একজন মানবিক প্রধানমন্ত্রী ও শিশুদের যুগোপযোগী সৃজনশীল শিক্ষা পদ্ধতি

শাহিদা আকতার জাহান

শনিবার , ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ at ৮:৩৪ পূর্বাহ্ণ
138

প্রতিটি দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হচ্ছে সে দেশের শিশুরা। তাই তাদেরকে মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক মূল্যবোধ, র্ধমীয় অনুশাসন আর নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে। বর্তমানে নতুন প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঠিক ইতিহাসকে সবোর্চ্চ গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষা দিতে হবে। তাহলে তাদের মনে দেশপ্রেমের বীজ অঙ্কুরিত হবে।তারা হবে দেশের প্রতি এবং দেশের ইতিহাসের প্রতি আত্মবিশ্বাসী, রাষ্ট্রের এবং পরিবারের একটি সুস্থ সুন্দর ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে আমাদের নিশ্চিত করতে হবে, সকল শিশুর নিরাপদ জীবন।

আজকাল আমরা সব সময় দেখি পরিবারের বাবামা ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার জন্য যতটা উদগ্রীব ও সচেতন থাকেসৃজনশীল, প্রতিযোগিতামূলক, সুস্থ সংস্কৃতি, বাঙ্গালি সংস্কৃতি, মনোবিকাশের দিকে তাদের ততটা আগ্রহ কিংবা গুরুত্ব নেই। শিশুকিশোরদের স্কুলকলেজে বাঙালি সংস্কৃতিমূল্যবোধসৃজনশীলতা ও মননশীলতার উপর শিক্ষা দিতে হবে। প্রতিটি শিশু জন্ম গ্রহণ করে স্রষ্টা প্রদত্ত মেধা নিয়ে । তবে তা প্রথমে নির্ভর করে তার পরিবারের উপর। একটু বড় হওয়ার সাথে সাথে শিক্ষকের উপর ও পরিবেশের উপর। একটি জাতির মেরুদণ্ড হলো শিক্ষা। সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে সুশিক্ষিত জনগোষ্ঠী প্রয়োজন। মননশীল দেশপ্রমে উদ্বুদ্ধ, অসাম্প্রদায়িক মনোভাব, বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ গঠনে তথ্য প্রযুক্তিতে পারদর্শী হতে হবে। আদর্শ ও শিক্ষিত জাতি গঠনে সুশিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। আদর্শ শিক্ষার্থীরা দেশও জাতিকে বিশ্বের দরবারে নিয়ে যাবে। আদর্শ শিক্ষার জন্য আদর্শ শিক্ষক দরকার। মানুষের জীবনের উৎকর্ষ সাধনের জন্য সুশিক্ষার বিকল্প নেই। দেশের উন্নয়ন ও উন্নত জীবন যাপন নিশ্চিত করতে হলে দেশের প্রতিটি মানুষকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে। আজকের শিশুরাই এ দেশকে আগামী দিনের প্রযুক্তিনির্ভর সমৃদ্ধশালী আলোকিত বাংলাদেশ হিসেবে বিশ্বে পরিচিত করবে।

এই সুন্দর পৃথিবী তথা চির সবুজের লীলাভুমি সুজলাসুফলাশষ্যশ্যামলা সোনার বাংলাকে বাসযোগ্য করতে হলে যুগোপযোগী শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। মুক্ত জ্ঞান চর্চা ইতিহাসের প্রকৃত পথ দেখায়। দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ হচ্ছে নতুন প্রজন্মের মেধা।

জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আরষ্ঠ, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’এ যৌক্তিক বাক্যটাকে কখনো অস্বীকার করতে পারবো না। একটি বিশাল অট্টালিকা দাঁড়িয়ে থাকে মজবুত ভিতের উপর, একটি বৃক্ষ দাঁড়িয়ে থাকে তার অসংখ্য শিকড় দিয়ে। মানুষের মেরুদণ্ড আছে তাই মানুষ চলাফেরা করে মেরুদন্ডের উপর ভর করে।

