এক ঘণ্টায় নগরীর ৩ স্থানে পাহাড় ধস

আগে উচ্ছেদ করায় বড় ক্ষতি থেকে রক্ষা

আজাদী প্রতিবেদন

শুক্রবার , ১২ জুলাই, ২০১৯ at ৭:১৬ পূর্বাহ্ণ
132

নগরীর তিন স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে লালখান বাজার পোড়া কলোনি, বিশ্বকলোনির ট্যাংকির পাহাড় ও ফয়’সলেক শান্তিনগরে পাহাড় ধস হয়। পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটলেও জেলা প্রশাসন আগেভাগে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের সরিয়ে নেওয়ার কারণে প্রাণহানি থেকে রক্ষা পেয়েছে পরিবারগুলো। সর্বশেষ গতকাল বৃহস্পতিবার ফয়’সলেকের মিয়ার পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে ৩২টি অবৈধ ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নগরীর ১৭টি পাহাড়ে অবৈধভাগে গড়ে উঠা ৮৩৫টি ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারকে উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেয় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে গঠিত পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি। গত রমজানের উচ্ছেদ অভিযানের প্রথম ধাপে মতিঝর্ণা, বাটালি হিল, পোড়া কলোনি পাহাড়, একেখান পাহাড় এলাকায় ৩৫০ অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে গত ৪ জুলাই থেকে তিন শতাধিক পরিবারের স্থাপনা উচ্ছেদ করে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলো আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। এর আগে পাহাড়ে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের সাময়িক আশ্রয়ের জন্য নগরীতে ৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলে জেলা প্রশাসন।
এদিকে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় লালখান বাজারের পোড়া কলোনি এলাকায় পাহাড় ধস হয়। বিগত রমজানের আগে ওই স্থান থেকে প্রায় ৭০টি ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী পরিবারকে উচ্ছেদ করে জেলা প্রশাসন। সকাল ১১টায় আকবর শাহ থানাধীন কৈবল্যধাম বিশ্বকলোনিস্থ ট্যাংকির পাহাড়ে পাহাড় ধস হয়। গত মঙ্গলবার এই পাহাড়ের পাদদেশ থেকে ১৬ দখলদারের আওতাধীন ৮০টি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়। একই সময়ে ফয়’সলেক সংলগ্ন বাংলাদেশ রেলওয়ের মালিকানাধীন শান্তিনগর এলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। ওই স্থানে গত বুধবার ১০০ পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেও অবৈধ বসবাসকারীদের উচ্ছেদে অভিযান চালায় জেলা প্রশাসন। একই সময়ে আরেক অভিযানে বাংলাদেশ রেলওয়ের মালিকানাধীন পাহাড় থেকে অবৈধ বসতি উচ্ছেদ করে প্রায় ২ একর জমি রেলওয়েকে বুঝিয়ে দেয় জেলা প্রশাসনের অভিযানিক টিম।
অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া কাট্টলী সার্কেল সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তৌহিদুল ইসলাম দৈনিক আজাদীকে জানান, বৃহস্পতিবার বেশ কয়েক স্থানে পাহাড় ধস হয়েছে। জেলা প্রশাসনের আগাম তৎপরতার কারণে কোথাও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে বুধবার ফয়’সলেক বাংলাদেশ রেলওয়ের মালিকানাধীন পাহাড়ের যে স্থান থেকে থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল সেই স্থানেই বড় ধরণের পাহাড় ধস হয়েছে। কিন্তু এর আগেই আমরা ওই স্থান থেকে লোকজনকে সরিয়ে নিয়েছি। সময়োচিত উচ্ছেদ অভিযান চালানোর কারণেই অন্তত ৩০টির মতো পরিবার প্রাণঘাতি পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেয়েছে। তিনি বলেন, নগরীতে ৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে বর্তমানে প্র্রায় ৭ শতাধিক মানুষকে তিনবেলা রান্না খাবার দেওয়া হচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে সরকারীভাবে ত্রাণ সহায়তা দিচ্ছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।

x