এক ব্রিজে পরিবর্তন হবে পাঁচ গ্রামের মানুষের ভাগ্য

বিজয় ধর, রাঙামাটি

বুধবার , ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ১১:৫৩ পূর্বাহ্ণ
77

একটি ব্রিজের অভাবে যাতায়াত ও উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রাঙামাটির বরকলের উত্তর ভূষণছড়া ও দক্ষিণ ভুষণছড়ার দুটি গ্রামের মানুষ। সরকারি অর্থায়নে উত্তর ভূষণছড়া গ্রামের পাশে ব্রিজটি করা হলে বদলে যাবে দুটি গ্রামের মানুষদের জীবন ধারা। পরিবর্তন হবে পাঁচটি গ্রামের মানুষের ভাগ্য। সূত্রে জানা গেছে, রাঙামাটির বরকল উপজেলার দুর্গম প্রত্যন্ত দুটি গ্রাম উত্তর ভূষণছড়া ও দক্ষিণ ভূষণছড়া। উপজেলার ৪নং ভুষণছড়া ইউনিয়নের ভুষণছড়া বাজার থেকে প্রায় ২০কিলোমিটার পশ্চিম দিকে অবস্থিত এই দুটি গ্রাম। পাকিস্তান আমল থেকে গ্রাম দুটিতে প্রায় ১শ পরিবারের মত মানুষ বসবাস করে। কিন্তু গ্রাম দুটিতে যেতে হলে ভুষণছড়া বাজার থেকে ছোট্ট ট্রলার বোটে করে ঘন্টা খানেক নদীপথ পাড়ি দিয়ে আবার দুর্গম আঁকা বাঁকা পাহাড়ি পথ পায়ে হেঁটে যেতে হয়। স্থানীয় গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, উত্তর ভূষণছড়া ও দক্ষিণ ভুষণছড়া গ্রাম দুটির পাশের গ্রাম পন্ডিত পাড়া, রকবিব ছড়া ও পিত্তিছড়া গ্রাম। ভুষণছড়া বাজার হয়ে উপজেলা সদরে আসতে বড় সমস্যায় পড়তে হয় উত্তর ভূষণছড়া ও দক্ষিণ ভুষণছড়া গ্রামসহ ৫ গ্রামের মানুষদের। কারণ উত্তর ভুষণছড়া গ্রাম থেকে ভুষণছড়া বাজারে আসার মাঝখানে জায়গাতে রয়েছে একটি বড় ছড়া। ছড়ার উপর কোন ব্রিজ কিংবা কাঠের সাঁকো নেই। গ্রামের মানুষ নিজেদের প্রচেষ্টায় বাঁশ দিয়ে সাঁকো তৈরী করে কোন রকমে যাতায়াত করে। কিন্তু মালামাল আনা নেয়ার ক্ষেত্রে অবর্ণনীয় কষ্ট হয় বলে জানালেন উত্তর ভুষণছড়া গ্রামের মুরব্বী নলোকুমার চাকমা। তিনি বলেন, ছড়াটি বর্ষার সময় পানিতে থাকে পরিপূর্ণ। আর শুস্ক মৌসুমে থাকে কাঁদায় ভরপুর। যার কারণে ওই দুই গ্রামের মানুষদের যাতায়াতে দুর্ভোগের যেমনি শেষ নেই তেমনি উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে দুঃখ কষ্ট ভোগ করতে হয় গ্রামবাসীদের। ভুষণছড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রঞ্জন কুমার চাকমা বলেন, ব্রিজ বা সাঁকো না থাকায় উত্তর ভুষণছড়া ও দক্ষিণ ভুষণছড়া গ্রাম দুটির সাথে পাশের গ্রাম পণ্ডিত পাড়া, রকবিবছড়া ও পিত্তিছড়া গ্রামের মানুষদের সাথে অনেকটা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। এছাড়াও গ্রাম দুটিতে শিক্ষা স্বাস্থ্য ও পানীয় জলের ব্যবস্থা নেই। উত্তর ভূষণছড়া ও দক্ষিণ ভুষণছড়া গ্রাম দুটিতে সরকারি কোন বিদ্যালয় নেই। সরকারি বিদ্যালয়ে যেতে হলে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে কখনো নৌকায় কখনো পায়ে হেঁটে আসতে হয়। এতে ছেলে মেয়েদের পক্ষে এতো দূর হেঁটে স্কুলে আসা সম্ভব হয়না। গ্রাম দুটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড পরিচালিত পাড়া কেন্দ্র একটি ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা টঙ্গ্যার পরিচালিত একটি স্কুল করা হয়েছিল। বর্তমানে পাড়া কেন্দ্রটি উন্নয়ন বোর্ড পরিচালিত করলেও বিগত কয়েক বছর আগে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা টংগার কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়। টংগা পরিচালিত স্কুলটি বর্তমানে এলাকার মানুষের অর্থায়নে চলছে বলে গ্রামবাসীরা জানান। অপরদিকে, গ্রাম দুটিতে রয়েছে পানীয় জলের তীব্র সংকট। দুএকটি রিংওয়েল টিউবওয়েল থাকলেও সেগুলো প্রায় সময় থাকে নষ্ট ও অকেজো। ফলে অন্ন বস্ত্র শিক্ষা চিকিৎসাসহ মানুষের মৌলিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত রয়েছে ওই গ্রাম দুটির মানুষ। এ বিষয়ে ভুষণছড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, উত্তর ভুষণছড়া দক্ষিণ ভুষণছড়া ও পন্ডিত পাড়ার জন্য একটি ব্রিজ খুবই দরকার। ওসব গ্রামের মানুষ কষ্ট করে যাতায়াত করলেও তাদের উৎপাদিত মালামাল গুলো সঠিক সময়ে বাজারজাত করতে না পারায় নষ্ট হয়ে যায়। এতে গ্রামের চাষিরা আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বিধান চাকমা জানান, গত সপ্তাহে উপজেলা পরিষদে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে একটি পাকা ব্রিজের জন্য লিখিত আবেদন দেয়া হয়েছে। দৈর্ঘ্য ১০০ফুট আর প্রস্ত ২০ফুট। জনস্বার্থে ব্রিজটি এলজিইডি থেকে করা যায় কিনা চেষ্টা করা হবে।
তা না হলে জেলা পরিষদ ও উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতা নিতে হবে বলে জানান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান।

x