একে একে হারিয়ে গেল তিনজন

ঝাউতলায় মর্মান্তিক ঘটনা, ফুটবল খুঁজতে পানির ট্যাংকে নেমে দুই ভাইসহ তিনজনের মৃত্যু

আজাদী প্রতিবেদন

শনিবার , ১১ আগস্ট, ২০১৮ at ৩:৪৬ পূর্বাহ্ণ
2021

প্রতিদিনের মতো এলাকার মাঠে ফুটবল খেলছিল তারা। খেলার এক পর্যায়ে বল চলে যায় মাঠ থেকে কিছুটা দূরে। সে বল খুঁজতে গিয়েছিল সিফাত। সে ফিরে আসছে না দেখে এগিয়ে যায় ইমরান, তারপর তার ভাই রুবেল। পানির রিজার্ভ ট্যাংকে নেমে একে একে এ তিনজনই মারা গেছে। এ মর্মন্তুদ ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল বিকালে নগরীর খুলশী থানার ঝাউতলা এলাকায়।

নিহত তিনজনের মধ্যে সিফাত (১২) ডিজেল কলোনির বাসিন্দা মো. মিজানুর রহমান মিজানের ছেলে। অপর দু’জন ইমরান হোসেন ইমু (২২) ও মো. রুবেল প্রকাশ ড্যানিস (১৮) এলাকার মো. আফজালের সন্তান। এ তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

প্রত্যক্ষদর্শীদের একজন খোরশেদুল ইসলাম চমেক হাসপাতালে আজাদীকে জানান, ডিজেল কলোনি মসজিদ মাঠে বিকেলে শিশুকিশোররা ফুটবল খেলছিল। ওই মাঠের পাশে মসজিদের পানি ধরে রাখার জন্য মাসখানেক আগে একটি ট্যাংক নির্মাণ করা হয়। ট্যাংকটি এখনো খালি। ট্যাংকের ওপরে একটি কাঠের ঢাকনা আছে। ঢাকনাটি কিছুটা ফাঁকা করা ছিল। বলটি ট্যাংকে পড়ে গেছে ভেবে সিফাত তুলতে যায়। এরপর সিফাত উঠছে না দেখে তাকে তুলতে ইমরান ট্যাংকে ঢুকে। কিন্তু সেও উঠছিল না। এ অবস্থায় তার ভাই রুবেল ট্যাংকে নামে। কিন্তু তারা কেউ উঠে আসছে না দেখে অন্য শিশু কিশোররা চিৎকার, চেঁচামেচি শুরু করে। এতে লোকজন ছুটে এসে জানতে পারে ট্যাংকে তিনজন ঢুকলেও বের হয়নি কেউ। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরাও ঘটনাস্থলে আসে। তারা দ্রুত ওই ট্যাংক থেকে তিনজনকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধার করে। এর পর তাদের দ্রুত চমেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা জানান, ট্যাংকটি ছিল ৮১০ ফুট গভীর। দীঘর্দিন পতিত থাকায় সেটিতে মিথেন গ্যাস জমেছিল। শুরুতে সিফাত ফুটবল তুলতে ট্যাংকে নামলে সে অজ্ঞান হয়ে যায়। এরপর একে একে নামে অন্য দুজন। তারাও গ্যাসের প্রভাবে অজ্ঞান হয়ে যায়। স্থানীয়রা বলছেন, তিনজনকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) নিয়ে যাওয়ার সময় পর্যন্ত তারা বেঁচে ছিল। সময় মতো চিকিৎসা পেলে তারা বাঁচত। খোরশেদুলের সাথে আলাপকালে নিহত তিনজনের স্বজন পরিচয় দিয়ে আরো ৭/৮ জন এগিয়ে এসে অভিযোগ করেন, ‘হাসপাতালে নেওয়ার পর তাদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়ার জন্য কাকুতি মিনতি করলেও তা হয়নি। একসময় ঘোষণা দেয় তিন জনই মারা গেছে। তরতাজা তিনটি প্রাণের এমন করুণ পরিণতি কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক আলাউদ্দিন তালুকদার জানান, ওই তিনজনকে পৌনে ৬টার দিকে চমেক হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত ঘোষণার পর স্বজনেরা চিকিৎসক ও পুলিশের সঙ্গে দুর্ব্যবহারও করে। এ নিয়ে সামান্য উত্তেজনা ছিল তখন। তিনি বলেন, চিকিৎসক ডেথ সার্টিফিকেটে লিখেছেন, ওই তিনজনকে মৃত অবস্থায় (ব্রট ডেড) হাসপাতালে আনা হয়েছে। ট্যাংকে থাকা গ্যাসের কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে।’

সিএমপির উপ পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মো: আবদুল ওয়ারিশ খান বলেন, রিজার্ভ ট্যাংকের গভীরতা কত, সেখানে গ্যাস জমেছিল কি না অথবা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার কোনো সুযোগ ছিল কি না সেগুলো আমরা তদন্ত করে দেখছি।

খুলশী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মহিবুর রহমান জানান, বিকালে এলাকার শিশুরা বল খেলার সময় বল ট্যাংকে পড়ে যায়। সেটি তুলতে গিয়েই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

x