একদিনেই ৫ জনের কারাদণ্ড দেড় লক্ষাধিক টাকা জরিমানা

বিআরটিএ’র অভিযান : ৬৫ মামলা

আজাদী প্রতিবেদন

সোমবার , ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ at ৮:৩৭ পূর্বাহ্ণ
389

রাস্তায় যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরানোর লক্ষ্যে পরিচালিত বিআরটিএ’র অভিযানের অষ্টম দিনে পাঁচজনকে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের দুই বিচারক। অভিযানকালে মোট ৬৫ মামলায় ১ লাখ ৫৮ হাজার ৯০০ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। একদিনেই পাঁচজনকে কারাগারে পাঠানোর ঘটনা আটদিনের অভিযানে এ প্রথম বলে জানা যায়। গতকাল রোববার সকাল ১০টায় বিআরটিএ’র দুই ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারকের নেতৃত্বে নগরীর ব্যস্ততম কাপ্তাই রাস্তার মাথা ও হালিশহরস্থ বড়পুল এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালিত হয়। আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মীর মোহাম্মদ জিয়াউল হক ও এস এম মনজুরুল হক। এ বিষয়ে বিআরটিএ’র কর্মকর্তা মোহাম্মদ মেহেদী ইকবাল বলেন, একদিনে পাঁচজনকে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর ঘটনা এ প্রথম। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।

বিআরটিএ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কাপ্তাই রাস্তা মাথা এলাকায় গতকাল সকাল ১০টায় অভিযানে নামেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মীর মোহাম্মদ জিয়াউল হক। এ সময় তিনি বিভিন্ন অনিয়ম ও ত্রুটির দায়ে ৪৭টি যানবাহন ও সংশ্লিষ্ট চালকদের আইনের আওতায় আনেন। একইসাথে এসব মামলা দায়ের করার মাধ্যমে ৭৭ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয় মোবাইল কোর্টের তরফে। ডাম্পিংয়ে পাঠানো হয় ৩টি যানবাহনকে। গাড়ির কাগজপত্র জব্দ করা হয় ৭টির। ম্যাজিস্ট্রেট মীর মোহাম্মদ জিয়াউল হকের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে তিনজন চালককে সাজা দেয়া হয়। সাজাপ্রাপ্ত তিনজন হলেন মোহাম্মদ রিপন (১৯), নুরুল আলম (৪৭) ও মোহাম্মদ শাহেদুল ইসলাম।

এর মধ্যে মোহাম্মদ রিপন ভোলা সদর এলাকার মোহাম্মদ নাছিরের ছেলে। তার বয়স ১৯ বছর। হিউম্যান হলারের চালক মোহাম্মদ রিপনের কাছে ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না। তাছাড়া পেশাদার চালক হতে হলে তার বয়স ২০ বছর হওয়া দরকার আইন অনুযায়ী। এ কারণে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাকে একমাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত নুরুল আলম ড্রাইভারের বাড়ি বোয়ালখালী। ৪৭ বছর বয়সী এ সিএনজি টেঙি চালকের কাছে কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না। একমাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হাতিয়া উপজেলার মোহাম্মদ আলমগীরের ছেলে মোহাম্মদ শাহেদুল ইসলামের বয়স ২৩ বছর। সিএনজি টেঙি চালক মোহাম্মদ শাহেদুল ইসলাম মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় সরকারি কাজে বাধা প্রদান করেন বলে জানান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মীর মোহাম্মদ জিয়াউল হক।

অন্যদিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম মনজুরুল হক বড়পুল এলাকায় সকাল ১০টার দিকে অভিযানে নামেন। অভিযান পরিচালনাকালে বিভিন্ন অনিয়ম ও ত্রুটি থাকায় ১৮টি মামলা দায়েরের মাধ্যমে ৮১ হাজার ৯০০ টাকা জরিমানা আদায় করেন। এসময় ২টি গাড়ি ডাম্পিংয়ে পাঠানো হয়। পাশাপাশি ২ জন ড্রাইভারকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন এস এম মনজুরুল হকের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সাজাপ্রাপ্তরা হলেন, মোহাম্মদ মান্নান ও শরীফুল।

বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে, বড়পুল এলাকায় পরিচালিত অভিযানে ফেনীর মোহাম্মদ শফিউল্লাহ’র ছেলে মোহাম্মদ মান্নানকে একমাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক। বাস চালক মোহাম্মদ মান্নানের বয়স ২০ বছরের কম। তার কাছে কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বে তিনি পেশাদার চালক হিসেবে নগরীতে বাস চালাচ্ছিলেন।

একই আদালতের বিচারক গাইবান্ধার মোহাম্মদ নাইমের ছেলে বাস চালক শরীফুলকেও একমাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। তার বয়স ২০ বছরের নিচে। এ কারণেই মূলত তাকে সাজা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিআরটিএ’র কর্মকর্তা মোহাম্মদ মেহেদী ইকবাল।

প্রসঙ্গত: গত ২৯ জুলাই ঢাকার কুর্মিটোলায় বাস চাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর থেকে সারাদেশে প্রতিবাদে ফেটে পড়ে দেশের বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে বিআরটিএ কে আরো গতিশীল করার উদ্যোগ নেয় সরকার। এ অবস্থায় বিআরটিএ ঢাকাচট্টগ্রামে নতুন করে আরো অতিরিক্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয় সরকার। চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ে দু’জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়। নতুন নিয়োগ পাওয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা ইতোমধ্যে সড়কমহাসড়কে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান শুরু করেন। গত ৩০ আগস্ট থেকে ধারাবাহিকভাবে অভিযান চলছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান চলবে বলে জানান বিআরটিএর কর্মকর্তা মোহাম্মদ মেহেদী ইকবাল।

x