এবার বশিরসহ ৮ আসামির বিরুদ্ধে ফ্রেশ ওয়ারেন্ট

আওয়ামী লীগ নেতা আমজাদ চেয়ারম্যান হত্যা

সবুর শুভ

শনিবার , ২৬ জানুয়ারি, ২০১৯ at ৫:১৬ পূর্বাহ্ণ
360

সাতকানিয়ায় ২০ বছর আগে সংঘটিত আওয়ামী লীগ নেতা চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন হত্যা মামলায় আবারও ফ্রেশ ওয়ারেন্ট (নতুন পরোয়ানা) দিলেন আদালত। এবার আলোচিত বশির আহমদসহ ৮ ‘ফেরারি’ আসামির বিরুদ্ধে ফ্রেশ ওয়ারেন্ট’ জারি করলেন আদালতের বিচারক। বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে ৬ষ্ঠ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক এ আদেশ দেন। মামলাটির কার্যক্রম এখন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন পর্যায়ে রয়েছে। এর আগে গত বছরের ৭ জুন রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে ৬ষ্ঠ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আরো একবার ফ্রেশ ওয়ারেন্ট জারি করার আদেশ দিয়েছিলেন। ওই সময় বশির আহমদসহ ৯ আসামির বিরুদ্ধে ফ্রেশ ওয়ারেন্ট দিয়েছিলেন। ওয়ারেন্টভুক্ত ৯ আসামির মধ্যে একজন আদালত থেকে জামিনে থাকলেও বাকি ৮ জন পলাতক রয়েছেন।
বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট এসইউএম নুরুল ইসলাম বলেন, আসামিরা এলাকা থেকে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশ নিলেও তাদের বিরুদ্ধে থাকা ওয়ারেন্ট তামিল হয় না। নিরুপায় হয়ে আমরা আসামিদের গ্রেপ্তারে আবারও আদালতের শরণাপন্ন হয়ে ফ্র্রেশ ওয়ারেন্টের আবেদন জানাই। এ নিয়ে আদালতে শুনানি শেষে বিচারক গত ২০ জানুয়ারি বশিরসহ ৮ আসামির বিরুদ্ধে এ পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। এর আগে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হুমায়ুন বাদশার আবেদনের প্রেক্ষিতে গত বছরের ৭ জুন বশিরসহ ৯ আসামির বিরুদ্ধে ফ্রেশ ওয়ারেন্ট জারি করার আদেশ দিয়েছিলেন একই আদালতের বিচারক। এদিকে গত ৭ জুন ছিল এ মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন। কিন্তু নিয়মিত বিচারক না থাকায় দেউলিয়া আদালতের বিচারক ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এরপর আরো কয়েকটি
ধার্য তারিখ অতিবাহিত হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ৯ আসামির বিরুদ্ধে জারি করা ফ্রেশ ওয়ারেন্ট তামিল হয় না। অবশ্য এর মধ্যে আসামি মোহাম্মদ ইদ্রিস (মোহাম্মদ ইব্রাহিমের ছেলে) পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে আদালত থেকে জামিন নেন। ঝুলে থাকে আরো ৮ পরোয়ানাভুক্ত আসামির গ্রেপ্তার প্রক্রিয়া। দীর্ঘ দিনেও এ ৮ জনকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় না আনায় ২০ জানুয়ারি তাদের বিরুদ্ধে আবারো ফ্রেশ ওয়ারেন্ট দিলেন আদালতের বিচারক।
শুধু ফ্রেশ ওয়ারেন্ট নয়, এসব আসামির বিরুদ্ধে আদালতের তরফে আগেও সাধারণ ওয়ারেন্ট ছিল। ৮ আসামির অধিকাংশ ২০০০ সালের পর থেকেই পলাতক।
এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট এসইউএম নুরুল ইসলাম বলেন, বশির আহমদ ডাকাতি, হত্যা, অপহরণ ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন মামলার আসামি। এলাকায় বেশ দাপটের সাথে তার বিচরণ। ওয়ারেন্ট নিয়ে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে উপস্থিতির ‘ছবি’ থেকে এটা নিশ্চিত হওয়া যায়।
বিচারিক আদালত থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মামলার মোট ২০ আসামির মধ্যে ১২ জন জামিনে রয়েছে। ১৯৯৯ সালের ৪ অক্টোবর রাত ১২টায় সাতকানিয়া থানার মির্জাখীল বাংলাবাজার এলাকার একটি চায়ের দোকানে বসে কথা বলার সময় আওয়ামী লীগ নেতা ও সাতকানিয়া উপজেলার সোনাকানিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেনকে গুলি করে হত্যা করে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি বশির আহমদ। বশিরের অপকর্মের প্রতিবাদ করার কারণেই এই জনপ্রতিনিধির করুণ পরিণতি হয় বলে জানান আমজাদ হোসেনের স্ত্রী সৈয়দা রওশন আক্তার।
হত্যাকাণ্ডের পর ২০ জনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন তার স্ত্রী। মামলাটির দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র আসে ২০০০ সালের ২২ ডিসেম্বর। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নেজাম উদ্দিন, মোহাম্মদ ইদ্রিছ, মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান চৌধুরী, আবু মোহাম্মদ রাশেদ, মোস্তাক আহম্মদ, হারুনুর রশিদ, জাহেদ, ইমতিয়াজ প্রকাশ মানিক, জিল্লুর রহমান, বশির আহমদ, মোহাম্মদ ইদ্রিস, তারেক, আইউব, ফারুক, মোহাম্মদ মোরশেদুল আলম, তাহের, নাছির উদ্দিন, আবদুল মালেক ও জসিম উদ্দিন।
এ মামলায় অভিযোগ গঠনের পর এ নিয়ে দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালসহ মোট তিনটি আদালতে বিচারকাজ পরিচালিত হয়েছে। বর্তমানে ৬ষ্ঠ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারকাজ চলছে। গত ২০ বছর ধরে আলোচিত এ মামলাটি বিচারের পথেই হাঁটছে কেবল। এখনো যুক্তিতর্ক পর্বেই রয়েছে।
এ বিষয়ে মামলার বাদী জানান, হত্যাকাণ্ডের পর ২০ বছর পেরিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু অপরাধীদের বিচারকাজ এখনো সুদূর পরাহত। তার ওপর মামলায় ৮ আসামি পলাতক রয়েছে। ‘সাধারণ ওয়ারেন্ট তো’ বটেই, দফায় দফায় ফ্রেশ ওয়ারেন্টেও কাজ হচ্ছে না।

x