এবার তদন্ত করবে বিএমডিসি

রাইফার মৃত্যু, আজ শৃঙ্খলা কমিটির বৈঠক, দোষী প্রমাণিত হলে নিজস্ব আইনের আলোকে ব্যবস্থা, নতুন করে তদন্তের বিষয়ে নানা প্রশ্ন

মোরশেদ তালুকদার

বৃহস্পতিবার , ১২ জুলাই, ২০১৮ at ৬:৩১ পূর্বাহ্ণ
499

চিকিৎসকের অবহেলায়’ আড়াই বছরের শিশুকন্যা রাফিদা খান রাইফার মৃত্যুর বিষয়টি আবারো তদন্ত হবে। এবার তদন্ত করবে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)। এ লক্ষ্যে আজ বৈঠকে বসবেন বিএমডিসি’র শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা। এতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। ওই কমিটি রাইফার মৃত্যুর পিছনে ‘ভুল চিকিৎসা’, ‘চিকিৎসকের অবহেলা’ বা ‘ম্যাক্স হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতি’ ছিল কী না তা খতিয়ে দেখবে। পরবর্তীতে বিএমডিসি’র নির্বাহী কমিটির কাছে তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরণ করবেন। ওই প্রতিবেদনে দোষী প্রমাণিত হলেই কেবল দোষী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে সংস্থাটির নিজস্ব আইনের আলোকে ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিএমডিসি’র সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লা দৈনিক আজাদীকে বিষয়গুলো নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে নগরীর ম্যাক্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আড়াই বছরের শিশু রাইফার মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত পৃথক দুটি তদন্ত কমিটিই ‘অবহেলা’র প্রমাণ পায়। কমিটির সদস্যরা তাদের প্রতিবেদনে ‘অভিযুক্ত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ’ এবং ‘হাসপাতালটির ত্রুটি সংশোধন’র সুপারিশও করেছিল। ওই দুটি প্রতিবেদনের আলোকে দোষী চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গত মঙ্গলবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় চিঠি পাঠায় বিএমডিসিকে। মূলত, এ চিঠির আলোকেই রাইফার মৃত্যুর বিষয়টি আবারো তদন্তের উদ্যোগ নেয় বিএমডিসি। এর আগে গত সোমবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম রাইফার মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংগঠনটিকে নির্দেশ দিয়েছিলেন।

এদিকে বিএমডিসি’র নতুন করে তদন্তের বিষয়েও আছে নানা প্রশ্ন। এইক্ষেত্রে বলা হচ্ছে, বিএমডিসি কর্তৃক নতুন করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হলে পূর্বের তদন্তগুলো কি লোক দেখানো? ওই দুই কমিটির তদন্তের আলোকে ব্যবস্থা নিতে প্রতিবন্ধকতাই বা কোথায়? যদি ব্যবস্থা নিতে আপত্তিই থাকে সেক্ষেত্রে তদন্ত করারই বা প্রয়োজন কী ছিল। অবশ্য ওই প্রতিবেদনের আলোকে ইতোমধ্যে ম্যাঙ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রাইফার মত্যুর দিন শিশু ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালনকারী চিকিৎসক ডা. দেবাশীষ সেন গুপ্ত ও ডা. শুভ্র দেবকে চাকরিচ্যুত করেছে। কিন্তু সেটা নিয়েও আছে প্রশ্ন। কারণ ইতোপূর্বে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তদন্তে উঠে এসেছে, ম্যাঙ হাসপাতালে দায়িত্ব পালনকারী চিকিৎসক ও নার্সদের নিয়োগ পত্র নেই। তাই যাদের নিয়োগপত্র নেই তাদের চাকরিচ্যুত কিভাবে হয় সেই প্রশ্ন আছে? এর আগে দু’টি তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশের পর বিএমডিসি’র পক্ষে বলা হয়েছিল, ‘কোন অভিযোগ না পেলে ব্যবস্থা নিতে পারে না বিএমডিসি।’