শিক্ষক ও অভিভাবকদের দায়িত্ব হলো সময়ের বাস্তবতা বুঝে শিশুর সুন্দর বিকাশের পথকে সহজ,সত্য সুন্দর করে গড়ে তোলা। অন্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে শিশুদেরকে প্রতিযোগিতায় ফেলে দেওয়া মোটেই উচিত নয়। শিশুর মেধা বিকাশের জন্য উদার উন্মুক্ত পরিবেশ যেমন, তেমনি মা,বাবা ভাই বোন ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ভালবাসা এবং ভালো বন্ধুদের সাহচর্য ও সমর্থনও প্রয়োজন যাতে তারা নীতিনৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক মূল্যবোধ, আত্মপ্রত্যয়,দায়িত্ব সচেতন ও নিজেই উদ্ভাবনী ক্ষমতাসম্পন্ন, ব্যক্তিত্ববান,আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। তাহলে এ শিক্ষা পরবর্তীতে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে বাস্তবে প্রতিফলিত হবে। তাই মানুষ শ্রদ্ধা করে শিক্ষিত আলোকিত মানুষদেরকে।

বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর সর্ব প্রথম ১৯৭৪ সালে শিক্ষা নীতি জারি করে। পরবর্তীতে ৪ টি শিক্ষা কমিশন গঠন করা হলেও ৭৫ এর ১৫ আগষ্টের পর শহর ও গ্রামের শিক্ষার মানের মধ্যে সুষম বণ্টন করা সম্ভব হয়নি। ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করার বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা থাকলে ও অতীতে কোন সময় তা নেওয়া হয়নি।একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষার প্রধান উদ্দেশ্য নিজেকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। আর এ জন্য দরকার সঠিক ইতিহাস, দক্ষ শিক্ষক, মান সম্মত পাঠ্য বই ও পর্যাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।সরকারিবেসরকারি বৈষম্য ছিল যেমন চিরাচরিত প্রথা, তেমনি শহর ও গ্রামের বৈষম্যও ছিল ঠিক একই রকম।

গ্রামেই ৬৫ ভাগ মানুষ বাস করে, এ বিপুল জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে দেশ উন্নতি লাভ করতে পারে না। দীর্ঘ দিন যারা ক্ষমতায় ছিল তারা এ বৈষম্যগুলো একবারও ভেবে দেখেন নি। সুশিক্ষা বলো, মান সম্নত শিক্ষা বলো, শিক্ষার জন্য সবচেয়ে বেশি দরকার ছিল,মনোবিজ্ঞান সম্মত শিক্ষক। এ শিক্ষকদের অনেক যোগ্যতা ও দক্ষতা এবং অনেক গুণাবলী থাকা দরকার। তন্মধ্যে তিনটি গুণ অপরিহার্য তা হলোপেশাগত দক্ষতা (কমিটমেন্ট) বিষয় জ্ঞানের উপর দখল এবং শিখনের কলাকৌশলের উপর দক্ষতা। বিগত জোট সরকার এগুলোর মধ্যে কোনটির উপরই গুরুত্ব দেননি।

৭৫ সালের পর থেকে আমরা দেখেছি, এ বুনিয়াদি শিক্ষায় শিক্ষিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা স্কুল ছেড়ে নিজ বাড়ি ছেড়ে এবং সন্তান পরিবার পরিজন ছেড়ে রাজধানীতে যৌক্তিক অধিকার আদায়ের জন্য জড়ো হতো। রাস্তায় মিটিঙে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে অনেক শিক্ষক প্রাণ দিয়েছেন। লাঠিপেটা কাঁদানো গ্যাস থেকেও রক্ষা পাননি বিএনপি জোট সরকারের আমলে।

জাতি গঠনে এই শিক্ষকরাই বুনিয়াদি শিক্ষার মূল ভিত তৈরি করে দেয়। চরম দুর্ভাগ্য হলেও সত্য যে এই শিক্ষক জনগোষ্ঠী বার বার চরম অবহেলিত হিসেবে সমাজে পরিচিত ছিল। একটি শিশু মায়ের কাছ থেকে সরাসরি চলে আসে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের কাছে, একটি শিশুর জীবনে স্কুলের প্রথম পাঠটি সব চাইতে বেশি গুরুত্বপূর্ণ তাই শিশুটির জীবনে শিক্ষার শুরুটা যদি মজবুত না হয়, তাহলে পরবর্তী জীবনে শিশুটির দুর্ভোগ হবে তাতে কোন সন্দেহ নেই। চিন্তা করা যায়, এ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা মাত্র ৫০০ টাকা সম্মানি ভাতা নিয়ে দিনের পর দিন পরিবার পরিজন নিয়ে কষ্টে এবং অসহায়ের মতো জীবন যাপন করতো। তারপরও এ মহান সম্মানি পেশা থেকে সরে আসেনি।এ প্রাথমিক শিক্ষা বুনিয়াদি শিক্ষা, হাজার হাজার বার শুধু শুনে এসেছি, কিন্তু তার অর্থবহ বিকাশ দেখিনি কখনও। ৪৮, ৫২,৬৯ এর আন্দোলনের ফলে আমাদের বাংলার ভাগ্যাকাশে উদিত হলো ১৯৭১ সাল।বীর বাঙালিরা দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করলো। ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধুর হত্যার মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন এ দলকে ক্ষমতা থেকে বাইরে রেখে এ দেশ অন্ধকার থেকে আলোতে প্রবেশ করতে পারলো না।

