এই গরমে ফিট থাকুন

রাদিয়া জাবীন

রবিবার , ২৮ এপ্রিল, ২০১৯ at ১০:৩৬ পূর্বাহ্ণ
99

চৈত্রের রোদের তেজ দেখেই ভয় পাচ্ছেন সবাই। এখনই যদি এই হয়, তাহলে কী হবে, তাই ভেবেই শিউরে উঠছেন অনেকেই। আর গরম পড়া মানেই হাজারটা সমস্যা দেখা দেবে আপনার শরীরে। যার মধ্যে অন্যতম ত্বক এবং চুলের সমস্যা। অতিরিক্ত ঘামের কারণে অনেকসময়েই দেখা দেয় নানান অ্যালার্জি। ঘামে ভেজা চুলের থেকেও হয় অনেক সমস্যা। তবে এই গরমে নিজেকে কীভাবে ফিট অ্যান্ড ফাইন রাখবেন তারই কিছু টিপস্‌্‌ এখানে দেয়া হলো-
এই গরমে সুস্থ এবং সতেজ থাকতে কী করবেন আর কী করবেন না :-
<সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা, এই সময়টাতে রোদের তেজ সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই চেষ্টা করুন এই সময়টায় না বেরোতে। তবে যাঁদের রোজ বাইরে বেরোতে হয় তাঁদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা কার্যত অসম্ভব। তবুও চেষ্টা করুন স্কুল-কলেজ কিংবা অফিসে একটু তাড়াতাড়ি পৌঁছে যেতে। আর অবশ্যই রোদের তেজ খানিক কমলে বাড়ি ফিরুন। সবসময় এটা সম্ভব হবে না। তাই যতটা সম্ভব চেষ্টা করুন। < গরমকালে মাথায় বা গায়ে কোনোওরকম তেল মাখবেন না। এতে অ্যালার্জি, কিংবা ঘামাচির পরিমাণ বাড়তে পারে। < সিন্থেটিক পোশাক পরবেন না। যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন। নরম সুতির পোশাকই গরমের জন্য আদর্শ। খুব গাঢ় রংয়ের বদলে একটু হাল্কা রংয়ের পোশাক পরলে অনেক সময় গরমে তা আরামদায়ক হয়। < খুব তেলমশলা যুক্ত খাবার খাবেন না। এমন খাবার খান যা সহজে হজম হবে। প্রচুর পরিমাণে পানি খান। জলীয় খাবার বা রসালো ফল খেতে পারেন। গরমে রোজ খাবারের পাতে রাখুন তেলমশলা ছাড়া হাল্কা খাবার। টক দই খেতে পারেন। < গরম লাগছে বলে অনেকক্ষণ সময় টানা এসিতে না থাকাই ভালো। কারণ এসির ঠান্ডা হাওয়া আপনার চুল এবং ত্বককে মারাত্মকভাবে রুক্ষ করে দেয়। < বাচ্চাদের একেবারেই রোদের মধ্যে বেরোতে দেবেন না। বা খেলাধুলা করতে দেবেন না। কারণ চড়া রোদে সানস্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। < বাইরে থেকে খুব ঘেমেনেয়ে এলে যত দ্রুত সম্ভব গোসল সেরে ফেলুন। নইলে শরীরে জমাট বাঁধা ঘামের থেকে ফাঙ্গাল ইনফেকশন হতে পারে। তাছাড়া ঘাম বসে গেলে সর্দি, কাশি, জ্বর হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। < বাইরের গরম থেকে এসে সঙ্গে সঙ্গে ঠান্ডা কিছু খাবেন না। আগে শরীরকে ঠান্ডা হতে দিন। নরমাল টেম্পারেচারের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিন। তারপর ঠান্ডা পানি বা এ জাতীয় জিনিস খেতে পারেন। < গরমে শরীর ঠিক রাখতে সবার আগে যেটা দরকার তা হলো প্রচুর পরিমাণে পানি খাওয়া। লবণ-লেবু দিয়ে সরবত খান। সঙ্গে তাজা ফলের রসও খেতে পারেন। তবে রাস্তাঘাটে একেবারেই ফ্রুটজুস খাবেন না। কারণ এইসমস্ত ফ্রুটজুস থেকে পেটে নানারকম ইনফেকশন হতে পারে। ডাইরিয়া কিংবা জন্ডিস হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। গরমকালে অনেক ফল পাওয়া যায়। শরীর ঠাণ্ডা রাখতে তাই বেশি করে ফল খান। তবে যারা ডায়বেটিক পেশেন্ট তাঁরা মিষ্টি জাতীয় ফল একটু মেপে খাবেন। < রাস্তায় বেরোলে সবসময় সঙ্গে রাখুন সানগ্লাস, ছাতা, স্কার্ফ কিংবা টুপি। আর অবশ্যই ব্যাগে রাখুন পানির বোতল। রাস্তাঘাটে যেখানে সেখানে জল না খাওয়াই ভালো। রোদের তেজ এড়াতে সুতির স্কার্ফে মুখ বা শরীরের অন্যান্য অংশ ঢেকে রাখাই ভালো। < রোদের তাপে শরীরে ট্যান পড়ে যাওয়া গরমকালের একটা বড় সমস্যা। তাই বাইরে বেরোনোর সময় অবশ্যই সানস্ক্রিন লোশন লাগিয়ে বেরোবেন। মুখ কিংবা শরীরের বাকি অংশের ট্যান তুলতে ব্যবহার করুন ঘরোয়া পদ্ধতিতে বানানো ফেস প্যাক। মুলতানি মাটি, গোলাপ জল, শশার রস, টমেটোর রস ট্যান তুলতে খুবই সাহায্য করে। < যদি ঘামাচি হয়, তাহলে ঠাণ্ডা পানিতে ভালো করে গোসল করুন। আর ক্যালামাইন লোশন এবং শরীর ঠাণ্ডা রাখার পাউডার ব্যবহার করতে পারেন। এতে ঘামাচির সমস্যা কমবে। গোসলের পরে সারা গায়েই পাউডার লাগান। যে সব জায়গায় ঘাম জমার সম্ভাবনা বেশি সেইসব জায়গাতে পাউডার লাগাতে ভুলবেন না। এর ফলে শরীরে ঘাম বসবে না। এ ছাড়া ঘামের দুর্গন্ধ এড়াতে বডি স্প্রে বা পারফিউম ব্যবহার করতেই পারেন।

x