উৎসাহ উদ্দীপনার পাশাপাশি ছিল ভোগান্তিও

চৌধুরী শহীদ, চন্দনাইশ

বৃহস্পতিবার , ২২ মার্চ, ২০১৮ at ৩:২৬ পূর্বাহ্ণ
246

সরকার প্রধান হিসাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়ায় প্রথমবারের মতো আগমন উপলক্ষে সাত উপজেলায় আওয়ামী লীগ দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। এর আগে ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারপ্রচারণা চলাকালীন দলীয় সভাপতি হিসাবে পটিয়ার এই একই মাঠে বক্তব্য রেখেছিলেন শেখ হাসিনা। পরপর দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থাকাকালীন এই প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তাঁর পটিয়ায় আগমনকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগে। গত এক সপ্তাহ জুড়ে সাতটি উপজেলার কেন্দ্র থেকে গ্রাম পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর জনসভার প্রচারপ্রচারণায় ছিল মুখরিত। জনসভা সফল করতে প্রত্যেক উপজেলায় তৃণমূল পর্যন্ত প্রস্তুতি সভার আয়োজন করা হয়। গতকাল ২১ মার্চ বিকেলে পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ময়দানে অনুষ্ঠিত এ জনসভায় সাতটি উপজেলা থেকে সহস্রাধিক গাড়িযোগে এসে নেতাকর্মীরা যোগ দিয়েছেন বলে জনসভা বাস্তবায়নের সাথে সংশ্লিষ্ট এক নেতা জানিয়েছেন। নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ জনগণের বিশাল একটি অংশ স্বতস্ফূর্তভাবে জনসভায় অংশগ্রহণ করে। যার কারণে প্রধানমন্ত্রীর এ জনসভা পটিয়ার ইতিহাসে স্মরণকালের বৃহত্তম জনসভায় পরিণত হয়।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত বিশাল এ জনসভার কারণে গতকাল সকাল থেকেই ভোগান্তিতে পড়তে হয় চন্দনাইশ উপজেলার গাছবাড়িয়া কলেজ গেট থেকে কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা ক্রসিং পর্যন্ত চট্টগ্রামকক্সবাজার মহাসড়কের ৪০ কিলোমিটার এলাকায় চলাচলকারী জনসাধারণকে। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকে মহাসড়কের এ অংশে সব ধরনের যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। চট্টগ্রাম শহর থেকে ছেড়ে আসা যানবাহনগুলোকে শিকলবাহা থেকে চাতুরী চৌমুহনী, ওয়াই জংশন ও আনোয়ারা হয়ে গাছবাড়িয়া কলেজ গেট এলাকা এবং কক্সবাজার ও বান্দরবান থেকে ছেড়ে আসা যানবাহনগুলো গাছবাড়িয়া কলেজ গেট দিয়ে ঢুকে বরকল আনোয়ারা হয়ে শিকলবাহা এলাকা দিয়ে চলাচলের নির্দেশ দেয়া হয়। ফলে গাছবাড়িয়া কলেজ গেট থেকে বাদামতল, রওশনহাট, মুজাফরাবাদ, খরনা, ভাইয়ার দীঘি, চক্রশালা, পটিয়া, আমজুরহাট, গৈড়লা, শাহগদী, নিমতল, মনসা, শান্তিরহাট পর্যন্ত চলাচলকারী জনসাধারণকে সারাদিন চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। যানবাহন চলাচল করতে না দেয়ার কারণে মহাসড়কের এ অংশের আশেপাশে থাকা বেশির ভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রী উপস্থিত হতে না পারায় সেগুলোতে কোন ক্লাস হয়নি।

মহাসড়কে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আইনশৃংখলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে স্বল্প সময়ের জন্যই যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে আগে থেকেই মহাসড়কের এ অংশে যানবাহন চলাচলের ব্যাপারে বিধিনিষেধ জারি করায় সাধারণ জনগণও মহাসড়কের এ পথে খুব বেশি আসেনি বলেও জানান এ কর্মকর্তা।

x