একটি অনন্য উদ্যোগ

স্বপ্নডাঙ্গায় বসে অভিভাবকরা দেখেন শিশুদের সাঁতার প্রশিক্ষণ

মীর আসলাম, রাউজান

সোমবার , ১১ মার্চ, ২০১৯ at ১০:৩৪ পূর্বাহ্ণ
1100

পরিবারের ফুটফুটে আদরের সন্তানটি ঘরের বাইরে এসে খেলছে। সাথে সমবয়সী শিশুদের নিয়ে বাড়ির আঙিনায় নিজেদের খেয়াল খুশি মত ছুটাছুটি। নিজেদের মত করে খেলার ফাঁকে একে অন্যের সাথে ছুটতে গিয়ে মাটিতে পড়ে তারা কখনো হাসি, কখনো বা চিৎকার করে কেঁদে ঘরের ভিতরে থাকা মা’র দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করে। গ্রামীণ জনপদের শিশুরা এভাবে ঘরের বাইরে খেলতে গিয়ে কেউ কেউ দলছুট হয়ে পাশের পুকুর বা ডোবার দিকে চলে যায়। শিশুতোষ মনে পানির ছোঁয়া পাওয়ার নেশায় পুকুর ডোবায় নেমে পড়লে শরীরের ভারসাম্য হারিয়ে ডুবে মারা যায়। এ ধরনের পরিবেশ পরিস্থিতিতে পড়ে সন্তানহারা পরিবারের মধ্যে চলে শোকের মাতম। অকালে ঝরে যাওয়া অবুঝ শিশুটির জন্য গোটা এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।
সামপ্রতিক বছরগুলোতে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঘটনা বিশ্লেষণ করে জানা যায়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পানিতে ডুবে মৃত্যুর জন্য দায়ী পরিবারের সদস্যরা। বিশ্লেষকদের মতে অবুঝ শিশুটির প্রতি পরিবারের সদস্যদের নজরদারি না থাকায় আদরের সন্তানটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হয়। মৃত্যুর জন্য এক্ষেত্রে সর্বাগ্রে দোষ পড়ে শিশুটির মা’র উপর। দায়ি করা হয়ে থাকে বিদেশি টিভি সিরিয়ালের আসক্তিকে। এক থেকে দেড়- দুই বছরের শিশুরা পানিতে ডুবে মারা যাওয়ার ঘটনার পাশাপাশি ৩ থেকে ১৫ বছরের শিশুরাও মারা যায় পানিতে ডুবে। এ বয়সী শিশুরা মারা যাওয়ার অন্যতম কারণ সাঁতার না জানা। এক্ষেত্রেও দায়ী করা হয় সচেতন অভিভাবকদের। বয়স বাড়ার সাথে সাথে সন্তানদের পুকুরে নিয়ে সাঁতার শিখানোর ব্যবস্থা না করার কারণে অনেকেই কচি বয়সে প্রাণ হারাতে হয় বলে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে ধারণা পাওয়া যায়, পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঘটনা রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, হাটহাজারী ও ফটিকছড়িতে উদ্বেগজনক।
আশার কথা হচ্ছে রাউজানের শিশুদের পানি থেকে রক্ষায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম হোসেন রেজা এক অন্যন্য ভূমিকা রেখে চলেছেন। তিনি তার সরকারি বাসভবনের সাথে থাকা পুকুরটিকে শিশুদের সাঁতার শিখানোর জন্য উপযোগী করে গত এক বছর ধরে সাঁতার শিখানোর কাজ করছেন। তিনি এ কাজে সহযোগিতা নিয়েছেন রাউজান ফায়ার সার্ভিস ও স্কাউট দলের কাছ থেকে। পুকুর পাড়ে নির্মিত “স্বপ্নডাঙ্গা” নামের বৈঠকখানায় বসে অভিভাবকরা দেখেন শিশুদের সাঁতার শিক্ষার ওই প্রশিক্ষণ। কোনো সময় ইউএনও নিজে পুকুরে নেমে শিশুদের হাতে ধরে সাঁতার শিখতে সাহায্য করেন। তিনি পানি থেকে শিশুদের রক্ষায় অভিভাবকদের সচেতন করতে দিক নির্দেশনা প্রদান করে আসছেন। রাউজানের সচেতন মহলের মতে ইউএনওর ব্যবস্থাপনায় সাঁতার শিখানোর উদ্যোগ এলাকার মানুষ আশান্বিত হয়েছে। এ উদ্যোগের ফলে রাউজানে অনেক শিশু এখন সাঁতার শিখে পানিতে ডুবে মরার মত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম হোসেন রেজার সাথে এ নিয়ে কথা বললে তিনি বলেন রাউজানে যোগদানের পর থেকে ভাল ও মানবিক কাজের প্রেরণা পেয়েছি এলাকার সাংসদ এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর কাছ থেকে। তিনি সব সময় চান রাউজানের সকল মানুষ থাকুক নিরাপদ, হউক সুখি। এ উপজেলার প্রতিটি জনপদ হউক সমৃদ্ধ ও ফুলে ফলে ভরা। নিজকে সাধারণ মানুষের একজন সেবক হিসাবে উল্লেখ করে বলেন আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও স্কুল শিক্ষকের সন্তান। বুকে দেশপ্রেম নিয়ে নিজের উপর অর্পিত দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করে যেতে চাই। পাশাপাশি এলাকার সুন্দর শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার জন্য জনমত সৃষ্টি করতে চেষ্টা করি। ভাল কাজে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করি, মানবিক ও বিবেকের প্রশ্নে কিছু কিছু দায়িত্ব নিজের থেকে করার চেষ্টা করি।

- Advertistment -