এইচএসসির উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষায় অর্ধ লাখেরও বেশি আবেদন

বেশি পড়েছে ইংরেজি ও আইসিটিতে

আজাদী প্রতিবেদন

শুক্রবার , ২৬ জুলাই, ২০১৯ at ৩:৫০ পূর্বাহ্ণ
139

এইচএসসির উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণে ৫৪ হাজার ২৭৫টি আবেদন জমা পড়েছে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে। যদিও এই সংখ্যা গতবারের তুলনায় কিছুটা কম। পাবলিক পরীক্ষায় উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের ইতিহাসে সর্বোচ্চ আবেদন ছিল গতবারের এইচএসসিতে। গতবার মোট ৬১ হাজার ৬৯৯টি আবেদন জমা পড়ে। এর আগে ২০১৭ সালের এসএসসির উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষায় ৫৭ হাজার ৮১৪টি আবেদন জমা পড়ে। যা বোর্ডের ইতিহাসে রেকর্ড সংখ্যক ছিল। আগের বছর ২০১৬ সালে এইচএসসির উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণে ৫৫ হাজার ৮৭৯টি আবেদন পড়ে। আর ২০১৮ সালের এসএসসির উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণে আবেদন পড়ে ৫৩ হাজার ৫১০টি।
তবে আবেদনের সংখ্যায় আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যায় গতবার এইচএসসির উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণে। প্রথম দফায় প্রকাশিত ফলাফলে সন্তুষ্ট হতে না পেরে ১৭ হাজার ৭৪০ জন শিক্ষার্থী গতবার রেকর্ড সংখ্যক ওই ৬১ হাজার ৬৯৯টি আবেদন করে। আর এবার আবেদনকারীর সংখ্যা ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। হিসেবে আবেদনকারীর সংখ্যা গতবারের তুলনায় ১ হাজার ৬৪ জন কম। এছাড়া আবেদনের সংখ্যাও গতবারের তুলনায় ৭ হাজার ৪২৪টি কম।
বোর্ড সূত্রে জানা যায়- এইচএসসির উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষায় ২০১৭ সালে আবেদন জমা পড়ে ৪৭ হাজার ৭৯০টি। আর আবেদনকারীর সংখ্যা ছিল ১৪ হাজার ৯৪৯ জন। ২০১৬ সালে আবেদনের সংখ্যা ছিল ৫৫ হাজার ৮৭৯টি। ১৪ হাজার ৯২৩ জন আবেদনকারী এসব আবেদন করে। ২০১৫ সালে আবেদন পড়ে ৩৫ হাজার ৩৮৭টি। আর আবেদনকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৯ হাজার ৯৬১ জন। ২০১৪ সালে আবেদন পড়ে ২৪ হাজার ৮০টি। আর চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে সবচেয়ে দুর্বল ফলাফলের বছর ২০১৩ সালে (পাসের হার ছিল ৬১.২২ শতাংশ) সর্বমোট ২৮ হাজার ৮টি আবেদন জমা পড়ে। ওই বছর আবেদনকারীর সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ৯৭৮ জন।
শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা শাখার তথ্য অনুযায়ী- উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষায় গতবারের ন্যায় এবারও সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়েছে ইংরেজির দুই পত্রে। এরপর বেশি আবেদন পড়েছে আইসিটি বিষয়ে। এবারের ফলাফলে ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে কাঙিক্ষত ফল পায়নি শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে ব্যবসায় ও মানবিকের শিক্ষার্থীরা এ দুটি বিষয়ে বেশি খারাপ করেছে। যার কারণে পুনঃনিরীক্ষায় এই দুটি বিষয়ে আবেদন বেশি পড়েছে বলে মনে করেন বোর্ড সংশ্লিষ্টরা। ইংরেজি ও আইসিটির পর এবার বেশি আবেদন পড়েছে বাংলা ও পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ে।
মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে গত ১৮ থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণে এসব আবেদন জমা পড়ে। আগামী ১০ আগস্ট পুনঃনিরীক্ষণের ফলাফল প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মাহবুব হাসান। পুনঃনিরীক্ষণ মানে পুনঃমূল্যায়ন নয় দাবি করে তিনি বলেন, পুনঃনিরীক্ষায় উত্তরপত্রে নম্বর যোগের ক্ষেত্রে কোনো ভুল হয়েছে কিনা, কোনো নম্বর বাদ পড়েছে কিনা, কোনো বৃত্ত ভরাটে ভুল হয়েছে কিনা অথবা নম্বর ভুল লেখা হয়েছে কিনা এসব যাচাই করা হয়। এছাড়া উত্তরপত্র নতুন করে মূল্যায়নের সুযোগ নেই বলে জানান তিনি।
শিক্ষাবোর্ডের তথ্যমতে- ইংরেজি ১ম পত্রে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ১৬৬টি আবেদন পড়েছে এবার। ২য় পত্রে আবেদন পড়েছে ৫ হাজার ৮৪৯টি। ইংরেজির পর ২য় সর্বোচ্চ আবেদন পড়েছে আইসিটি বিষয়ে। আইসিটিতে এবার আবেদন পড়েছে ৪ হাজার ৩১৪টি। ইংরেজি ও আইসিটির পর এবার বেশি আবেদন বাংলায়। বাংলা ১ম পত্রে আবেদন পড়েছে ৩ হাজার ৪৮৭টি। ২য় পত্রে ৩ হাজার ১০০টি। পদার্থ বিজ্ঞান ১ম পত্রে আবেদন পড়েছে ৩ হাজার ৩১০টি। ২য় পত্রে আবেদনের সংখ্যা ২ হাজার ৮৪০টি। এছাড়া রসায়ন বিজ্ঞান ১ম পত্রে আবেদন সংখ্যা ২ হাজার ৯১৪টি। ২য় পত্রে ২ হাজার ৫৩২টি। এছাড়া জীব বিজ্ঞান ১ম পত্রে ২ হাজার ৬১৫টি আবেদন জমা পড়েছে এবার। অন্যান্য বিষয়গুলোতে আবেদনের সংখ্যা তুলনামূলক কিছুটা কম।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে এবার পাসের হার ৬২.১৯ শতাংশ। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৮৬০ জন। গতবার পাসের হার ছিল ৬২.৭৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পায় ১ হাজার ৬১৩ জন। ২০১৭ সালে পাসের হার ছিল ৬১.০৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পায় ১ হাজার ৩৯১ জন।

x