এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ চলতি বছরেই

একনেকে অনুমোদন

হাসান আকবর

বৃহস্পতিবার , ১১ অক্টোবর, ২০১৮ at ৬:৪৩ পূর্বাহ্ণ
599

চট্টগ্রাম মহানগরীর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ চলতি বছরেই শুরু হচ্ছে। গতকাল প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প একনেকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রকল্পের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানও নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। তবে পৃথক ব্লকে বিভক্ত করে এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ করা হবে। প্রথমে সল্টগোলা থেকে সিমেন্ট ক্রসিং পর্যন্ত এলাকায় কাজ শুরু হবে।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পদস্থ কর্মকর্তারা জানান, যানজটে প্রায় স্থবির নগরীর গতিশীলতা নিশ্চিত করতে মুরাদপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। মুরাদপুর থেকে শুরু হওয়া ফ্লাইওভারটি বিমানবন্দর পর্যন্ত টানা ২৩ কিলোমিটার হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে প্রকল্পের ডিজাইনে পরিবর্তন এনে মুরাদপুর থেকে লালখান বাজার এবং লালখান বাজার থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত ১৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ইতোমধ্যে মুরাদপুর থেকে লালখান বাজার পর্যন্ত ফ্লাইওভারের কাজ শেষ হয়েছে। এখন লুপ ও র‌্যাম্প নির্মাণ কাজ চলছে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স র‌্যানকিন জেভি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। সিডিএ’র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, একনেকের অনুমোদনের পর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজের জন্য টেন্ডার আহবান করা হলে মোট ১০টি প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ নেয়। কারিগরি বাছাইয়ে ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে যোগ্য বলে বিবেচনা করা হয়। ওই ছয়টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সর্বনিম্ন দরদাতা মনোনীত হয় ম্যাক্স র‌্যানকিন জেভি। ম্যাক্স র‌্যানকিন জেভি ২ হাজার ৮৫৪ কোটি ৫৬ লাখ ১২ হাজার ১১৩ টাকা দর উল্লেখ করে। দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দর ছিল চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানির ৩ হাজার ৩৯ কোটি ৩৯ লাখ ১৫ হাজার ৭২৭ টাকা। সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম গতকাল দৈনিক আজাদীকে বলেন, সর্বনিম্ন দরদাতা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেয়া হবে। তারা কাজ শুরু করবে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ শুরু এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা বেশ সতর্কভাবে কাজ করাবো। সমন্বয়ও করতে হবে। সল্টগোলা থেকে সিমেন্ট ক্রসিং পর্যন্ত এলাকায় সবচেয়ে বেশি যানজট থাকে। তাই শুরুতে আমরা এ অংশে নির্মাণ কাজ শুরু করার পরিকল্পনা করেছি।’
সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, যানজটের তীব্রতা কমাতে সাগরপাড়ে আউটার রিং রোডকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। আউটার রিং রোডকে বিকল্প হিসেবে ব্যবহারের জন্য ইতিমধ্যে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার অংশ পিচঢালাই হয়ে গেছে। হালিশহর আনন্দ বাজার থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত অংশটি শেষ করার জন্য খুবই দ্রুত কাজ করছি ।
তিনি বলেন, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে চট্টগ্রামে বিনিয়োগ, ব্যবসা বাণিজ্য, শিল্পায়ন ও পর্যটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শুধু চট্টগ্রামেই নয়, দক্ষিণ চট্টগ্রাম থেকে শুরু করে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকার সার্বিক উন্নয়নেও এ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
এর সাথে কর্ণফুলীর টানেল এবং আউটার রিং রোড যুক্ত হবে বলে উল্লেখ করেন প্রকল্প পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজুর রহমান।

x