কারণ, এর আগে শিশু রাইফার মৃত্যুর ঘটনাটি তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া এবং ম্যাঙ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে সোচ্চার ছিলেন চট্টগ্রামসহ সারাদেশের বেশির ভাগ সাংবাদিক। চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের আহূত কর্মসূচিগুলোতে অংশ নিয়েছিলেন সাধারণ লোকজনও। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দেয়ার পর সাধারণ লোকজন ধরে নিয়েছিলেন, ‘দুটি তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকেই অবহেলায় জড়িত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে চিকিৎসকদের সংগঠন বিএমএ।’ কারণ এর আগে তদন্তে অভিযোগ প্রমাণ হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন বিএমএ চট্টগ্রাম শাখার নেতৃবৃন্দ। কিন্তু গত ৬ জুলাই তদন্ত রির্পোট প্রকাশ হওয়ার হওয়ার পর বিএমএ চট্টগ্রাম শাখা বলেছিল, ‘যেসব চিকিৎসককে অবহেলার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে বিএমডিসি’র বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বিএমডিসি’র ডিসিপ্লিনারি শাখায় প্রেরণ করা হবে।’

এর আগে গত ৬ জুলাই বিএমএ চট্টগ্রাম শাখা ও সাংবাদিকদের সমঝোতায় চট্টগ্রামের সিভিল সার্জনের নেতৃত্ব তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. বিধান রায় চৌধুরী শিশুটিকে যথেষ্ট সময় ও মনোযোগ সহকারে পরীক্ষা করে দেখেননি। ডা. দেবাশীষ সেন গুপ্ত ও ডা. শুভ্র দেব শিশুটির রোগ জটিলতার বিপদকালীন আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা প্রদান করেননি বলে শিশুর পিতামাতা অভিযোগ উত্থাপন করেছেন, যা এই তিন চিকিৎসকের বেলায় সত্য বলে প্রতীয়মান হয়।’

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ‘হাসপাতালে রোগী ভর্তি প্রক্রিয়ায় ভোগান্তি প্রকট। চিকিৎসক নার্সদের সেবা প্রদানের সমন্বয়হীনতা ও চিকিৎসাকালীন মনিটরিংয়ের অভাব দেখা যায়। অদক্ষ নার্স ও অনভিজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগের ফলে কাঙ্খিত চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা অনেক দুর্বল রয়েছে, বিশেষত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা সেবায় বিশেষজ্ঞের সার্বক্ষণিক উপস্থিতির সংকটটি প্রবল।’

এদিকে নতুন করে তদন্ত হওয়া প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হাসান ফেরদৌস দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘সরকারি তদন্ত কমিটি যে তদন্ত করেছে তারা নিরপেক্ষভাবে নিশ্চয়ই করেছে। তাদের মধ্যে কোন পক্ষপাতমূলক কিছু ছিল না বলে আমরা মনে করি। এখন যদি অন্য কিছু করা হয় বা বলা হয়, বা তাদের আলোচনায় (বিএমডিসি নেতৃবৃন্দের) আমাদের যেটা মনে হয়েছে, বিএমডিসি’র কতিপয় ব্যক্তি পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন। এর আগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হাসপাতাল শাখার পরিচালক তদন্ত করেছেন। তারাও ম্যাঙ হাসপাতালে বিভিন্ন অনিয়ম পেয়েছেন। তারা বলেছেন, হাসপাতালটিতে যে ডাক্তারনার্স আছেন তাদের নিয়োগপত্র নাই। এখন তাদের নিয়োগপত্রই যদি না থাকে তাহলে তারা হাসপাতালে কিভাবে আরেকজনকে চিকিৎসা দিয়েছেন। সুতরাং বিষয়টি আমাদের কাছে রহস্যজনক মনে হচ্ছে। তবে আমরা চাই, ন্যায় বিচারের স্বার্থে তারা সঠিক দায়িত্ব পালন করবেন।’

দুটি তদন্ত কমিটিই প্রমাণ পেয়েছে চিকিৎসকের অবহেলায় রাইফার মৃত্যু হয়েছে। তবুও দোষী চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নয় কেন? এ বিষয়ে দৈনিক আজাদীর কথা হয় ‘বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লা’র সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বিএমডিসি স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান। পার্লামেন্টের আইন দ্বারা গঠিত আমাদের কিছু কমিটি আছে, যার একটি শৃঙ্খলা কমিটি। এই কমিটির আবার নীতিমালা আছে, কিভাবে কাজ করবে। সেই নীতিমালা অনুযায়ী, কেউ যদি সংক্ষুব্ধ হয়ে অভিযোগ করেন অথবা মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয় তখন তা তদন্তে কমিটি গঠন করে শৃঙ্খলা কমিটি। কমিটি আবার তা চুলচেরা বিশ্লেষণ করে, সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলে রিপোর্ট দিবেন নির্বাহী কমিটির কাছে। ওই রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হয়। তদন্তে কোন ডাক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার আলোকে ব্যবস্থা নেয়া হয়। এখন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে গতকাল (মঙ্গলবার) আমাদেরকে চিঠি দিয়ে দুটি তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে ব্যবস্থা নিতে বলা হযেছে। এর আলোকে আগামীকাল (আজ বৃহস্পতিবার) শৃঙ্খলা কমিটি বৈঠক করবে। বৈঠকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তারা সবার সঙ্গে কথা বলে তদন্ত করবেন। তদন্তে দোষী প্রমাাণিত হলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

