এবার তিনটি ভিডিও ক্লিপস, আবার আলোচনায় রনি

আজাদী প্রতিবেদন

বৃহস্পতিবার , ১২ জুলাই, ২০১৮ at ৬:২৪ পূর্বাহ্ণ
918

এবার তিনটি ভিডিও ক্লিপস। আবার আলোচনায় সদ্য পদত্যাগকারী ছাত্রনেতা নুরুল আজিম রনি ও কোচিং সেন্টার মালিক রাশেদ মিয়া। এবার রনির বিরুদ্ধে রাশেদ এবং তার ছাত্রকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে স্ট্যাম্পে সাইন নেওয়া ও মামলা প্রত্যাহারের হুমকির অভিযোগ। তবে রনির দাবি, স্বেচ্ছায় এ নাটক তৈরির মাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে নতুন ষড়যন্ত্র করছেন তিনি। তা না হলে আমার পাওনা টাকা না দেওয়ার জন্য যিনি এত কিছু করেছেন, তিনি আবার স্বেচ্ছায় টাকা ফিরিয়ে দিতে চাইছেনএটা অবাক করার মতো ঘটনা।

প্রসঙ্গত, মাস তিনেক আগে একটি কোচিং সেন্টারের মালিক মো. রাশেদ মিয়াকে চড় মারার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সংগঠন থেকে অব্যাহতি নিয়েছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি। ওই ঘটনায় দায়ের হওয়া চাঁদাবাজির মামলায় আসামি করা হয় রনিকে। তিন মাস পর এবার ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া আরেকটি ভিডিও বার্তায় দেখা যাচ্ছে, রাশেদ নিজের মুখে স্বীকার করছেন যে, রনি তার ব্যবসায়িক পার্টনার ছিলেন। রনি তাকে সাড়ে ৯ লাখ টাকা ধার দিয়েছিলেন।

গতকাল বুধবার বিকাল সোয়া ৪টার দিকে রনির ফেসবুক টাইমলাইনে আপলোড করা হয় তিনটি ভিডিও ক্লিপস। এতে দেখা যায়, চসিক তিন নম্বর পাঁচলাইশ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কফিল উদ্দিনকেও রাশেদের সঙ্গে এই বিষয়ে সমঝোতামূলক কথা বলতে দেখা গেছে।

তবে এই ভিডিও আপলোডের পর রাশেদ মিয়া দাবি করেছেন, রনির অনুসারীরা এক ছাত্রসহ তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে এই বক্তব্য প্রদানে বাধ্য করেছেন। এমনকি রনির বিরুদ্ধে তার দায়ের করা মামলাটি তুলে নেওয়া হবে মর্মে তিনটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করতেও বাধ্য করেছেন।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ইউনিএইড কোচিং সেন্টারের মালিক রাশেদ মিয়াকে নগরীর জিইসি মোড়ে তার অফিসে মারধরের একটি ভিডিও ১৯ এপ্রিল ফেসবুকে ভাইরাল হয়। তিন মাস পর রনির আপলোড করা ভিডিও বার্তায় রাশেদের সঙ্গে কথোপকথনে শোনা গেছে, রনি তার পার্টনার ছিলেন। রাশেদ রনির কাছ থেকে নগদ সাড়ে নয় লাখ টাকা নিয়েছিলেন। তবে সেই টাকা দিয়ে ব্যবসা করতে পারেননি রাশেদ। পরে রনি কিছু টাকা ফেরত চান। রাশেদ টাকা দিতে না পারলে পুরো টাকাই ফেরত চান রনি। কাউন্সিলর কফিল উদ্দিনের বাসায়ও রাশেদের সঙ্গে রনির বিষয়ে কথোপকথনের ভিডিও পাওয়া গেছে রনির টাইমালাইনে।

রাশেদ মিয়া বলেন, আমি এবং আমার এক ছাত্রকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুলের সামনে থেকে রনির ৮ থেকে ১০ জন ছেলে চারটি মোটর সাইকেলে এসে তুলে নেয়। প্রথমে আমাদের মুরাদপুরে বাদশাহ কমিউনিটি সেন্টারে নিয়ে যায়। সেখান থেকে পাঁচলাইশ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কফিল উদ্দিনের বাসায় নিয়ে যায়। আমাকে চাপ প্রয়োগ করে ১০০ টাকার তিনটি স্ট্যাম্পে মামলা প্রত্যাহারের কথা লিখে দিতে বাধ্য করে। এ সময় আমি ভয়ে কিছু কথা বলি, যেগুলো তারা ভিডিও করে ফেসবুকে প্রচার করছে।

রাশেদের অভিযোগ, রনির অনুসারীরা কাউন্সিলরের বাসায় তার সঙ্গে রনির মোবাইল ফোনে কথা বলার ব্যবস্থা করে দেন। এ সময় রনি তাকে গালাগাল করে মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দেন।

নুরুল আজিম রনি মোবাইল ফোনে রাশেদের সঙ্গে কথা বলার বিষয়টি স্বীকার করলেও কোনো ধরনের গালাগাল কিংবা হুমকি দেননি বলে জানান। তিনি বলেন, রাশেদ আমার কয়েকজন ছোট ভাইকে ফোন করে মামলা তুলে নেবেন বলেছিলেন। তার পছন্দ অনুযায়ী কাউন্সিলর কফিল ভাইয়ের বাসায় বৈঠক হয়। সেখানে যাওয়ার পর আমি বিষয়টি জানতে পারি। সেখান থেকে ফোনে রাশেদ আমাকে বলেছেন তিনি বিরোধের মিটাতে চান ও মামলা প্রত্যাহার করতে চান।

x