এই সেঞ্চুরির মাহাত্ম্য অনেক বেশি ওয়ার্নারের কাছে

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার , ১৪ জুন, ২০১৯ at ৫:২৫ পূর্বাহ্ণ
8

বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারির পর জাতীয় দলে ফিরে ডেভিড ওয়ার্নার নিজেকে ঠিক কতটা মেলে ধরতে পারেন সেটাই ছিল দেখার বিষয়। প্রথম ৩ ম্যাচে রান পেলেও মন্থর গতির ব্যাটিংয়ের জন্য সমালোচনাকারীদের কটু কথা শুনতে হচ্ছিল তাকে। যদিও নির্বাসন শেষে ক্রিকেটে ফিরেই খেলতে এসেছিলেন ওয়ার্নার বাংলাদেশের বিপিএলে। এরপ খেললেন আইপিএলে। দুটি টুর্নামেন্টেই ব্যাট হাতে ঝড় তুলেছিলেন এই অসি ওপেনার। ত্‌ে বিশ্বকাপের শুরু থেকেই কেমন যেন ছিলেন বিবর্ণ। বিশেষ করে ভারতের বিপক্ষে তার ব্যাটিং-ই অস্ট্রেলিয়াকে ডুবিয়েছে বলে মনে করছিলেন অনেকে। কিন্তু পাকিস্তানের বিপক্ষে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি করে সব সমালোচনাকারীদের টুঁটি যেন চেপে ধরলেন এই অসি ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার।
গত বুধবার পাকিস্তানের বিপক্ষে ১১১ বলে ১০৭ রানের ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলেন ওয়ার্নার। ১ বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে দলে ফেরার পর যা প্রথম। আর এই সেঞ্চুরির পর যারপরনাই তাই খুশি তিনি। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ১৫তম সেঞ্চুরি তুলে নিলেন ডেভিড ওয়ার্নার। তবে তার কাছে এই সেঞ্চুরির মাহাত্ম্য অনেক বেশি বলে ম্যাচ শেষে জানালেন ওয়ার্নার। ম্যাচ শেষে ওয়ার্নার বলেন ইনিংসের শুরুর দিকে বল বেশি মুভ করছিল। এ কারণে আমাকে শক্তভাবে বলগুলো মোকাবিলা করতে হচ্ছিল। একজন ব্যাটসম্যান হিসেবে এই সেঞ্চুরি আমার কাছে অনেক কিছু। পাকিস্তান তাদের সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়েছে। তবে আমাদের বোলাররা ভালো বল করেছে। তাই বলতে পারি দুর্দান্ত একটি ম্যাচ ছিল এটি।’ যদিও এই ম্যাচে এক সময় পাকিস্তানের দিকেই ঝুকছিল ফলাফর। আবার এক সময় আমাদের দিকে। তবে শেষ পর্যন্ত আমরাই জিতেছি।
নিষেধাজ্ঞা পাওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার জার্সি গায়ে আর কোনোদিন সেঞ্চুরি করতে পারবেন কিনা সে ভয় সবসময় তাড়া করে বেড়াত বলেও জানান ওয়ার্নার। তিনি বলেন আমার মাথায় সবসময় এই ব্যাপারটি কাজ করত। আর আমি মনে করি, এই একটা জিনিসই আমাকে সবসময় সাহায্য করেছে। আমি নিজেকে যথাসম্ভব ফিট রেখেছি। এ ছাড়াও টি-টোয়েন্টি লিগগুলোতে রানের পর রান করার চেষ্টা করেছি। নিজেকে ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে স্ত্রী ক্যানডিসের সহযোগিতা পেয়ে অভিভূত ওয়ার্নার। প্রকাশ্যে খারাপ সময়ের কথা স্মৃতিচারণও করেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। তিনি বলেন ‘টি-টোয়েন্টি লিগগুলোতে রান পাওয়ার আগে আমি বিছানা ছেড়ে ঠিকভাবে উঠতেই পারতাম না। তবে আমার বাচ্চারা আর আমার স্ত্রী আমাকে সবসময় সাহায্য করেছ। আমি আমার ঘর, আমার পরিবার থেকে অনেক সমর্থন পেয়েছি। বিশেষ করে আমার স্ত্রী। সে আমার পরশমণি। সে অবিশ্বাস্য। সে সর্বদা আমার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, বিনয়ী ও নিঃস্বার্থ ছিল। তার অনুপ্রেরণা সব সময় কাজে দিয়েছে আমার। ওয়ার্নার বলেন এভাবে সেঞ্চুরি করতে পারাটা সত্যিই দারুণ একটি ব্যাপার। তিনি বলেন লম্বা সময় বাইরে থাকার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে নিজেকে ফিরে পাওয়াটা আসলেই কঠিন কাজ। তবে আমি সেটা পেরেছি। আর সে জণ্য আমি দারুণ খুশি। এখন সামনের ম্যাচ গুলোতেও নিজেকে শতভাগ ফিরে পেতে চাই। কারন বিশ্বকাপ জিততে হলে যে তাকে আরো ভাল খেলতে হবে। যদিও ওয়ার্নারের এই সেঞ্চুরির পথে পাকিস্তানের ফিল্ডারদের অবদান কম ছিল না। কারণ তারা ওয়ার্নারের একাধিক কাচ ছেড়েছেন। যদিও ওয়ার্নার বলেন এটি খেলারই অংশ। এটা আপনার ভাগ্য। আর খেলার মাঠে ভাগ্যেরও সহায়তা দরকার হবে। তাই আমি আরো বেশি খুশি। তবে যে ম্যাচটা চলে গেছে সেটা নিয়ে আর ভাবতে চাই না। এখন সামনের ম্যাচ গুলোতে কিভাবে আরো ভাল করা যায় তাই নিয়ে ভাবছি আমরা।

x