একাল-সেকাল

নাহিদা সুলতানা

শনিবার , ৩০ মার্চ, ২০১৯ at ৮:৩৪ পূর্বাহ্ণ
47

প্রান্তিক নারীরা ন্যূনতম শিক্ষার সুযোগও পায় না। বিশেষত হাওর, বস্তি, চা বাগান,
চর ও উপকূলীয় এলাকা এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারীরা ভয়াবহভাবে প্রান্তিকতার শিকার। এদের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ মেয়ে শিশু কখনো স্কুলে যায়নি। অথচ এদেরকে বাদ দিয়ে সামগ্রিক উন্নতি
সম্ভব নয়।

বাংলায় মেয়েদের স্কুল প্রথম চালু করেন মিশনারীগণ। ১৮১৯ সালে ব্যাপ্টিস্ট মিশন ‘ফিমেল জুভেনাইল সোসাইটি’ গঠন করে প্রথম বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে। ১৮২৪ সাল নাগাদ ঢাকায় একটি স্কুল শুরু হয়ে ১৮২৬ সালে বন্ধ হয়ে যায়। মেয়েদের বিখ্যাত স্কুলগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল ১৮৪৯ সালে স্থাপিত কলকাতার হিন্দু বালিকা বিদ্যালয়। ১৯৫৪ সালে তৎকালীন সরকার অনুদানের মাধ্যমে নারী শিক্ষাকে সমর্থন করেন। ঐ বছর বাংলায় মেয়েদের জন্য মোট ২৮৮ টি স্কুল ছিল। বেগম রোকেয়ার হাত ধরে বাংলার নারীরা এগিয়ে গিয়েছিল আরো একধাপ। ১৮৮৫ সালে তিনি বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষা লাভ করেন। ১৯০২ সালে বাঙালী নারী সাহিত্যিক হিসেবে তিনি আত্মপ্রকাশ করেন। বিশেষত বাংলার মুসলমান নারীদেরকে শিক্ষার প্রতি আগ্রহ
সৃষ্টিতে বেগম রোকেয়ার অবদান অসামান্য । এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১৯৬১ সালে গ্রাম বাংলায় ৫ বছর বা তদুর্দ্ধ নারী শিক্ষার হার ছিল শতকরা ১৪.৯ ভাগ। ১৯৯১ সালে তা হয়েছে ১৬.৭ ভাগ। অতএব ১৯৬১ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত নারী শিক্ষার
প্রবৃদ্ধির হার শতকরা মাত্র ১.৮ ভাগ। এক্ষেত্রে পুরুষ ও নারী শিক্ষায় বৈষম্য পরিলক্ষিত হয়। ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত মেয়েদের বুয়েটে পড়া নিষিদ্ধ ছিল। সেই সময় দোরা, মনোয়ারা ও চুমকি নামের তিন বাঙালি মেয়ে বুয়েটে পড়তে না পারার কারণে কোর্টে মামলা টুকে বিজয় লাভ করে এবং তাঁরা প্রথম নারী শিক্ষার্থী হিসেবে বুয়েটে পড়ার সুযোগ পায়। ২০০০ সালে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ১৯৯৯ সালে নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ছাত্রী ভর্তির হার ৫৬.৮ ভাগ। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শতকরা ৫৩ ভাগ। দাখিল মাদ্রাসায় ছাত্রী ভর্তির হার শতকরা ৩৭ ভাগ, দাখিল, আলিম, কামিল, ফাজিল মাদ্রাসাসহ মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যা শতকরা ৪০ ভাগ। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নারী শিক্ষার উন্নতি ঘটলেও সামগ্রিক বিবেচনায় নারীরা যথেষ্ট পিছিয়ে আছে। প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে সরকারি হিসেব অনুযায়ী মেয়ে শিশুর হার ৯১ শতাংশ এবং নারী শিক্ষার হার ৫০.৫৪। তবে উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে এ হিসাব বিপরীতমুখী। প্রান্তিক নারীরা ন্যূনতম শিক্ষার সুযোগও পায় না। বিশেষত হাওর, বস্তি, চা বাগান,
চর ও উপকূলীয় এলাকা এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারীরা ভয়াবহভাবে প্রান্তিকতার শিকার। এদের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ মেয়ে শিশু কখনো স্কুলে যায়নি। অথচ এদেরকে বাদ দিয়ে সামগ্রিক উন্নতি সম্ভব নয়। নারীদের পিছিয়ে থাকার আরেকটি অন্যতম কারণ হলো মানসিক দুর্বলতা বা সাহসের অভাব। এ প্রসঙ্গে বেগম রোকেয়া মতিচূর গ্রন্থে লিখেছেন, ‘ আমাদের স্বাবলম্বন, সাহস প্রভৃতি মানসিক উচ্চবৃত্তিগুলি অনুশীলন অভাবে বারবার অঙ্কুরে বিনাশ হওয়ায় এখন আর বোধ হয় অঙ্কুরিতও হয়না।’

x