একটি মানবিক প্রকল্প দোয়েল

মীর আসলাম : রাউজান

সোমবার , ১০ জুন, ২০১৯ at ১১:০০ পূর্বাহ্ণ
95

রোগাক্রান্ত মানুষের বিপদের সময় কাছে গিয়ে হাজির হবে দোয়েল। শুধু ফোন করে বলতে হবে সাহায্য চাই। দোয়েল হচ্ছে রোগাক্রান্ত বিপদসংকুল মানুষের পরম বন্ধু। গ্রামীণ জনপদে কেউ হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়লে বেশিরভাগ সময় চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার বাহন পাওয়া যায় না। এই বিপদে স্মরণ করলেই ঘরের দরজায় এসে দাঁড়াবে দোয়েল। সকাল ৮ টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দোয়েলের এই সেবার গ্রহণের জন্য দিতে হবে না কোনো টাকা।
মানুষের বিপদে দোয়েল নিয়ে কাছে থাকার এই উদ্যোগ রাউজানের তরুণ সমাজসেবক সাইফুল ইসলাম চৌধুরীর। তিনি প্রাথমিকভাবে একটি সিএনজি আটোরিক্সা রেখে রোগাক্রান্ত মানুষের জন্য এই সেবামূলক উদ্যোগটি নিয়েছেন। গত প্রায় দুই মাস থেকে সপ্তাহের প্রতি শনিবার দোয়েলের মাধ্যমে রাউজানের মানুষ এই সেবা পাচ্ছেন।
বিজ্ঞজনদের মতে স্রষ্টার সৃষ্টির মধ্যে সেরা জীব হচ্ছে মানুষ। এই মানুষের মাঝে স্রষ্টা খুঁজতে চায় ভাল মন্দ, পাপ পূণ্যের মাণদণ্ড। ধর্মীয় বিধান মতে প্রয়াতদের জীবদশায় চলন বলনসহ সব ভাল মন্দের হিসাব দিতে হবে স্রষ্ট্রার কাছে পরকালে। মন্দের চাইতে ভাল কাজে যাদের পাল্লা ভারি হবে তাদের জন্য প্রতিশ্রুতি আছে স্বর্গবাসী করার। আদিকাল থেকে স্রষ্টার এই বিধি বিধান সম্পর্কে সতর্ক করে আসছে ধর্মীয় গুরুরা। এটিকে প্রতিটি ধর্মের মূলমন্ত্র মেনে সকল ধর্মের মানুষ চেষ্টা করে ভাল কাজের মাধ্যমে নিজেদের পরকালের স্বর্গবাস নিশ্চিত করতে। জ্ঞাত অজ্ঞাতে করা সকল মন্দকাজকে ভাল ও মানবিক কাজ করে ডেকে দিয়ে ভাল কাজের পাল্লা ভারি করতে।
সৃষ্টিকর্তার মূল বাণী হচ্ছে মানুষ “আমার উপর বিশ্বাস রেখ, আমার কাছে সাহায্য প্রার্থনা কর, আমি তোমাদের ত্রাণকর্তা,সাহার্য্যকর্তা, ইহকাল আর পরকালে শান্তিদাতা। তোমরা ইহকালে কল্যাণকর কাজে নিজেদের আত্মনিয়োগ কর। আমি অবশ্যই ভাল ও কল্যাণকর কাজের প্রতিদান দেব। স্রষ্টার এই আহ্বানের প্রতি বিশ্বাসে মানুষের যুগে যুগে। এই বিশ্বাস থেকে মানুষ চেষ্টা করে নিজেদের স্বাদ সাধ্যের মধ্যে থেকে মহৎ কাজে আত্মনিয়োগ করতে। তবে এক্ষেত্রে মানুষের মাঝে কার্পন্যতা যে নেই তাও নয়। সমাজের ভিত্তশালী শ্রেণির(একাংশের) এমন কার্পণ্য নিয়ে আলোচনা সমালোচনা হয়। সমাজের তাদের পরিচিতি পায় কৃপণ হিসাবে। মানবিক সংকটকালে সমাজের কার্পন্যতার ধরণ প্রকৃতি নিজের হৃদয় থেকে অনুভব করে এক সময় হতাশার ভাব প্রকাশ করেছিলেন উপমহাদেশে বিখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী ভুপেন হাজারিকা। তা তিনি প্রকাশ করেছিলেন একটি গানের মাঝে। তার সেই বিখ্যাত গানটি হচ্ছে- ‘মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য, একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারেনা?’
শিল্পীর এই গানটি কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠীর জন্য ছিল না। তার এই গানটি ছিল মানবেতর জীবন যাবনে থাকা মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সব মানুষের কল্যাণের আত্মনিয়োগের আহ্বানে।
বলা যায়, আমাদের এই সমাজে ধনী দরিদ্রের বৈষম্য প্রায় প্রতিদিনই বাড়ছে। এ যুগের স্বাস্থ্য,শিক্ষার পাশাপাশি জীবনধারণের মৌলিক বহু সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত আছে সমাজের মানুষের বিশাল একটি অংশ। এসব মানুষের মানবেতর জীবন দেখে অনেক সচ্ছল বিবেকবান মানুষের হৃদয় নাড়া দেয়। তারা চেষ্টা করে মানবেতর জীবন যাপনে থাকা মানুষগুলোর জন্য নিজের সাধ্যে মধ্যে থেকে কিছু করতে। এই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে রাউজানের তরুণ রাজনীতিক সাইফুল ইসলাম রোগাক্রান্ত মানুষের সেবায় দোয়েল নামের সেবা প্রকল্পটি চালু করেছেন। প্রতি শনিবার ফোন পেলেই দোয়েল ছুটে যাচ্ছে ফ্রিতে সেবা দান করতে। প্রকল্পের উদ্যোক্তা বলেছেন মানবিকতাই হচ্ছে মানুষের মূল ধর্ম। উপমহাদেশে বিখ্যাত শিল্লী ভুপেন হাজারিকার আহ্বান আমার হৃদয় স্পর্শ করে। আমার এই সেবাদান কর্মসূচিকে আরো বৃহত্তর পরিসরে নিতে সিএনজি অটোরিকশার সাথে সংযুক্ত হবে একটি এ্যাম্বুলেন্স। অচিরেই এটি নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে ফ্রিতে মানুষের সেবাদানের জন্য। উল্লেখ্য যে, দোয়েলের উদ্যোক্তা রানা রাউজানের প্রয়াত রাজনীতিক পৌরসভার প্রয়াত মেয়র শফিকুল ইসলাম চৌধুরী বেবীর পুত্র।

x