এলএনজি সরবরাহ ২২ জুন থেকে

সংশ্লিষ্টদের দক্ষতা উন্নয়নে আজ ওয়ার্কশপ

হাসান আকবর

বৃহস্পতিবার , ১৪ জুন, ২০১৮ at ৪:৪৬ পূর্বাহ্ণ
64

বহুল প্রত্যাশার এলএনজি সরবরাহের সব আয়োজন অবশেষে চূড়ান্ত হয়েছে। এরমধ্যে সাব মেরিন পাইপলাইন পুরোপুরি ঠিক হয়ে গেছে। আগামী ২২ জুন থেকে দেশে এলএনজি সরবরাহ শুরু হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের দক্ষতা উন্নয়নে আজ ঢাকায় উচ্চ পর্যায়ের কমিশনিং ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হবে। নতুন পদ্ধতির এ গ্যাস সরবরাহের নানা ধাপের সাথে সংশ্লিষ্টদের পরিচিত ও অভিজ্ঞ করতে উক্ত ওয়ার্কশপের আয়োজন করা হয়।

সূত্র বলেছে, ইতোমধ্যে মহেশখালীতে পুরোপুরি প্রস্তুত ভাসমান টার্মিনাল। গত ২৫ এপ্রিল দেশে এলএনজি সরবরাহ দেয়ার দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয়েছিল। কথা ছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এলএনজি সরবরাহ উদ্বোধন করবেন। এলএনজি সরবরাহের সবকিছু ঠিকঠাক করা হয়। বেলজিয়ামের পতাকাবাহী এমটি এক্সিলেন্স নামের একটি জাহাজ ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি নিয়ে কাতার থেকে মহেশখালীর অদূরে গভীর সাগরে অবস্থান নেয় গত ২৪ এপ্রিল। এ জাহাজটি এলএনজির ভাসমান টার্মিনাল হিসেবে কাজ করবে। চুক্তি অনুযায়ী জাহাজটি আগামী ১৫ বছর ভাসমান টার্মিনাল হিসেবে অবস্থান করবে। পরবর্তীতে যেসব জাহাজ এলএনজি নিয়ে আসবে সেগুলো এই জাহাজটির পাশেই নোঙর করবে। এ জাহাজেই এলএনজি সরবরাহ করবে এবং এ জাহাজ থেকেই এলএনজি যাবে গ্রাহক পর্যায়ে। পরবর্তীতে বেসরকারি পর্যায়ে আমদানিকৃত এলএনজিও এ টার্মিনাল থেকে খালাস এবং সরবরাহ হবে জানিয়েছিলেন পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আবুল মনসুর মোহাম্মদ ফয়েজ উল্ল্যাহ। সূত্র জানায়, মহেশখালী থেকে আনোয়ারা পর্যন্ত পাইপলাইন তৈরি হয় এপ্রিলের আগে। শুধু চট্টগ্রামে যুক্ত হওয়ার পাইপ লাইনের সমস্যার কারণে গ্যাস সরবরাহ দেয়া সম্ভব হয়নি।

সূত্র বলেছে, মহেশখালি থেকে আনোয়ারা পর্যন্ত ৩০ ইঞ্চি ব্যাসের ৯১ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইনে গ্যাস আসবে চট্টগ্রামে। আনোয়ারা থেকে সীতাকুণ্ড পর্যন্ত ৪২ ইঞ্চি ব্যাসের আরও ৩০ কিলোমিটার পাইপলাইন দিয়ে গ্যাস যুক্ত হবে ন্যাশনাল গ্রিডে। আনোয়ারা থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত পাইপলাইনের সমস্যার কারণে পুরো এলএনজি সরবরাহের কাজ থেমে যায়। অবশেষে সাব মেরিন এ পাইপলাইন ঠিক করা হয়েছে। ইতোমধ্যে পাইপ লাইনের যাবতীয় পরীক্ষা নিরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ২২ জুন থেকে এ লাইন দিয়ে ন্যাশনাল গ্রিডে এলএনজি যুক্ত হবে বলে গতকাল পদস্থ একজন কর্মকর্তা জানান। এ লক্ষ্যে আজ সকাল থেকে ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে দিনব্যাপী এ কমিশনিং ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আবুল মনসুর মোহাম্মদ ফয়েজ উল্ল্যাহ। তিনি বলেন, এলএনজির পুরো বিষয়টি নতুন। আমাদের কারো এ বিষয়ে অভিজ্ঞতা নেই। তাই ভবিষ্যতে গ্যাস সরবরাহ, রক্ষনাবেক্ষণ এবং পরিচালনায় যাতে কোন সমস্যা না হয় সেজন্য বিশেষ এই কমিশনিং ওয়ার্কশপের আয়োজন করা হয়। এক্সিলারেটর এনার্জি বাংলাদেশ লিমিটেডের (ইইবিএল) উক্ত ওয়ার্কশপ পরিচালনা করবে।

অপরদিকে আমদানিকৃত এলএনজির মান নিয়ন্ত্রণে তিনটি টিম কাজ করবে। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী, এলএনজিতে মিথেনের পরিমাণ ৮৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এছাড়া ইথেন ৬ দশমিক ৩২ শতাংশ, প্রপেন ২ দশমিক ১৬ শতাংশ ও বিউটেন ১ দশমিক ১২ শতাংশ। এলএনজি গ্যাসের মান যথাযথ আছে কিনা নিশ্চিত করতে ক্রেতা পেট্রোবাংলার পক্ষে একটি, বিক্রেতা রাশগ্যাসের পক্ষে একটি এবং ক্রেতাবিক্রেতার সমন্বয়ে একটি মিলে মোট তিনটি টিম গঠন করা হয়। সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, শুরুতে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ দেয়া হবে। ক্রমান্বয়ে চাহিদা অনুযায়ী এটি বৃদ্ধি করে প্রতিদিন ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত করা হবে। জাতীয় গ্রিডে এলএনজি যুক্ত হওয়ার সাথে সাথে ঢাকা অঞ্চলের তিতাস গ্যাস, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী গ্যাস এবং কুমিল্লা অঞ্চলের বাখরাবাদ গ্যাসের আওতাধীন ২৩৯০টি শিল্প কারখানায় নতুন গ্যাস সংযোগ দেয়া হবে। সরকার ধাপে ধাপে আগামী অক্টোবরের মধ্যে এসব নয়া গ্যাস সংযোগের কাজ সম্পন্ন করবে। পরবর্তীতে বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের লোড বৃদ্ধির পাশাপাশি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতেও গ্যাস সরবরাহ দেয়া হবে।

x