এক বিষয়ে ফেল করলেও চূড়ান্ত পরীক্ষায় সুযোগ নয়

এসএসসি-এইচএসসি : ৬ মাস সংরক্ষণ করতে হবে নির্বাচনী পরীক্ষার উত্তরপত্র

রতন বড়ুয়া

শুক্রবার , ১২ অক্টোবর, ২০১৮ at ৪:৫১ পূর্বাহ্ণ
632

নির্বাচনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদেরই পাবলিক (এসএসসি ও এইচএসসি) পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। তবে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অসত্য প্রত্যয়নের মাধ্যমে এক বা একাধিক বিষয়ে অনুত্তীর্ণদেরও চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়ে থাকে বলে অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক)।
সংস্থাটি বলছে, এক্ষেত্রে অনিয়মের ঘটনা ঘটছে। যা দ্রুত বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। দুদকের এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে পাবলিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে অনিয়ম বন্ধে কড়া নির্দেশনা জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয়-সাব কমিটিকে প্রদত্ত এক নির্দেশনায় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে পুনরায় মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে বলা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে নির্বাচনী পরীক্ষায় এক বা একাধিক বিষয়ে অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের এসএসসি ও এইচএসসির চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি না দিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের নির্দেশ দিয়েছে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষ। গত ২৬ সেপ্টেম্বর শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মাহবুব হাসানের স্বাক্ষরে এ নির্দেশনা দেয়া হয়। একই সাথে নির্বাচনী পরীক্ষার উত্তরপত্র অন্তত ৬ মাস সংরক্ষণ করতে বলা হয়।
এদিকে, ২০১৯ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময়সূচি প্রকাশ করেছে শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষ। ৭ অক্টোবর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মাহবুব হাসান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। শিক্ষাবোর্ডের সময়সূচি অনুযায়ী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ৫ নভেম্বরের মধ্যে নির্বাচনী পরীক্ষা গ্রহণসহ ফলাফল প্রকাশ করতে হবে। নির্বাচনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা ৭ নভেম্বর থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত বিলম্ব ফি ছাড়া অনলাইনে ফরম পূরণ করতে পারবে। আর শিক্ষার্থী প্রতি একশ টাকা বিলম্ব ফিসহ অনলাইনে ফরম পূরণের সুযোগ রাখা হয়েছে ১৬ থেকে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত। ফরম পূরণে বোর্ড নির্ধারিত ফি’র অতিরিক্ত আদায় না করতে এবং এ বিষয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা রয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
প্রসঙ্গত, নির্বাচনী (টেস্ট) পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ ছাত্র/ছাত্রীদের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের পাবলিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে অনিয়ম রোধ সংক্রান্ত বিষয়ে মন্ত্রণালয় ও মাউশিকে চিঠি দেয় দুদক। চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. জাফর ইকবাল এনডিসি’র স্বাক্ষরে প্রদত্ত চিঠিতে বলা হয়, ‘মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার পূর্বে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী (টেস্ট) পরীক্ষায় এক বা একাধিক বিষয়ে অনুত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থায় নির্বাচনী পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ ছাত্র/ছাত্রী যাতে পাবলিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ না পায় এবং একই সাথে নির্বাচনী পরীক্ষার খাতাসমূহ (উত্তরপত্র) পাবলিক পরীক্ষা না হওয়া পর্যন্ত সংরক্ষণ করা হয় সেজন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদানের সুপারিশ করছি।’ দুদকের এই চিঠির প্রেক্ষিতে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয়-সাব কমিটিকে নির্দেশনা দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেনের স্বাক্ষরে গত ১৬ আগস্ট প্রদত্ত ওই নির্দেশনায় বলা হয়, দুর্নীতি দমন কমিশন হতে নির্বাচনী পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদেরকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক (পাবলিক) পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি প্রদানের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে পুনরায় মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে অবহিত করতে বলা হয় নির্দেশনায়।
মন্ত্রণালয়ের এ নির্দেশনা সবকয়টি শিক্ষাবোর্ডে পাঠায় আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয়-সাব কমিটি। এর প্রেক্ষিতে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের অবহিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর শাহেদা ইসলাম। শিক্ষাবোর্ডের ওয়েবসাইটেও এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেয়া হয়েছে জানিয়ে বোর্ড চেয়ারম্যান বলেন, নিয়ম মেনে নির্বাচনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের পাবলিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি দিতে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের আমরা বলেছি। এটাও বলেছি যে, নির্বাচনী পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ কোনো শিক্ষার্থীকে যাতে পাবলিক পরীক্ষার ফরম পূরণের অনুমতি দেয়া না হয়। তবে অনিবার্য/অনাকঙিক্ষত কারণে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থী যদি নির্বাচনী পরীক্ষায় একটি বিষয়ে অংশ গ্রহণ করতে না পারে, সেক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান প্রধান ওই শিক্ষার্থীর প্রাক-নির্বাচনী (প্রি-টেস্ট) পরীক্ষার ফলাফল বিবেচনায় নিতে পারবেন। কিন্তু অনুত্তীর্ণদের যাতে পাবলিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি দেয়া না হয়। এ সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ পেলে তা খতিয়ে দেখার জন্য নির্বাচনী পরীক্ষার উত্তরপত্র ৬ মাস সংরক্ষণের জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে জানিয়ে বোর্ড চেয়ারম্যান বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা যেকোনো সময় প্রতিষ্ঠান থেকে উত্তরপত্র চাইতে পারি। সেগুলো যাচাই-বাছাই করতে পারি। এতে কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ পেলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়ারও কথা বলেন প্রফেসর শাহেদা ইসলাম।

x