ফলে দীর্ঘ সংগ্রামের ফলে বাংলার মানুষের ভাগ্যের দুয়ার খুলে দেয় ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্ব্বর এর নির্বাচন সাধারণ নির্বাচনের পূর্বে আওয়ামীলীগের সভানেত্রী ও সাহসী নেত্রী, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্লোগানকে সামনে নিয়ে আসে। এটিকে নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করেন। নতুনের প্রতি সবার আগ্রহ থাকাটা স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। আমরা বাঙ্গালিরা মেধাবীরাও সৃষ্টিশীলকে প্রাধান্য দিতে জানি। তাই তরুণ প্রজন্ম এ নতুন শ্লোগানের প্রতি ব্যাপকভাবে আকৃষ্ট হয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অগাধ বিশ্বাস রেখে ব্যালটের মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন দেয়। (বাকি অংশ আগামী সংখ্যায়)্ল্ল

আওয়ামীলীগ বিপুল ভোটে জয়লাভ করে।আর এ লক্ষ্য অনুযায়ী এগিয়ে যাচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশ। এক একটা ডিজিটাল সেবা জনগনের দ্বারগোড়ায়। শুরু থেকে একটি দল এ ডিজিটাল বাংলাদেশকে নিয়ে অনেক টিপ্পনিও বিদ্রুপ করতো। আজ বাংলার দিন মজুর কৃষকও অবাক হয়ে দেখছে এ ডিজিটাল বাংলাদেশের শত শত অর্জন। ৭৫ এর পর থেকে যে শিক্ষকরা অবহেলিত ছিল তাদের মুখে আজ আনন্দের হাসি বইছে। বিগত জোট সরকার শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন আপনারা সংখ্যায় বেশি, দেশের সীমিত সম্পদ, তাই আপনাদেরকে সরকারীকরণ করা সম্ভব নয়। ২০০৮ এর পর ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধু কন্যা গণমানুষের নেত্রী বুঝিয়ে দিলেন, সীমিত সম্পদের মাঝেও মানুষের যৌক্তিক দাবি মেনে নিতে হবে, কোন আন্দোলন নয়, যৌক্তিকতার কারণে,গত ৯ জানুয়ারি২০১২, প্রতিটি শিক্ষানুরাগী মানুষ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে দোয়া করবে, অভিনন্দন জানাবে। দেশের ১লক্ষ ২৬ হাজার ১৯০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় একসাথে জাতীয়করণ করেছেন। শিক্ষকরা চেয়েছিল শুধু রেজিস্টারড, বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ। জননেত্রী শেখ হাসিনা পিতার আদর্শকে ধারণ করে স্থায়ী নিবন্ধন প্রাপ্ত কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, এনজিওসহ প্রাথমিক স্তরের সকল বিদ্যালয়কে জাতীয়করণের ঘোষণা দিল। এর ফলে ১লক্ষ ৩ হাজার ৮৪৫ জন শিক্ষকের চাকুরি সরকারিকরণের আওতায় এল।যার ফলে এই অসহায় শিশু ও তাদের পরিবারের মাঝে আনন্দের বন্যা বয়ে গেল। প্রাণভরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তারা দোয়া করছেন। জাতীর জনকের কন্যা শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের কষ্টের অবসান ঘটালেন। কারণ তিনি বুঝতে পেরেছিলেন বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে, প্রযুক্তি নির্ভর প্রজন্ম গড়ে তুলতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর জাতি ছাড়া বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলা অসম্ভব।

আর এই প্রযুক্তি নির্ভর জাতির প্রথম ও প্রধান শক্তি এই কোমলমতি শিশুদেরকে সঠিকভাবে তৈরি করতে হবে এবং প্রাথমিক শিক্ষার ভিত আরো দৃঢ় করতে হবে। স্বাধীনতার পর প্রথম ১৯৭৩ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৩৬ হাজার ১৬৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেছেন। ৭৩ এর পর এই প্রথম পিতার আদর্শকে ধারণ করে আরেক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশকে দেশের শিক্ষক সমাজকে আরেক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেলেন।

