এলিয়েন ও অরণ্য

সুজন সাজু

বুধবার , ১২ জুন, ২০১৯ at ৬:৩৭ পূর্বাহ্ণ
47

বিশাল এরিয়া, তবে স্থানটা নীরব নিঃশব্দ। চতুর্দিকে গাছ গাছালির মেলা। অরণ্য মাঝে মধ্যে স্থানটাকে বেছে নেয়, সময় কাটানোর জন্য। আজো বসে বসে ভাবে পৃথিবীর সৃষ্টির রহস্য নিয়ে। বই পুস্তক পড়ে জানতে পেরেছে, এই পৃথিবীর মতো আরো গ্রহ নক্ষত্র আছে। বিজ্ঞানীরা এর রহস্য উদঘাটনে প্রচুর সময় ব্যয় করছে। কেউ কেউ মনে করে, অন্য গ্রহগুলোতে নাকি মানুষের মতো প্রাণীর অস্তিত্ব আছে। এরা মানুষের চেয়ে বহুগুণ বুদ্ধিমান। যেই গুলোকে আমরা বলি এলিয়েন। আসলে এলিয়েন গুলো দেখতে কেমন, এরা কি কথা বলতে পারে? এদের কি হাত পা আছে? এরা কি মুখ দিয়ে খাবার খায়? প্রশ্ন গুলো অরণ্যের মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। তাদের দেশটিই বা কেমন? ভাবতে ভাবতে আনমনা হয়ে যায় অরণ্য। এলিয়েনটা কী জিনিস, জানতে ইচ্ছে জাগে অরণ্যের। ভাবনা যখন এলিয়েন, তখন আর কিছু অনুভবে আসছে না অরণ্যের। চোখ দুটোয় ঘুম ঘুম রেশ। হঠাৎ একটা হাওয়ার বেগ খুব জোরে ধাক্কা দিয়ে চলে গেল। অরণ্য বুঝতে চেষ্টা করে, হাওয়ার গতিটা। অনতি দুরে কিছু একটার অস্তিত্ব আবছা আবছা পরিলক্ষিত হচ্ছে। তবে পুরোপুরি অবয়ব লক্ষ করার মতো নয়। অস্তিত্বটা কেমন জানি, অরণ্যের প্রতি আগ্রহী আগ্রহী লাগছে। আগ্রহী হয়ে উঠলো অরণ্যও। এবার হাওয়াটা যেন চতুর্দিকে ঘুরছে। এমনটা লাগছে অরণ্যের। আসলে কি তাই? খানিক এগিয়ে যেতে প্রস্তুতি নিচ্ছে অরণ্য, এমন সময় ফিসফিসিয়ে একটা আওয়াজ কানে বাজল। আসিও না, আমিই আসছি তোমার নিকটে। একটু ভড়কে গেল অরণ্য। কিছু দেখতে পাচ্ছে না, অথচ কথা বলছে আসিও না! তাহলে জিনিসটা কি? আমি কী, কেন এসেছি, সব বলব। একটু অপেক্ষা করো অরণ্য। আরো অবাক হয়ে গেল, নামও বলছে, আর যা ভাবছে সবই অনায়াসে ঠিক ঠিক বলে দিচ্ছে ! অরণ্য এবার সিদ্ধান্ত নিল, পরিচয় জানতে হবে আগে, না হলে সে কীভাবে বুঝবে যে, কার সাথে সে কথা বলছে? যখন অরণ্য জিগ্যেস করল তুমি কে, কোথা থেকে এসেছ, তোমার অস্তিত্ব কি? আগে তোমার অস্তিত্বের স্বরূপ উন্মোচন করো, আমি দেখতে চাই তোমার অবয়ব। প্রতি উত্তরে বলে ওঠে, অরণ্য এতো অধৈর্য হচ্ছো কেন তুমি? এসেছি যখন তোমাকে সব খুলেই বলব এবং তোমার ভাবনার সব প্রশ্নের উত্তরও দেব। তবে এটাও জেনে রাখ, খালি চোখে আমাদের দেখতে পাবে না। শুধু তুমি নয়, কেউ দেখতে পায় না আমাদের। আমরাই দেখি এবং তোমাদের সব কিছু সম্পর্কে আমরা অবগত ও জানতেও পারি। আমাদের দৃষ্টি শক্তি তোমাদের চেয়ে অনেক গুণ বেশি। চলার গতি বাতাসের গতি, এমন কী আলোর গতি থেকেও তীব্রতর। বলে কি এসব! অরণ্য ভাবে। তাহলে, তুমি কি এলিয়েন? তোমরা মানুষেরা এলিয়েন বলো আর যা বলো, আমরা কিন্তু এই গ্রহের বাসিন্দা নয়। আমাদের গ্রহ তোমাদের পৃথিবীর চেয়ে লক্ষ কোটি গুণ বড়ো। তবে তোমাদের মতো মানুষের ন্যায় প্রাণীদের কোন ভিড় নেই। পৃথিবীর মতো ভয়ানক ও দূষিত যান্ত্রিকতার নিদর্শন বলতে কিছু নেই। আমরা নিজেরাই সবকিছু করার ক্ষমতা রাখি। এমন কী গ্রহ থেকে গ্রহে, চাইলে সেকেন্ডে পৌঁছাতে পারি। এই যে মন চাইল পৃথিবীতে ঘুরতে এলাম। ঘুরতে ঘুরতে দেখলাম তুমি আনমনা হয়ে কী ভাবছ? তাই তোমার দ্বারে ছুটে এলাম। এবার বলো, তুমি আমাদের সম্পর্কে কী জানতে চাও? সাহস সঞ্চার করে অরণ্য। আচ্ছা, তুমি যে বললে অন্য গ্রহের বাসিন্দা, তাহলে আমাদের গ্রহে তোমাদের কাজটা কী? কেন তোমরা আমাদের পৃথিবীতে আসো? তাহলে শোনো, প্রথমেই বলেছি, আবারো বলছি, আমরা তোমাদের মতো মানুষ নয়। যদিও আমাদের প্রাণ আছে। আমাদের গ্রহ তোমাদের পৃথিবী নামক গ্রহ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমাদের ওখানে কোন শাসন কর্তা নেই। তোমাদের মতো এতো জোর জুলুম, ধর্ম, কর্ম নিয়ে নেই কোন বাড়াবাড়ি। নেই কোন হিংসা বিদ্বেষ। আমরা আমাদের মতো করে যেমন খুশি ওভাবেই চলা ফেরা করার স্বাধীনতা আছে। কেউ বড়, কেউ ছোট এমন কোন ভেদাভেদ আমাদের মাঝে নেই। এজন্যই আমরা তোমাদের চেয়ে এগিয়ে। তোমরা মানুষরা একে অপরের ক্ষতি করতে একটুও কুন্ঠাবোধ করো না। কেউ এগোতে চাইলে তোমরা তাকে টেনে ধরো সেই যেন এগোনোর সুযোগ না পায়। এটাই তোমরা মনুষ্য জাতির বৈশিষ্ট্য। এমন বৈশিষ্ট্য আমাদের মাঝে বিন্দুমাত্র নেই। আসলেই তাই, অরণ্য ভাবে। যা বলেছে তার কোনটাই মিথ্যে নয়। ভাবতে ভাবতে অরণ্য নিজের মাঝে হারিয়ে যায়। আর কিছু জিগ্যেস করবে, এমন সাহসও কুলাচ্ছে না। কিছুক্ষণ পর সম্বিত ফিরে পায় অরণ্য, দেখে আগের মতই একা বসে আছে, আশে পাশে কিছুই নেই।

x