অতীতে বিএমডিসি’র তদন্তের আলোকে কোন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কী না’ জানতে চাইলে অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লা বলেন, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই আছে। গত একবছরে দুইজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। এর মধ্যে একজন শল্য চিকিৎসক এবং অপরজন একজন গাইনী চিকিৎসক রয়েছেন। যাদের লাইসেন্স আমরা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছি। বিএমডিসি’র এ সভাপতি বলেন, ‘আগে অভিযোগ কম পাওয়া যেত, এখন বাড়ছে।’

বিএমডিসি’র কাছে ক্ষতিগ্রস্থ রোগী বা তার স্বজনদের অভিযোগ করার সুযোগ আছে। এ বিষয়টি খুব কমসংখ্যক মানুষ জানেন। বিএমডিসি’র কাছে গেলেই সুফল পাবেন, এ বিষয়টি জানানোর জন্য বিএমডিসি’র কোন উদ্যোগ ছিল কী না জানতে চাইলে সংগঠনটির সভাপতি বলেন, ‘দুই দফা পত্রিকায় বড় বড় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আমরা জনগণকে আহ্বান জানিয়েছিলাম। সেখানে আমরা বলেছিলাম, কোন ডাক্তারের অবহেলা থাকলে সেটা আমাদের জানানোর জন্য। আসলে সরকারি হাসপাতালগুলোতে যদি এ বিষয়ে নোটিশ দেয়া হত তাহলে মানুষ আরো বেশি জানতেন। এ বিষয়েও আমরা সরকারের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্তদেরও বলেছি, তারা যেন নোটিশ লাগান। আর আপনারাও (সাংবাদিকরা) লিখবেন, ডাক্তারদের অবহেলা নিয়ে কারো যদি কোন অভিযোগ থাকে তাহলে যেন আমাদের কাছে (বিএমডিসি) অভিযোগ দেন।’

দুটি তদন্ত প্রতিবেদনে চিকিসকের অবহেলার বিষয়টি উঠে এসেছে। তবু নতুন করে তদন্ত হওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে টিআইবি’র সাধারণ পর্ষদ সদস্য প্রকৌশলী মো. দেলোয়ার হোসেন মজুমদার দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘ডাক্তারদের জন্য বিএমডিসি, সাংবাদিকদের জন্য প্রেস কাউন্সিল এবং আইনজীবীদের জন্য আছে বার কাউন্সিল। এই কাউন্সিলগুলোর কাজ হচ্ছে রেগুলেটরিং। পেশাগত অসদাচারণ বা এই জাতীয় কোন কিছু ঘটলে তা তাদের নিয়ন্ত্রণ করার কথা। কিন্তু ইদানিং এই সংগঠনগুলোকে দেখা যাচ্ছে নিরপেক্ষ থেকে তারা দায়িত্বগুলো পালন করছে না। জনগণের কাছে তারা তাদের নিরপেক্ষতা দৃশ্যমান করতে পারছে না। জনগণের কাছে মনে হচ্ছে, এই সংগঠনগুলো তাদের পেশাজীবীদের প্রতি পক্ষপাত করছে। এই সংগঠনগুলো করা হয়েছে তাদের পেশাজীবীদের উপর যেন কোন অন্যায় করা না হয়, যদি এই সংগঠনগুলো পেশাজীবীদের অন্যায়কে আড়াল করে তখন দাবি উঠবে ওই সংগঠনগুলোকে বিলুপ্ত করার জন্য। যে কোন সংগঠনের দায়িত্ব হচ্ছে জনগণ যদি ‘সাফার’ করে, জনগণ যদি ক্ষতিগ্রস্থ হয়, সেই ক্ষতিগ্রস্থ জনগণকে নিরাপত্তা দেয়াটাই এই সংগঠনগুলোর প্রধান দায়িত্ব। দ্বিতীয় দায়িত্ব হচ্ছে, একজন পেশাজীবী দায়িত্ব পালনে যেন ক্ষতিগ্রস্থ না হয়, তার দায়িত্ব পালনে যেন অনুকূল পরিবেশ নষ্ট না হয়। একইসময়ে একজন পেশাজীবী যখন অন্যায় করেন সেই অন্যায়ের প্রতিবিধান করাটাও তাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। কিন্তু এই সংগঠনগুলোর গণমুখী ভূমিকা দৃশ্যমান নয়। রাইফার মৃত্যুকে ঘিরেও এই সংগঠনগুলোর গণমুখী ভূমিকা দেখতে পাচ্ছি না। পেশাজীবী সংগঠন, রেগুলেটরি কাউন্সিল সবার ক্ষেত্রেই আমার এই বক্তব্য প্রযোজ্য। তারা গণমুখী অবস্থান নিচ্ছে না বরং কোন ক্ষেত্রে দুর্বৃত্তায়নকে সহযোগিতা করছে।’