আজ আমরা যদি শিক্ষা ক্ষেত্রের দিকে তাকাই তাহলে আমরা অসংখ্য সাফল্য দেখতে পাই। সরকার শিক্ষাকে একটি নীতিমালার মধ্যে নিয়ে এসেছেন।সঠিক ইতিহাস দ্ধারা পরিচালিত মনোবিজ্ঞান সম্মত বই, দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ, শিশুর রয়স, সামর্থ্য,রুচি, অভিরুচির উপর ভিত্তি করে বছরের প্রথম দিন উৎসব মূখর ভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হাতে বিনামূল্যে ৩৫ কোটি ৪২ লক্ষের অধিক বই বিতরণ করা হয়। শিশুরা সুন্দর পরিবেশে লেখা পড়ার সুযোগ পাওয়ায় ক্রমান্বয়ে শিশুরা সুশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার দিক নির্দেশনামূলক শিক্ষায় পরিচালিত হচ্ছে,এতে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, দক্ষতা, দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধের সমন্বয়ে তার দৈহিক, মানসিক, নৈতিক মানবিক ও নান্দনিক বিকাশ সাধন হয়। এতে শিক্ষার্থীরা সুশিক্ষায় অর্জন করে উন্নত জীবনের স্বপ্ন দর্শনে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে।

আজ প্রাকপ্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করে শিক্ষক নিয়োগ প্রদান করেছেন বর্তমান সরকার। দপ্তরি নিয়োগ করেছেন প্রতিটি বিদ্যালয়ে। শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি করেছেন। ডিজিটাল ক্লাসরুম, আইটি ল্যাবসহ অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। নতুন প্রজন্মকে তথ্যপ্রযুক্তিতে অভ্যস্ত করার উদ্যোগ নিয়েছেন। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যামিক স্তরের পাঠ্যপুস্তকগুলো নিয়ে ইবুক তৈরি করেছেন। কম্পিউটার শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হলো শিক্ষা ক্ষেত্রে। সরকার প্রতিটি স্কুলে কম্পিউটার দিয়েছেন। প্রতিষ্ঠা করেছে মাল্টিমিডিয়া ভিত্তিক ক্লাসরুম। বিভিন্ন শিক্ষা ক্ষেত্রে তিন হাজারের ও অধিক আইটি ল্যাব স্থাপন করেছেন। ইন্টারনেটের মাধ্যমে স্কুলে কলেজে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিকে সহজ ও দুর্নীতিমুক্ত করেছেন। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মা’দের কাছে উপবৃত্তির টাকা প্রদান ও যারা হত দরিদ্রা মা তাদেরকে মোবাইল ক্রয় করে দিয়েছেন। ২০৫০০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বল্পমূল্যে দোয়েল ল্যাপটপ বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া উচ্চ শিক্ষা বিস্তারে ‘পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’, ‘বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়’, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, পাশাপাশি খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী আরাবী বিশ্ববিদ্যালয়, ডিজিটাল ইউনিভাসিটি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে। ১৫০০ নতুন প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ১৬০২৪ টির অধিক মাধ্যামিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসাকে এমপিও ভুক্ত করা হয়েছে। এখনও এমপিও ভুক্তি প্রক্রিয়াধীন। দ্বাদশ শ্রেণি পর্ষন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থা প্রণয়ন করা হয়েছে। সকল জেলাউপজেলায় ৫৬০ মডেল মসজিদ। এর ব্যায় ধরা হয়েছে ১১হাজার কোটি টাকা, একটি মসজিদের জন্য ব্যায় ধরা হয়েছে ১১ কোটি টাকা। ১০১০ টি দারুল আরকান ইবতেদায়ী মাদ্রাসা স্থাপন এর জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৫ শ কোটি টাকা। আজ নারী শিক্ষায় অসামান্য অবদানের জন্য ২০১৪ সালে ইউনেস্কো কতৃর্ক ‘ট্রি অব পিস’ পদকে ভূষিত করা হয়। নারী ক্ষমতায়নে অসামান্য অবদানের জন্য ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রীকে গ্লোবাল ফোরাম ফর ডেভেলপমেন্ট এবং ইউনাইটেড ন্যাশনাল এর পক্ষ থেকে প্লানেট ৫০৫০ চ্যাম্পিয়ন এবং ‘এজেন্ট অব চেঞ্জ’ পদকে করা হয়েছেন। আজ পুরুষের পাশাপাশি সমান ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের নারী শিক্ষা। এগিয়ে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ।

x