এমিলি মজুমদার (ফিরে আসুক আনন্দের দিনগুলো)

শুক্রবার , ১২ অক্টোবর, ২০১৮ at ৭:৩৬ পূর্বাহ্ণ
43

আসছে আসছে করে পূজো চলেই এলো , বাঙালি হিন্দুদের সবচাইতে বড় পুজো ‘দুর্গাপূজা’। চারদিকে কত আয়োজন। ঘরে ঘরে উৎসবের আমেজ। চাঁদা তোলার দল নেমে পড়েছে মাঠে। প্যান্ডেল বাধা হচ্ছে পূজোর জায়গাটাতে। মার্কেটগুলোতে হিন্দু সমপ্রদায়ের বেশ ভিড় জমেছে। ছোটবড় সবাই যে যার সামর্থ অনুযায়ী কেনাকাটা করছে। একটা বয়স ছিল যখন শুধু চিন্তা ছিল নিজেকে কিভাবে সাজাবো, কি জামা পড়বো, কোনদিন শাড়ি পরবো, কি গয়না পরবো ইত্যাদি ইত্যাদি। পরবর্তীতে দায়িত্ব বাড়ে, ভাবতে হয় কাকে কি দেয়া যায়, আর এ দেয়ার মাঝে লুকিয়ে থাকে অপার আনন্দ। মেয়েরা বাবার বাড়ি আসার জন্য দিন গুণছে। মায়েরা মেয়ে আসবে বলে মেয়ে জামাই, নাতী-নাতনীদের আপ্যায়নের ব্যবস্থা করছে- সারা বছর হয়তো মা-বাবা ছেলেমেয়ে নাতী নাতনীর সাথে মিলিত হবে বলে এ দিনটার অপেক্ষায় আছে। যারা বাইরে থাকে , তাদের তো অনেক আগে থেকে প্ল্যান করতে হয় , শুরু হয় দিন গোনা মিলনের দিনটির জন্য। আসলে পুজো বলি, ঈদ বলি এগুলো আসলে এক একটা উপলক্ষ, যাতে করে পরিবারের সবাই (যতটা সম্ভব) মিলিত হতে পারে। সবাই যদি এক হতে পারে, তবেই এ মিলন পরিণত হয় আনন্দ মেলায়। উৎসব যত বড়ই হোক না কেনো, আপনজনদের ছাড়া যা কোন উৎসবের দিনই-আনন্দের হতে পারে না, তখন তা তাদের জন্য অশ্রুবিসর্জনের দিনে পরিণত হয় -ছেলেমেয়েরা যখন বড় হয়, তখন লেখাপড়া বা কর্মক্ষেত্র দূরে হওয়ার কারণে তাদের অনেককে মা-বাবার কাছ থেকে দূরে থাকতে হয়। অন্যদিকে বিয়ের পর যত দিন যায়, ছেলেমেয়েরা স্ব স্ব জীবনে, কর্মক্ষেত্র /সংসার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। অন্তত এসব উপলক্ষ উপলক্ষে আমরা একে অপরের কাছাকাছি আসার চেষ্টা করি। একবছর আসতে না পারলে, পরের বছর যাবো এই ভেবে আমরা আমাদের মনকে প্রবোধ দেই। এসমস্ত উৎসবের দিনগুলোতে, শুধু তিন-চারদিন একসাথে থাকবে বলে কতই না কষ্ট করে অনেককে আসতে হয়। মায়েরা একটু একটু করে গুছিয়ে রাখে সব-অনেকদিন অব্যবহৃত বিছানা বালিশ গুলো রোদে দিয়ে ঠিক করে রাখা হয়। কি রান্না হবে, খোকা কি পছন্দ করে, মেয়েটা সারাবছর সংসারের কাজে অনেক কষ্ট করে, কিভাবে তাকে ক’টা দিন একটু বিশ্রাম দেয়া যায়, নাতী নাতনীদের জন্য কি রান্না হবে, কি কেনাকাটা হবে ইত্যাদি ভেবে আনন্দে অপেক্ষার দিনগুলো ব্যস্ততার মাঝে কাটাতে থাকে মা। ক্লান্তিহীন এ ব্যস্ততা। মিলনের আনন্দ সমস্ত ক্লান্তি দূর করে দেয় আমাদের। তবুও আগত মিলনের আনন্দে আমরা সব কষ্ট ভুলে যাই। দেখতে দেখতে অপেক্ষার পালা শেষ করে এগিয়ে আসে উৎসবের দিন। বেজে ওঠে ঢোল, নেচে ওঠে মন ঢোলের তালে। মেতে উঠি সবাই হাসি আনন্দে। ঘরে ঘরে বার বার ফিরে আসুক এ আনন্দের দিনগুলো ।

x