এখনো সেমিফাইনালের সম্ভাবনা দেখছেন হাবিবুল বাশার

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বৃহস্পতিবার , ১৩ জুন, ২০১৯ at ৫:৫১ পূর্বাহ্ণ
56

ব্রিস্টলে শ্রীলংকার বিপক্ষে ম্যাচটি পরিত্যক্ত হওয়ার পর বাংলাদেশের সেমিফাইনাল স্বপ্ন বড় একটা ধাক্কা খেয়েছে। লংকানদের বিপক্ষে পুরো দুই পয়েন্ট তুলে নিতে পারলে বাংলাদেশের স্বপ্নটা বেঁচে থাকতো। কিন্তু সে সেমিফাইনালের স্বপ্ন এখন অনেক দূরের পথ। তবে এখনই হাল ছেড়ে দিতে রাজি নন টাইগারদের নির্বাচক এবং সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার। যদিও তিনি বলেছেন আসলে প্রকৃতির ওপর তো কারো হাত নেই। আর বৃষ্টির বৈরি আচরণে ম্যাচ পণ্ড হলে কার কিছুই করার থাকে না। দলের সাথে শুরু থেকেই থাকা হাবিবুল বাশার সুমন দেখেছেন তিনটি বিশ্বকাপের ম্যাচ। তাইতো তার বিশ্বাস এবারের বিশ্বকাপে অনেক ঘটনা ঘটবে। আপসেটের ঘটনাও থাকবে। একদম টপ ফেভারিটের যে কোন একটি দলকে ছিটকে পড়তে হতে পারে সেমিফাইনালের আগেই। আর আমার বিশ্বাস বাংলাদেশের সম্ভাবনা এখনো শেষ হয়ে যায়নি। এখনো সেমিফাইনালে খেলার সুযোগ আছে টাইগারদের।
তবে সেই সুযোগ সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে হাবিবুল বাশারের চিন্তা ও লক্ষ্য একটু অন্যরকম। বেশিরভাগই টার্গেট করে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পক্ষে। যেমনটি বাংলাদেশ টার্গেট করেছিল শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর পাকিস্তানকে হারানোর। এর মধ্যে শ্রীলঙ্কার সাথে ম্যাচ বৃষ্টিতে পণ্ড হওয়ায়, জয়ের বদলে এক পয়েন্ট নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে টাইগারদের। এখন শুধু আফগানিস্তান, পাকিস্তান আর ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারানোর লক্ষ্য নিয়ে খেললে হবে না। তাহলে সামনে এগিয়ে যাওয়া যাবে না। এখন লক্ষ্যটাকে আরো বড় করতে হবে। কঠিন প্রতিপক্ষকে হারানোর চেষ্টা করতে হবে। যেখানে রয়েছে ভারত এবং অস্ট্রেলিয়ার মত দল।
হাবিবুল বাশার বলেন এখন আর কোন নির্দিষ্ট দলকে টার্গেট করে এগুলে চলবে না। লক্ষ্য থাকতে হবে খুব ভাল খেলার। ব্যাটিং, বোলিং আর ফিল্ডিংয়ের সব শাখায় জ্বলে ওঠার দৃঢ় সংকল্প আর ভাল করার জোর তাগিদও দরকার। তাহলেই আমরা যাকে-তাকে হারাতে পারবো। আর আমরা যদি ধরেই নেই, আফগানিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর পাকিস্তান ছাড়া আর কাউকে হারাতে পারবো না তাহলে ভালোর চেয়ে খারাপ হতে পারে। তখন লক্ষ্য পূরণ হওয়া কঠিন হবে। এই যেমন আমাদের লক্ষ্য ছিল শ্রীলঙ্কাকে হারাবো। এখন বৃষ্টি এসে সব নষ্ট করে দিল। এক পয়েন্ট হাতছাড়া হয়ে গেলো। সামনে আমরা যাদের মনে মনে টার্গেট করেছি, সেই ওয়েষ্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান কিংবা আফগানিস্তানের সাথে ম্যাচেও যে প্রকৃতি বাধা হয়ে দাঁড়াবে না তার নিশ্চয়তা দেবে কে। এরচেয়ে আমরা যদি প্রতিপক্ষকে সেট না করে নিজেদের সেরাটা উপহার দেয়ার কথা ভাবি, তাহলে আমার মনে হয় ভাল হবে। আমরা যদি সামর্থ্যের সেরাটা দিয়ে মাঠে ভাল খেলতে পারি তখন আপনা-আপনি প্রতিপক্ষের চেয়ে শ্রেয়তর পারফরমেন্স হবে। আর নির্দিষ্ট দিনে প্রতিপক্ষের চেয়ে শ্রেয়তর পারফরমেন্স করার অর্থ জিতে যাওয়া। সে লক্ষ্যে এগোনোই অধিক যুক্তিযুক্ত বলে আমার বিশ্বাস।
