাজ চলাকালীন ও পরবর্তী সময়ে যেন সকলের মতামতসহ অভিযোগ বিবেচনায় এনে সার্বক্ষণিক কাজ শুরু করার একটি প্রক্রিয়া বলবৎ থাকে। ১০ বছরে আমরাও ইতোমধ্যে বুঝে গেছি, এবার এইউডবিস্নউর নিজের ঠিকানায় ফিরে যাওয়ার সময় এসেছে। আর তা সম্ভব হয়েছে চট্টগ্রামের নেতাদের কারণে। তাদের মধ্যে অনেকে চলে গেছেন আমাদের ছেড়ে।
মতবিনিময় সভায় বক্তারা আরো বলেন, এইউডবিস্নউ প্রকল্পটি নারী শিড়্গা ও উন্নয়নের পাশাপািশ চট্টগ্রামে পর্যটনের একটি বিরাট ভূমিকা পালন করবে। এইউডবিস্নউর স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণে সিডিএ শুরু থেকেই সহযোগিতা করে এসেছে। ওই এলাকায় আরো কয়েকটি শিড়্গা প্রতিষ্ঠান রয়েছে যার সবকটি মিলেই এলাকাটি শিড়্গা ও তারুণ্যের প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হবে। আমাদেরকে বরাদ্দকৃত ২০০ একর জায়গার মধ্যে আমরা কাজ করতে পারছি মাত্র ৫০ একর জায়গায়। বাকিটুকু বিভিন্ন নিয়মের কারণে কাজ করা সম্ভব হচ্ছেনা। শিড়্গার্থীদের যাবতীয় সুযোগ সুবিধা সম্বলিত অত্যাধুনিক একটি ক্যাম্পাস গড়ে তোলা হচ্ছে। যেখানে থাকবে সুবিশাল লাইব্রেরি, আবাসিক ভবন, হাসপাতাল, খেলার জায়গা, অডিটরিয়াম অ্যান্ডর পারফরমিং আর্ট স্পেস, বিশাল লেক যেখানে গাছ এবং পানির মিলনমেলায় পরিণত হবে। গ্রামীণ ঐতিহ্যের কথা লক্ষয রেখে করা হবে উঠান ও ঘাট। মূলত দেশি-বিদেশি শিড়্গার্থীদের বিনোদনের বিষয় চিনত্মা করেই এসব কিছু করা। শিড়্গার্থীদের বিনোদনের পাশাপাশি নতুন পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেওয়ার সুবিধার্থে তা জরুরি।
এইউডবিস্নউর উন্নয়ন কর্মকা-ে পরিবেশ ও সামাজিক প্রভাব নিরুপণের সমীড়্গা গ্রহণে প্রকল্প সংশিস্নষ্ট ব্যক্তিবর্গের মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। এতে এইউডবিস্নউর রেজিস্টার ডেভ ডোল্যান্ডের সঞ্চালনায় মতামত তুলে ধরেন-ওয়াসিকা আয়েশা খান এমপি, চট্টগ্রাম উইম্যান চেম্বারের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবিদা মোস্তাফা, স্থপতি জেরিনা হোসেন, চবি অর্থনীতি বিভাগের প্রফেসর ড. সাইফুল ইসলাম, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সংযুক্তা দাশগুপ্তা, ওয়াসার সহকারী প্রকৌশলী এস এম রুবাইতুল কাদের, চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক মোহাম্মদ শামীম, তাহের মেমোরিয়াল স্কুলের অধ্যক্ষ রেহেনা খান, ডিওড্রপ প্রিপারেটরি স্কুলের পরিচালক শিরিন আক্তার, ঘাসফুলের সিইও এ আর জাফরী, ডবিস্নউপিএমএল এর চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ। উলেস্নখ্য, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে বর্তমানে ১৮টি দেশের শিড়্গার্থীরা পড়ালেখা করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরকল্পিত ক্যাম্পাসের ডিজাইনার স্থপতি মশি সাফদি।

- Advertistment -