এক সময় বাংলাদেশ ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী দেশ

প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় ইংরেজি বিভাগের বিদায় অনুষ্ঠানে উপাচার্য ড. অনুপম সেন

বুধবার , ১১ জুলাই, ২০১৮ at ১১:১৯ পূর্বাহ্ণ
84

প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. অনুপম সেন বলেন, এক সময় ইংল্যান্ড পৃথিবীর অর্ধেক শাসন করেছে। অস্ট্রেলিয়া, ভারত, জার্মান প্রভৃতি ইংল্যান্ডের কলোনি ছিল। বাংলাদেশও ছিল অনুরূপ। কিন্তু ১৭৫৭ সালে নবাব সিরাজদ্দৌলার পতন ঘটিয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি যখন বাংলাদেশকে ইংল্যান্ডের কলোনিতে পরিণত করে, তখন বাংলাদেশ ছিল পৃথিবীর সবচে’ ধনী দেশ। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলাদেশকে ইংল্যান্ডের কলোনিতে পরিণত করার মাত্র তিন বছরের মধ্যে এই দেশের তৎকালীন ৫০০ কোটি পাউন্ডের সম্পদ ইংল্যান্ডে পাচার করে।

গত ১০ জুলাই নগরীর জিইসি মোড়স্থ প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২৬ তম ব্যাচের ফেয়ারওয়েল উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। বিভাগের চেয়ারম্যান সাদাত জামান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে তিনি ইংরেজি ভাষা সম্পর্কে বলেন, পৃথিবীর প্রায় একশ কোটি মানুষ বর্তমানে ইংরেজি ভাষায় কথা বলে। বিশ্ববাণিজ্যে, বিশ্বের বড়ো বড়ো কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানসমূহে ইংরেজি ভাষা ব্যবহৃত হয়।

তিনি ইংরেজি সাহিত্য সম্পর্কে বলেন, উইলিয়াম শেক্সপিয়ার ইংরেজি ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক এবং বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ নাট্যকার। তিনি যখন লিখছিলেন, তখন ইংল্যান্ডের জনসংখ্যা ছিল খুবই কম, মাত্র ৫৫ লক্ষ। কিন্তু আজ পৃথিবীর অগণিত লোক তাঁর লেখা পড়ছে। তিনি অনেকগুলো নাটক ছাড়াও লিখেছেন সনেট, দীর্ঘ আখ্যানকবিতা। এক্ষেত্রে হ্যামলেট, ম্যাকবেথ, কিং লিয়ার, জুলিয়াস সিজার প্রভৃতি নাটকের কথা উল্লেখ্য। তিনি আরও বলেন, ইংরেজি সাহিত্যে উইলিয়াম শেক্সপিয়ার ছাড়াও শেলী, কীটস, বায়রন, ওয়ার্ডসওয়ার্থ, টিএস এলিয়ট, এজরা পাউন্ডএর মতো বড়ো বড়ো সাহিত্যিকের জন্ম হয়েছে। তাঁদের মাধ্যমে ইংরেজি সাহিত্য বিশ্বসাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। তাই আমরা দেখতে পাই, ইংরেজরা যেমন আমাদের পার্থিব সম্পদে দীন করেছে, কিন্তু মননের জগতকে সমৃদ্ধ করেছে। রবীন্দ্রনাথ তাঁর শেষ জীবনে লেখা ‘সভ্যতার সংকট’এ লিখেছিলেন দু’ধরনের ইংরেজ আছে, বড় ইংরেজ ও ছোট ইংরেজ। শৈশবে তিনি বড় ইংরেজকে দেখেছেন, যারা তাঁর অন্তর্জগতকে সমৃদ্ধ করেছিল। বিশ্ব যুদ্ধের সময়ে তিনি দেখছেন ছোট ইংরেজকে, যারা মানুষকে ক্ষুদ্র করেছে সংঘাতে জড়িয়ে। একই সঙ্গে তিনি বলেছিলেন, মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ। বিশ্বযুদ্ধের সংকট থেকে বিশ্ব একদিন বেরিয়ে আসবে। মানুষই শেষ পর্যন্ত মননের সমৃদ্ধির দ্বারা জয়ী হবে। আমাদের ইংরেজির শিক্ষার্থীদের মননের চর্চা করতে হবে, মননের শক্তি দিয়েই জয়ী হতে হবে।

২৬ তম ব্যাচের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইংরেজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোহীত উল আলম। তিনি বলেন, ২৬ তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের আজ বিদায় অনুষ্ঠান হলেও ইংরেজি বিভাগের সাথে তাদের সম্পর্ক, যোগাযোগ সব সময় থাকবে। এক সময় মানুষের সাথে মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা কঠিন ছিল, কিন্তু বিজ্ঞানের কল্যাণে এখন কঠিন নয়। মোবাইল, ফেসবুক, ম্যাসেঞ্জার, ভাইবার প্রভৃতির মাধ্যমে ইংরেজি বিভাগের সাথে তাদের যোগাযোগ রক্ষা হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

এতে বক্তব্য রাখেন সহকারী প্রক্টর আবদুর রহিম ও সহকারী অধ্যাপক কোহিনুর আকতার। ২৬ তম ব্যাচের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন ইশতিয়াক হাসান ও উম্মে হাবিবা বৃষ্টি। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন শিক্ষার্থী সবুজ ভট্টাচার্য, সাবনিকা হক তিতিল, স্বাগত বিশ্বাস, নাজিফা নিধি ও শুভ দে। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন সহকারী অধ্যাপক সুমিত রায় চৌধুরী। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। প্রেসবিজ্ঞপ্তি।

x