একটি বৃক্ষের আত্মকাহিনী

সোমবার , ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ৫:৩৫ পূর্বাহ্ণ
41

হে মানুষ জাতি আমি বৃক্ষ, তোমাদের পরম বন্ধু গাছ বলছি। আজ আমার জীবন কাহিনী তোমাদের শুনাতে চাই। এই সুন্দর পৃথিবীর বুকে তোমার মতো আমারও একদিন বংশ পরম্পরায় জন্ম হয়েছিল, সেই জন্ম থেকেই তুমি মানুষের সাথে আমার বেড়ে উঠা, এবং তোমাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য বন্ধুত্ব ও আত্মার বন্ধন শুরু হয়। আমি তোমায় অঙিজেন নামক প্রাণ শক্তি দিই, আর তুমি আমার প্রাণ শক্তি কার্বন-ডাই-অঙাইড দিয়ে থাক, এই ছাড়া তোমারই মতো আমিও বংশ বিস্তার করি। এই বৃক্ষবংশ তোমার মানুষ বংশকে একাধারে অঙিজেন, বাতাস, ছায়া, মায়া, ফুল, ফল, ওষুধসহ বেঁচে থাকা পর্যন্ত আরও কতো উপকারই না করে যাই, সেটা তোমরা মানুষ জাতি একবারও চোখ বন্ধ করে ভেবে দেখো না কেন? আমার মতো এত উপকারী বন্ধুকে চিনতে তোমার বড় দেরি হয়। আমার রূপ যৌবন ধ্বংস করে আমায় শুধু হত্যা করে ক্ষান্ত হও না।
টুকরো টুকরো করে তোমার প্রয়োজনে, তোমার সমাজের প্রয়োজনে কত কিছুই না তৈরি আর বিক্রি করো। এমন কি তোমার চৌদ্দগোষ্ঠীর মৃত দেহ ও আমাকে দিয়ে দহন করে থাক। আর এভাবে যদি আমার বৃক্ষ বংশকে নির্বংশ করে ধ্বংস কর, তাহলে একদিন তোমরা মানুষ জাতি অঙিজেন সংকট আর তাপে খড়ায় অধিক মাত্রায় কার্বন-ডাই-অঙাইড বেড়ে আমাদের মতো তিলে তিলে তোমার বংশ ধ্বংস হয়ে যাবে। তাই বলছি ও হে মানুষ জাতি আমাদেরকে কারণে অকারণে আর কেটে ফেলো না, আসো এই সুন্দর পৃথিবীকে আগামীদিনের প্রজন্মের জন্য নতুন করে সাজাই। যেখানে আমার প্রজাতি আছে সেখানে তোমার প্রজাতি আছে, আর যেখানে আমার প্রজাতি নাই, সেখানে আমার প্রজাতিকে তুমি জন্মাও (অর্থাৎ বেশি বেশি বৃক্ষ চারা রোপণ করো,) ওখানে একদিন তোমার প্রজাতিও জন্মাবে, আর এভাবেই অতিমাত্রায় জলবায়ু উষ্ণায়ন ও পৃথিবী ধ্বংসের হাত থেকে আমরা দুই মেরুর দুই প্রজন্ম মিলে পরিবেশ বান্ধব বন্ধন দিয়ে রক্ষা করার শপথ করি ।
অতি প্রয়োজনে একটি গাছ কাটলে পরে, দুইটি চারা গাছ রোপণ করব, বেশি না হলেও আপনার সন্তান যতজন, ততটি মূল্যবান চারা গাছ লাগাবো।
– দেবাশীষ দেব দেবু, কালুরঘাট, মোহরা, চান্দগাঁও, চট্টগ্রাম।

x