এবার ইয়াবা ডন সাইফুলের স্ত্রী সন্তানের সম্পদের খোঁজে দুদক

সরকারি ৭ সংস্থাকে চিঠি

ইকবাল হোসেন

বৃহস্পতিবার , ১১ জুলাই, ২০১৯ at ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ
318

ক্রসফায়ারে নিহত দেশের শীর্ষ ইয়াবা ডন সাইফুল করিমের স্ত্রী সন্তানের নামে থাকা সম্পদ অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সাইফুল করিমের স্ত্রী ও চার সন্তানের সম্পদের খোঁজে ইতোমধ্যে সরকারি ৭ সংস্থাকে চিঠি দিয়েছে দুদক।
জানা যায়, আলোচিত ‘ইয়াবা ডন’ সাইফুল করিম (৪৫) মায়ানমার থেকে বাংলাদেশে ইয়াবা পাচারের মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত হয়। ইয়াবা ব্যবসায়ে ফুলে ফেঁপে উঠে তার সম্পদ। দেশের শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী হলেও প্রথম দিকে সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী হিসেবে নিজেকে পরিচিত করান। নানান কৌশলে সরকারিভাবে বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির স্বীকৃতিও পান। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে নাম প্রকাশ পায় সাইফুলের। ২০১৮ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশ করা ১১৫১ জনের মাদক ব্যবসায়ীর তালিকার এক নম্বরে ছিল সাইফুল করিমের নাম।
এরপরই গা-ঢাকা দেন সাইফুল। অবস্থান নেন দুবাইয়ে। এরমধ্যে চলতি বছরের শুরুতে টেকনাফের ইয়াবা ব্যবসায়ীদের অনেকে স্ব-উদ্যোগে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেয়। শুরুতেই আত্মসমর্পণের জন্য পুলিশী হেফাজতে থাকা মাদক ব্যবসায়ীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে কক্সবাজার জেলা পুলিশ ২৫২ জন ইয়াবা ব্যবসায়ীর তালিকা চূড়ান্ত করে। তারমধ্যে শীর্ষ ৫০ ইয়াবা ব্যবসায়ী পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন সময়ে কোটি কোটি টাকার ইয়াবার চালান দেশে নিয়ে আসলেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘোষিত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকায় তাদের নাম ছিল না। অনেকের বিরুদ্ধে মাদকের কোনো মামলাও ছিল না। চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে ইয়াবা ও অস্ত্র জমা দিয়ে টেকনাফের তালিকাভুক্ত ১০২ ইয়াবা ব্যবসায়ী আত্মসমর্পন করেন। তন্মধ্যে টেকনাফের সাবেক এমপি বদির ৩ ভাই, ভাগিনা, ফুফাতো ভাইও আত্মসমর্পণ করেন। এরপরই আত্মসমর্পনের পথ খুঁজেন ইয়াবা ডন সাইফুল। দুবাইয়ে অবস্থান করে চট্টগ্রামের এক মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে আত্মসমর্পনের সিদ্ধান্ত নেন সাইফুল। সে অনুযায়ী দুবাই থেকে দেশে ফিরে আসেন তিনি। কিন্তু আত্মসমর্পন প্রক্রিয়ার আগেই গত ৩০ মে নাফ নদীর পাড়ে টেকনাফ স্থলবন্দরের পাশে পুলিশের সাথে কথিত ক্রসফায়ারে নিহত হন তিনি।
এর আগে গত ৩০ এপ্রিল অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে সাইফুল করিমের বিরুদ্ধে নগরীর ডবলমুরিং থানায় মামলা দায়ের করে দুদক। মামলায় সাইফুল করিমের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৬৬ লাখ ৫ হাজার ৭৮৮ টাকা জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়।
এদিকে সাইফুল নিহত হওয়ার পর নামে বেনামে তার রেখে যাওয়া সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। ইতোমধ্যে তার স্ত্রী হামিদা বেগম, দুই মেয়ে মোতাহারা পারভিন নাঈমা ও মুনতাহা পারভীন, দুই ছেলে নাঈমুল হানিফ ও নাজমুল হানিফের নামে থাকা সম্পদের খোঁজে সরকারি ৭ সংস্থাকে চিঠি দিয়েছে দুদক। গত জুন মাসের শেষ সপ্তাহে দেশের প্রত্যেক জেলা উপজেলা সদর ভূমি অফিস, জেলা রেজিস্ট্রার অফিস, উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিস, বিআরটিএ, সিকিউরিটি এন্ড এঙচেঞ্জ কমিশন, রিহ্যাব, সিডিএ ও রাজউককে পত্র দেয় দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের এক কর্মকর্তা বলেন, ব্যাংকে রক্ষিত অর্থ বাদেও নিহত সাইফুল করিমের স্ত্রী ও চার ছেলেমেয়ের নামে কেনা জমি, ফ্ল্যাট, গাড়ি আছে কিনা, কোন কোম্পানিতে বিনিয়োগ আছে কিনা কিংবা শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ রয়েছে কিনা জানতে সারাদেশের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পত্র দেওয়া হয়েছে। যাচাই বাছাই করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।

x