হাবিবুল বাশার বলেন আমাদের সামনে এখন কোন টার্গেট নেই। আমাদেরকে খেলতে হবে প্রতিটা ম্যাচকে ফাইনাল ধরে নিয়ে। দল টার্গেট না করে সামর্থ্যের সেরাটা উপহার দিলে যে সাফল্য ধরা দেয়, তার প্রমাণ মিলেছে আমাদের প্রথম ম্যাচে। ভাল খেলতে পারলে যে কঠিন প্রতিপক্ষর বিপক্ষেও জেতা যায়, তার প্রমাণও কিন্তু আমরা দিয়েছি। আমরা শুরুতেই দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে দিয়েছি। তবে সেটা যে একদম টার্গেট সেট করে খেলেছি আমরা তেমন কিন্তু নয়। প্রোটিয়াসদের হারাতেই হবে কিংবা না হারালে চলবে না এমন পণ থেকে খেলিনি। ব্যাটিং, বোলিং আর ফিল্ডিংয়ের সব শাখা ক্লিক করেছে আর দলের সবাই সামর্থ্যের প্রায় সেরাটা উপহার দিতে পেরেছে বলেই দল জিতেছে। বাশার বলেন ইংল্যান্ডের সাথে ম্যাচটি ছাড়া এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ যে তিনটি ম্যাচ খেলেছে, তার দুটিতে বেশ ভাল খেলেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দল জিতেছে বলে পারফরমেন্স যত উজ্জ্বল মনে হয়েছে। নিউজিল্যান্ডের সাথে জয় ধরা না দেয়ায় ততটা উজ্জ্বল মনে হচ্ছে না। আসলে কিন্তু তা নয়। কিউইদের বিপক্ষেও আমরা বেশ ভাল খেলেছি।
নিউজিল্যান্ডের সাথে ম্যাচটিও বাংলাদেশ জিততে পারতো বলে জানান বাশার। তিনি বলেন আর হয়তো ২০/২৫ রান করতে পারলেই আমরা জিততে পারতাম। আর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জিতলে আমাদের অবস্থান আরও অনেক সুসংহত থাকতো। সেমিতে খেলার সম্ভাবনাও থাকতে বেশি। তিনি বলেন ওভালে প্রথম ম্যাচে আমরা ৩৩০ এর বেশি রান করেছি। তাই পরের ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের সাথেও তেমন স্কোরের চিন্তা ছিল সবার মাথায়। কিন্তু পরে বোঝা গেছে, সেটা আসলে ৩০০ এর বেশি রানের উইকেট ছিল না। ঐ উইকেটে ২৭০ এর বেশি রানই ছিল লড়াকু পুঁজি। কিন্তু সেটা আমরা করতে পারিনি। সেটা পারলে ম্যাচটা জিততে পারতাম আমরা। বাশার বলেন এখানকার আবহাওয়ার মত উইকেটের আচরণও খানিক রহস্যময়। যেমন কার্ডিফে ইংল্যান্ডের সাথে খেলার আগে পরপর দুই দিন টানা বৃষ্টি হয়েছে। ওই দুইদিন উইকেট ছিল কভারের নিচে। রোদ পায়নি একটুও। আর এমন উইকেটে কিছুটা হলেও প্রথম দিকে ঘণ্টা খানেক অন্তত বোলারদের সহায়তা করে। বল একটু আধটু সুইংও করতে পারে। কিন্তু বাস্তবে কিছুই হয়নি। বল একটুও ম্যুভ করেনি। কাজেই উইকেটের আচরণ বুঝে উঠাও বেশ কঠিন। বাংলাদেশের এখন যে অবস্থা তাতে কোন কিছুর দিকে তাকানোর কোন সুযোগ নেই। এখন প্রতিটা ম্যাচই ফাইনাল বাংলাদেশের জন্য। আর সে সব ফাইনাল জিততে পারলেই সেমিফাইনালে খেলার সম্বাবনা রয়েছে এখনো। তবে সেটা বেশ কঠিন হলেও মোটেও অসম্ভব নয়। এখন বাংলাদেশকে ছুটতে হবে সে অসম্ভবের পানে। বন্ধুর পথ পাড়ি দিতে হবে টাইগারদের।

x