প্রসঙ্গত, সাংবাদিক রুবেল খান তার শিশুকন্যা রাইফার গলায় ব্যথা হলে গত ২৮ জুন বৃহস্পতিবার বিকালে নগরীর ম্যাঙ হাসপাতালে ভর্তি করান। ২৯ জুন রাতে তার মৃত্যু ঘটে। নিহত শিশুর পরিবার ও সাংবাদিকরা এই মৃত্যুর জন্য কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের অবহেলাকে কারণ দেখিয়ে তাদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন ওই রাতেই। তখন পুলিশ ওই হাসপাতালের ডিউটি চিকিৎসক ও নার্সকে থানায় নিয়ে গেলেও বিএমএর চট্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. ফয়সাল ইকবাল গিয়ে তাদের ছাড়িয়ে আনেন। এসময় ডা. ফয়সাল ইকবাল ‘সাংবাদিকদের ছেলেমেয়ের চিকিৎসা করাবেন না এবং এক ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রামের হাসপাতালক্লিনিক বন্ধ করার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন সাংবাদিকরা। যদিও বিএমএ’র পক্ষে তা অস্বীকার করা হয়। এ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই তিন দফা দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে সাংবাদিক ইউনিয়ন। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও উপজেলা পর্যায়ের সাংবাদিকরা কর্মসূচি পালন করে। সর্বশেষ গত ৮ জুলাই ম্যাঙ হাসপাতালে অভিযান চালায় র‌্যাব। এর প্রতিবাদে ওই দিনই অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট আহ্বান করে চিকিৎসা বন্ধ করে দেয়া হয় বেসরকারি হাসপাতালক্লিনিকে। এতে ভোগান্তি বাড়ে রোগীদের। অবশ্য পরদিন দুপুর ১২টার দিকে ওই ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়। এদিকে গতকাল সাংবাদিকরা কালোব্যাজ ধারণ করেন।

উল্লেখ্য, গত সোমবার চুয়াডাঙ্গায় ভুল চিকিৎসা নিয়ে একটি রিট আবেদনের শুনানিতে চট্টগ্রামে চিকিৎসকদের ধর্মঘট ডাকা প্রসঙ্গে হাইকোর্ট বলেছে, ‘চিকিৎসকদের হরতাল ডাকা অন্যায়। তারা দেবতা নন। ভুল হবে সেটা স্বাভাবিক। ভুলটা অন্যায় নয়। কিন্তু ভুলটা জাস্টিফায়েড করার জন্য হরতাল ডাকা হলে সেটা অন্যায়।’ বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব মন্তব্য করেন।

ওইদিন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ডা. আবুল কালাম আজাদের বক্তব্য শুনতে চান আদালত। শুরুতে একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত খবর আবুল কালাম আজাদকে দেখিয়ে আদালত বলেন, ‘চট্টগ্রামে যা (চট্টগ্রামে বেসরকারি হাসপাতালক্লিনিক মালিকদের চিকিৎসাসেবা বন্ধের ঘোষণা) হয়েছে, সেটি দুঃখজনক। আজকের (৯ জুলাই) মামলার সঙ্গে এটি সম্পর্কিত নয়। যেহেতু আপনি (স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক) আছেন তাই বলছি, মানুষ বিপদে পড়লে তিন পেশার লোকের কাছে যায়পুলিশ, আইনজীবী এবং ডাক্তার। তিনটি পেশা যদি কিছু কিছু দুর্বৃত্তের কারণে ধ্বংস হয়, তবে মানুষ বিপদে পড়বে। মেয়েটাকে (চট্টগ্রামের রাফিদা খান রাইফা) তো ফিরিয়ে আনা যাবে না।’

x