উন্নয়ন তত্ত্ব: সাধারণ মানুষের জীবনমান প্রসংগে

সোমবার , ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ১০:২৩ পূর্বাহ্ণ
31

সরকার তাঁর দুর্বলতা ঢাকতে এবং জনগণকে ভুলিয়ে-ভালিয়ে রাখার জন্যই উন্নয়নকে সামনে তুলে ধরছে। জনগণ যাতে মনে করে বাহ্‌্‌ বেশ উন্নয়ন হচ্ছে। উন্নয়নই তো দরকার গণতন্ত্রের দরকার কি! সরকার জনগণকে এমন একটি ধারার মধ্যে দিয়েই এগিয়ে নিচ্ছে। তবে সরকার যেহেতু চিরস্থায়ী নয় এবং তাকে কোন না কোন সময় ক্ষমতা থেকে সরে যেতে হবে। তখন হয়তো টের পাবে. সাময়িক আরামের জন্য দীর্ঘ মেয়াদে কী ক্ষতিই না হয়ে গেছে। বিশ্লেষকদের কথার সার অংশ এটিই। দুর্বলতা ঢাকতে সরকার নানা কৌশল অবলম্বন করবে এটাই স্বাভাবিক। এই কৌশলের অন্যতম হচ্ছে উন্নয়ন তত্ত্ব। বিচ্ছিন্নভাবে কিছু উন্নয়ন চিত্র দেখিয়েই বলতে হবে উন্নয়ন হচ্ছে। এই উন্নয়ন করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের পকেটে পর্যন্ত হাত দিতে হয়েছে। সব কিছুতেই ভ্যাট বসিয়ে দিয়েছে। গ্যাস, বিদ্যুৎ পানিসহ সেবামূলক সব প্রতিষ্ঠানের বিল গোচরে-অগোচরে বাড়িয়ে দিয়েছে। সামনে আরো বাড়ানো হবে। এতে সাধারণ মানুষ মরল না বাঁচল তা দেখার দরকার নেই। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের একটি কথা খুবই প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেছেন-মাথাপিছু আয়ের হিসেবে বাংলাদেশ ইতিমধ্যে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে পৌঁছেছে। এরপরের স্তর হচ্ছে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ। এ স্তরে পৌঁছাতে হলে মাথাপিছু আয়কে ৪ হাজার ডলারে নিয়ে যেতে হবে।
অথচ বাংলাদেশ যে মধ্যম আয়ের দেশের কথা বলছে, তার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নেই। এটা বাংলাদেশেরই তৈরি। অর্থাৎ সরকার কাগজে কলমে যা ঘোষণা দিয়ে দিচ্ছে, তাই ধরে নেয়া হচ্ছে। এর কোনো বাস্তব ভিত্তি বা মানদন্ড নেই। মানদণ্ড হচ্ছে সরকারের ঘোষণা বা ইচ্ছা। সরকার এখনই ঘোষণা করুক যে আমরা মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছি। তাতে কি আসবে আর যাবে! তাতে কি সাধারণ মানুষের যে দুর্দশা তা বদলে যাবে বা রাতারাতি তাদের জীবন মান একেবারে ঝকঝকে তকতকে হয়ে যাবে? বিশ্লেষকরা কিছু দিন এনিয়ে তর্ক-বিতর্ক করবে তারপর থেমে যাবে। সাধারণ মানুষের জীবনের টানা-পোড়েন যে বদলাবে না তা নিশ্চিত করেই বলা যায়। গত দশকে কয়েক লাখ কোটি টাকা পাচার হওয়ার খবর পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার চুরি হওয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্যাংকে, অনিয়ম, দুর্নীতি, ব্যাপক হারে চলছে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এক ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। ধনিক শ্রেণী আরো ধনী হচ্ছে, গরীব আরো গরীব হচ্ছে। মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। এ পরিস্থিতিতে দেশ প্রকৃত অর্থে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হওয়া আনন্দের হলেও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় তা অনেকটা শুভঙ্করের ফাঁকি হয়েই থাকবে।
এম এ গফুর, বলুয়ার দীঘির দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়, কোরবানীগঞ্জ, চট্টগ্রাম।

x