একটি চিঠি এবং

আয়শা আদৃতা

বৃহস্পতিবার , ২৬ এপ্রিল, ২০১৮ at ৬:১৩ পূর্বাহ্ণ
56

গত ২৩ এপ্রিল সন্ধ্যায় প্রচারিত হয় সেনা সদস্যদের অংশগ্রহণে বিশেষ যন্ত্র সঙ্গীতের অনুষ্ঠান সেনা লহরি। অনুষ্ঠানে আর্মি স্কুল অব মিউজিকের সেনা সদস্যরা যন্ত্রে সুর তুলেন দেশাত্মবোধক বিভিন্ন গানের সুর। সঙ্গীত পরিচালনা করেন বেনজির আহমেদ। মুক্তিযুদ্ধের সময় যেসব গান যোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা যুগিয়ছে, তারও পরে বছরের পর বছর যেসব গানের সুর প্রতিটা বাঙালির হৃদয়ে স্থায়ী আসন দখল করে রেখেছে সেসব সুরের ঝংকার তুলেন যন্ত্র শিল্পীরা। অনুষ্ঠানে অর্ধ শতাধিক শিল্পী একসাথে যন্ত্রসঙ্গীত বাজনায় অংশ নেন। যন্ত্র সঙ্গীতের অনুষ্ঠান সুর ঝংকার বিটিভি চট্টগ্রামের নিয়মিত অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে এমন বৈচিত্র্য দর্শকনন্দিত হতে পারে।

জনসচেতনতামূলক সরকারি প্রচারণার অনুষ্ঠান জানতে চাই শিরোনামের অনুষ্ঠানে জনগণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টিতে (সম্ভবত) বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। গত কয়েকদিন ধরে যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে তা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমন সমসাময়িক। বিষয় : বজ্রপাত। বজ্রপাত কেন হয়, হলে কি করণীয় এসব বিষয় নিয়ে প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত তুলে ধরা হচ্ছে এ অনুষ্ঠানে। এতে করে সাধারণ লোকজন এ বজ্রপাত সম্পর্কে সচেতন হতে পারবে বলে আশা করা যায়। অনুষ্ঠানে আলাপচারিতায় অংশ নিয়েছেন নাট্য অভিনেতা রাশেদ মামুন অপু ও বজ্রপাত বিষয়ে অভিজ্ঞ বাবলী সুরাইয়া। বিজ্ঞাপন চিত্রটি তৈরি হয়েছে জাইকা, এটুআই ও বিটিভির উদ্যোগে।

একটি চিঠি এবং

ইএনএ নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম এর মালিক সম্পাদক, ইস্টার্ন নিউজ এজেন্সি এর মালিক সম্পাদক, ফ্রি লেন্সার সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি, চট্টগ্রাম টেলিভিশন শিল্পী সমিতির সভাপতি, কণ্ঠশিল্পী, উপস্থাপক, সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক (!) পরিচয়ে সাংবাদিক নজরুল ইসলাম মাহমুদ নামে জনৈক ব্যক্তি আনন্দনে পাঠানো একটি চিঠিতে তাঁর পাঠপ্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। হযরত আবু বকর সিদ্দিকী (রা.) এর ওফাত দিবস উপলক্ষে প্রচারিত একটি অনুষ্ঠানের সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে উক্ত চিঠিতে তিনি বিটিভি চট্টগ্রামের সবগুলো অনুষ্ঠানের সাফাই গেয়েছেন। যে বক্তব্য তাঁর আয়ত্তে পড়ে না, যে দায়িত্ব কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজারের তার জবাবও তিনি দিয়েছেন। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘আওয়ামী ওলামা লীগের চাপে’ পড়ে তিনি উক্ত চিঠি প্রেরণ করেছেন। আনন্দনের অনিয়মিত পাঠক নজরুল ইসলাম মাহমুদ চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সীমাবদ্ধতা, ভালো মানের অনুষ্ঠান নির্মাণ না হওয়া, কারিগরি সহায়তা না পাওয়া, অনুষ্ঠান সম্পাদনার সময় প্রযোজকের সাথে সঙ্গীত পরিচালককে না রাখা, লাইটিং, সেট ভালো না হওয়াসহ বিভিন্ন বিষয় অকপটে স্বীকার করেছেন, তার জন্য তাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। মূলত আনন্দনের এ আলোচনায় সেসব বিষয়ের ওপরই আলোকপাত করা হয়, যাতে করে এসব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠে ভালো মানের অনুষ্ঠান নির্মাণ করা যায়। গত ১৫ মার্চ প্রকাশিত এ আলোচনায় ওই অনুষ্ঠান সম্পর্কে উপস্থাপকের অনভিজ্ঞতা, অদক্ষতা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। বিষয়টি অস্বীকার করে নজরুল ইসলাম মাহমুদ বলেছেন, উপস্থাপক সংকট কাটানোর জন্য নতুন উপস্থাপক দিয়ে অনুষ্ঠান নির্মাণ করা হচ্ছে। উপস্থাপক দক্ষ, উচ্চারণও নির্ভুল। আলোচকগণ মাদ্রাসা শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী বিধায় তাদের উচ্চারণে ভুল থাকতে পারে। আমরা তাঁকে অনুরোধ করব, অনুষ্ঠানটি আবারো দেখার জন্য। এখানে উল্লেখ্য, যে বিষয়টি আমরা প্রকাশ করিনি তা হলো, এ অনুষ্ঠানের উপস্থাপক, অনুষ্ঠানের সঙ্গীত পরিচালক নজরুল ইসলাম মাহমুদের সন্তান। ব্যক্তিগত বিষয়টিকে আমরা গুরুত্ব দিইনি। কিন্তু নিজের ছেলের পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে তিনি পুরো টেলিভিশনেরই দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নিলেন। সাধারণত একটি অনুষ্ঠানে উপস্থাপক কে হবেন তা নির্ধারণ করবেন অনুষ্ঠানের প্রযোজক। সঙ্গীত পরিচালক নন। তাঁকে কেই বা উপস্থাপক সংকট কাটানোর দায়িত্ব দিয়েছে সেটাও প্রশ্ন। যাই হোক, তিনি ওই পত্রে আরো যেসব বিষয় নিয়ে আলোকপাত করেছেন তা তার এখতিয়ার বহির্ভুত বলে আমরা জবাব প্রদান থেকে বিরত থাকলাম। আশা করি ভালো অনুষ্ঠান নির্মাণে তিনি আরো বেশি দক্ষতার পরিচয় দেবেন।

x