এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের দিক নির্দেশনা

সোহানা শরমিন তালুকদার

শনিবার , ৩০ মার্চ, ২০১৯ at ৯:২৯ পূর্বাহ্ণ
197

পরীক্ষার নাম শুনলে কম বেশি সবারই হৃদস্পন্দন কয়েকগুণ বেড়ে যায়। পরীক্ষা না থাকলে ছাত্র জীবন কতই না সুন্দর হত। তাই বলে পরীক্ষা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলে তো আর হবে না। নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ কিন্তু এখানেই। পরীক্ষায় নিজের সেরাটা দিলেই অর্জন করা যায় কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। এ জন্য পরীক্ষার প্রস্তুতিও হওয়া চাই সেরা। পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় সবাই কিছু না কিছু কৌশল অবলম্বন করে। কিন্তু কয়েকটি টিপস্‌্‌ মেনে চললে প্রস্তুতিটি আরও সহজ ও পরিপূর্ণ হয়ে উঠে।
সিলেবাস অনুযায়ী সব শিখতে হবে

এইচএসসি পরীক্ষায় যারা অংশ নিচ্ছে তোমাদের সবার জন্য প্রথমেই শুভ কামনা রইল। প্রথম দিনের পরীক্ষাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্য একটি পরিবেশে তোমরা পরীক্ষা দিবে। এতে অনেককে আতঙ্কগ্রস্ত ও ভয়ের মধ্যে থাকতে হয়। এ সময় অনেকের মধ্যে প্রচুর টেনশন কাজ করে। তাই আমার উপদেশ যতই আলাদা পরিবেশ হোক না কেন এটিকে নিজের প্রতিষ্ঠানের মতোই গ্রহণ করতে হবে। হাতে প্রশ্নপত্র পাওয়ার পর খুব মনোযোগ দিয়ে প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। নৈর্ব্যক্তিক অংশে খুব দ্রুত উত্তর দেয়ার চেষ্টা করা বোকামি। বুঝে উত্তর দিতে হবে প্রশ্ন খুব সহজ ও খুব কঠিন হলে টেনশন করার প্রয়োজন নেই।
পরীক্ষায় আগের রাতে

পরীক্ষার আগের রাতে যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি ঘুমাতে হবে। পরীক্ষার আগের রাত অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ঘুমাতে যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র-কলম, রাবার, পেন্সিল, স্কেল, প্রবেশপত্র, রেজিস্ট্রেশন কার্ড ইত্যাদি গুছিয়ে রাখতে হবে। পরীক্ষার দিন সকালে দ্রুত পড়াশোনা শেষ করে হাতে একটু বেশি সময় নিয়েই পরীক্ষা কেন্দ্রের উদ্দেশ্য রওনা হওয়া উচিত। কেননা, অন্যান্য দিনের তুলনায় পরীক্ষার দিন রাস্তার যানজট একটু বেশি হয়। ৩০ মিনিটের আগে অবশ্যই পরীক্ষা কক্ষে নিজের আসন খুঁজে মাথা ঠাণ্ডা করে বসতে হবে। পরীক্ষার আগের দিন পরীক্ষা কেন্দ্র ঘুরে আসলে কেন্দ্রের পরিবেশ চেনা যায়।
পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের পর

খুব বেশি টেনশন বা উদ্বেগ হয় পরীক্ষার হলে ঢোকার আগে। প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার অপেক্ষায় বসে থাকার সময়টায় বা উত্তর লেখা শুরু করার আগে ধীরে লম্বা, গভীর করে কয়েকবার শ্বাস নেয়া যেতে পারে। প্রশ্ন পাবার সাথে সাথে পুরো প্রশ্নটি একবার পড়ে নিবে। প্রশ্ন কঠিন হলে ঘাবড়ে যাবে না। সহজ প্রশ্নগুলো আগে উত্তর দিবে। কঠিনগুলো শেষের দিকে। পরীক্ষার পূর্বে নিজের খাতার উপর মনোযোগ দিতে হবে। অন্যরা কি করছে সে ব্যাপারে মনোযোগ দেয়ার দরকার নেই।
পরীক্ষার খাতার উপস্থাপন

এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা মনে রাখতে হবে। প্রথম পাতায় রোল নম্বর, রেজি: নম্বর বিষয় কোডের বৃত্ত অবশ্যই সঠিকভাবে ভরাট করবে। নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষার সেট কোডের বৃত্ত অবশ্যই সঠিকভাবে ভরাট করতে হবে। তা না হলে পরীক্ষা মূল্যায়ন যথাযথ হবে না। সুন্দর হাতের লেখা জরুরি, কোন শব্দ লাইন বা অনুচ্ছেদ কেটে দিতে হলে তা এক টানে পরিষ্কার করে কাটতে হবে।
সময়ের দিকে খেয়াল রাখা

সময় ধরে প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। প্রশ্নের হিসাব আগে থেকেই ঠিক করে রাখতে হবে। একটি প্রশ্নের উত্তর দিতে অনেক বেশি সময় খরচ করে ফেললে অন্য প্রশ্নের উত্তর দিতে তাতে প্রভাব পড়বে। এতে বেশ ক্ষতি হবে। সময়ের উপর খেয়াল রেখে উত্তর দিতে হবে।
প্রয়োজনীয় চিত্র দেয়া

প্রশ্নের প্রয়োজনে অবশ্যই ছক কিংবা চিত্র এঁকে দিতে হবে। এতে উত্তরের গুণগতমান বাড়বে। অবশ্য তাড়াতাড়ি আঁকার অভ্যাস থাকলেই এ কাজ পারবে। পদার্থ, রসায়ন, জীব বিজ্ঞানের ছবি অবশ্যই দেবে। গণিতের চিত্র অঙ্কন করবে। গণিতের ক্ষেত্রে খাতায় বা পাশের পাতায় রাফ কাজ হিসাবপত্র করবে, পরে কেটে দেবে। তোমরা অবশ্যই উদ্দীপক ভালো করে পড়বে। প্রয়োজনে কয়েকবার পড়বে।
রিভিশন দেয়া

রিভিশন দেওযার জন্য অবশ্যই সময় রাখতে হবে। সব বিষয়ে রিভিশন জরুরি তবে বিজ্ঞানের সব বিষয়ের ক্ষেত্রে রিভিশন অবশ্যই জরুরি। সামান্য একটি অক্ষর বা সংখ্যার জন্যে সম্পূর্ণ নম্বরই কাটা যেতে পারে। মনে রাখতে হবে পরীক্ষাই হচ্ছে নিজেকে মূল্যায়নের মাধ্যম। তোমরা যেন ঠিক নির্দেশনা পাও তাই আমার এই প্রয়াস। আর একটি কথা আবারও বলছি। যদি বৃত্ত ভরাটে ভুল হয় তবে তা গোপন না করে অবশ্যই কর্তব্যরত শিক্ষকদের অবহিত করবে। যদিও খাতা চেকের (বা সাইন) করার সময় নজরে পড়বে। তবুও তুমি বললে ভাল হবে। শেষে সবার সুস্বাস্থ্য কামনা করছি।

লেখক : বিভাগীয় প্রধান, বাংলা বিভাগ
মহিলা কলেজ, এনায়েত বাজার, চট্টগ্রাম

x