এডিপিতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ যোগাযোগ খাতে

শুক্রবার , ১০ মে, ২০১৯ at ৬:৫৮ পূর্বাহ্ণ
58

চলমান পদ্মা সেতু ও রেল সংযোগসহ সব মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নকে আগামী অর্থবছরও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) প্রস্তাব করছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, তাতে যোগাযোগ খাতে সর্বোচ্চ ৫৩ হাজার কোটি টাকা রাখা হয়েছে।
মোট ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকার এডিপি প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে মন্ত্রণালয়, যা বর্তমান অর্থবছরের মূল এডিপির চেয়ে ১৫ শতাংশ বেশি। বর্তমান অর্থবছরের এডিপিতেও যোগাযোগ খাতে ছিল সর্বোচ্চ বরাদ্দ ৪৫ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের আগে এডিপি প্রস্তাব চূড়ান্ত করতে বুধবার শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বর্ধিত সভা হয়, যাতে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রী এম এ মান্নান। খবর বিডিনিউজের।
সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকার এডিপি প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সময় পাওয়া সাপেক্ষে এক সপ্তাহের মধ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভা অনুষ্ঠিত হতে পারে। ওই সভায় চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আমরা এডিপির এই আকার প্রস্তাব করব।
পরিকল্পনা বিভাগের সচিব মোহা. নূরুল আমিন জানান, ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকার এডিপির ৬৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ বা ১ লাখ ৩০ হাজার ৯২১ কোটি টাকার জোগান হবে অভ্যন্তরীণ সম্পদ থেকে এবং বৈদেশিক সম্পদ থেকে ৩৫ দশমিক ৪২ শতাংশ বা ৭১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা নেওয়ার লক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ৫২ হাজার ৮০৬ কোটি টাকা বা ২৬ দশমিক ০৫ শতাংশ বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে যোগাযোগের জন্য, খাতওয়ারি বরাদ্দে এটাই সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১২ দশমিক ৮৩ শতাংশ বা ২৬ হাজার ১৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে বিদ্যুৎ খাতের জন্য।
তৃতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ ২৪ হাজার ৩২৩ কোটি টাকা বা ১২ শতাংশ প্রস্তাব করা হয়েছে ভৌত পরিকল্পনা, পানি সরবরাহ ও গৃহায়ণ খাতের জন্য এবং চতুর্থ সর্বোচ্চ ১০ দশমিক ৫৫ শতাংশ বা ২১ হাজার ৩৭৯ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে শিক্ষা ও ধর্মীয় খাতের জন্য।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, সকল খাতকেই আমরা সমান গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে কৌশলে ২০০৯ সাল থেকে অসম্ভব রকমের উন্নয়ন শুরু করেছেন, ওই কৌশল থেকে সরে আসার কোনো পরিকল্পনা আমাদের নেই।
তিনি বলেন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, বিদ্যুৎ, অবকাঠামো, কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, এই চার-পাঁচটা ক্ষেত্রে আমরা ঘোরাফেরা করছি। কারণ এগুলো আমাদের ভালো ফল দিয়েছে।
এদিকে অগ্রাধিকার পাওয়া আরো কয়েকটি খাত হচ্ছে বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে ১৭ হাজার ৫৪১ কোটি ২৬ লাখ টাকা বা মোট এডিপির ৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ। পল্লী উন্নয়ন ও পল্লী প্রতিষ্ঠান খাতে ১৫ হাজার ১৫৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা বা ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ। স্বাস্থ্য, পুষ্টি, জনসংখ্যা ও পরিবার কল্যাণ খাতে ১৩ হাজার ৫৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকা বা ৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ। কৃষি খাতে প্রায় ৭ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা বা ৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ। পানি সম্পদ খাতে প্রায় ৫ হাজার ৬৫৩ কোটি টাকা বা ২ দশমিক ৭৯ শতাংশ এবং জনপ্রশাসন খাতে ৫ হাজার ২৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকা বা ২ দশমিক ৪৮ শতাংশ বরাদ্দ প্রস্তাব করা হচ্ছে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন ঠিক সময়ে করা বা দীর্ঘসূত্রতার চক্র ভাঙার নতুন কোনো পদক্ষেপ আছে কি না-সাংবাদিকরা জানতে চাইলে মান্নান বলেন, এই ট্রেন্ড ভাঙতে চেষ্টা আমরা করেই যাচ্ছি। আইএমইডিকে আরো শক্তিশালী করা হবে। এমনকি আমাকেও আরো শক্তিশালী করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রকল্প পরিচালকদের অনেক স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। আমার মনে হয়, তারা আগের চেয়ে অনেক বেশি গ্রামে থাকছে। আশা করি, বড় ফল পাবেন। বছর শেষে চমকপ্রদ সংবাদ পাবেন।
চলতি অর্থবছরের এডিপির অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত ১০ মাসে এডিপির ৫৪ দশমিক ৬৩ শতাংশ বা ৯৬ হাজার ৪৯৩ কোটি টাকা ব্যয় করা সম্ভব হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের অগ্রগতি ছিল ৫২ দশমিক ৪২ শতাংশ বা ৮২ হাজার ৬০৩ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে এডিপির শতভাগ বাস্তবায়ন করতে হলে দুই মাসে প্রায় ৪৮ শতাংশ অর্থ ব্যয় করতে হবে।
এটা সম্ভব কি না-এই প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, আমাদের বাস্তব অগ্রগতি আরো অনেক বেশি। অনেক বিল পে হয় নাই। একাউন্ট অফিসে ঝুলে আছে। বছরের শেষের দিকে গিয়ে একসাথে অনেক বিল পরিশোধ করা হয়। তখন রাতারাতি বাস্তবায়নের হারও বেড়ে যায়।

x