উৎসে ভ্যাট কর্তন : প্রায়োগিক ব্যবস্থার পরিবর্তন

এস. কে. বসাক এফসিএ

সোমবার , ৯ এপ্রিল, ২০১৮ at ১২:৫২ অপরাহ্ণ
55

ভ্যাট একটি কনজুমার বা সেবা গ্রহণকারী কর্তৃক প্রদেয় প্রত্যক্ষ কর ব্যবস্থা। মূল্য সংযোজন কর বিধিমালার বিধি১৮ক, ১৮খ ও ১৮ঙ উৎসে ভ্যাট কর্তন বিষয়ে প্রণীত। এছাড়াও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সময়ে সময়ে সাধারণ আদেশের মাধ্যমে উৎসে ভ্যাট কর্তনের নির্দেশ দান করেন। বাংলাদেশে ব্যবসা বা পেশায় নিযুক্ত কোম্পানী সমূহের উৎসে ভ্যাট কর্তন বিষয়ক নীতি নির্ধারণ ভ্যাট আইনে প্রণীত হলেও উহার প্রায়োগিক ব্যবস্থাপনা ৩০শে জুন, ২০১৬ পর্যন্ত আয়কর আইন, ১৯৮৪ এর ধারা ৩০ এর উপধারা (এএ) দ্বারা শাসিত হতো। ফলে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে উৎসে ভ্যাট কর্তন হয়েছে কিনা, কোম্পানী কর্তৃক দাবিকৃত ব্যবসায়িক খরচ অনুমোদনের ক্ষেত্রে বিজ্ঞ উপকর কমিশনার ভ্যাট আইনের আলোকে অনুমোদন বা অননুমোদন করতেন। এই বিষয়ে কোন ব্যত্যয় হলে পরীদর্শী যুগ্ম কর / অতিরিক্ত কর কমিশনার ও ডাইরেক্টর জেনারেল, কর পরিদর্শন পরিদপ্তর নিবিড় পর্যবেক্ষণ এর আওতায় পুনঃ পরীক্ষার আদেশ প্রদান করতেন। এই বিষয়ে রাজস্ব অডিট ও কর বিভাগের কার্যক্রমের উপর নিরীক্ষা চালাতেন ও রাজস্ব পুনঃ উদ্ধারে প্রায়োগিক ভূমিকা রাখতেন। আয়কর বিভাগের এই ক্ষমতা ৩০ শে জুন, ২০১৬ পর্যন্ত বলবৎ ছিল। অর্থ আইন ২০১৬ এর মাধ্যমে সরকার ১লা জুলাই, ২০১৬ হতে উৎসে ভ্যাট কর্তনের তদারকির ক্ষমতা কর বিভাগ থেকে প্রত্যাহার করে নেয়। ফলে ভ্যাট কর্তৃপক্ষ উৎসে ভ্যাট কর্তনের প্রায়োগিক ক্ষমতা ১লা জুলাই, ২০১৬ এর পর থেকে প্রয়োগ করতে থাকেন। ইতিমধ্যে যে সব কোম্পানীর ৩০ শে জুন ২০১৬ পর্যন্ত কর মামলা সম্পন্ন হয়েছে ও কর পরিশোধ করে কর বিভাগের নিকট থেকে ক্লিয়ারেন্স নিয়ে লভ্যাংশ বন্টনসহ হিসাব চূড়ান্ত করেছেন তারা ও ২০১২ সাল থেকে উৎসে ভ্যাট কর্তন বিষয়ে ভ্যাট কর্তৃপক্ষের নোটিশ পেতে শুরু করেছেন। বিষয়টা সংশ্লিষ্ট সকল কোম্পানীর নিকট বর্তমানে একটা সমস্যা হিসাবে দেখা দিয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নিকট এই বিষয়ে ইতিমধ্যে প্রতিকার প্রার্থনা করা হয়েছে। কোম্পানী সমূহের হিসাব সমূহ রাষ্ট্রায়ত্ত ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ অনুমোদিত ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সাধারণ শেয়ারহোল্ডার কর্তৃক বার্ষিক সাধারণ সভায় অনুমোদিত। আইনের পশ্চাদপদ প্রয়োগের ফলে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। ব্যবসায়ী সমাজে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে এবং এর আশু সমাধান প্রয়োজন।

x