উন্নয়ন কর্মকাণ্ড কীভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে, সেটাই দেখতে চায় নগরবাসী

বুধবার , ১ আগস্ট, ২০১৮ at ৬:০২ পূর্বাহ্ণ
127

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের তিন বছর পূর্ণ করেছেন। এই তিন বছরে তাঁর নানা কর্মকাণ্ড নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এ উপলক্ষে ৩০ জুলাই নগরীতে আয়োজন করেছেন সুধী সমাবেশের। সমাবেশে বিভিন্ন বক্তা তাঁদের মতামত তুলে ধরেছেন। তবে ওই সমাবেশে উপস্থিত না থেকেও সুধীমহল তাঁদের আলোচনা থেকে মেয়রের কর্মকাণ্ডকে বাদ রাখেন নি। তিন বছরে মেয়রের গৃহীত বিভিন্ন কর্মকাণ্ড যেমন প্রশংসিত হয়েছে, তেমনি হয়েছে সমালোচিতও। আমরা দেখেছি, নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখার ক্ষেত্রে মেয়রের আন্তরিক ভূমিকা খুবই স্পষ্ট। যত্রতত্র ময়লাআবর্জনা পড়ে থাকার ফলে সৃষ্ট ‘উৎকট দুর্গন্ধ’ থেকে রক্ষায় গত তিন বছরে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বেশ কিছু উদ্যোগ প্রত্যক্ষ করেছে নগরবাসী। এসব উদ্যোগের একটি গৃহস্থালী বর্জ্য অপসারণে গৃহীত ‘ডোর টু ডোর ময়লা অপসারণ’ কার্যক্রম। একই সঙ্গে শহরের প্রধান সড়কগুলোর পাশে ময়লা ফেলার জন্য স্থাপিত কন্টেনার অপসারণ এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে স্থাপিত ডাস্টবিন অপসারণ। গৃহীত উদ্যোগগুলোর বেশিরভাগ বাস্তবায়িত হয়েছে মনে করছেন অনেকে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন বিভাগের কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেছেন, উদ্যোগগুলোর বাস্তবায়নের ফলে ‘চট্টগ্রাম শহর আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিচ্ছন্ন’ হয়েছে। তবে একথাও ঠিক যে এই পরিচ্ছন্ন কার্যক্রমে আরো গতি দরকার। সন্তুষ্টি যেন কোনো ক্রমেই অসন্তুষ্টিতে পরিণত না হয়।

সুধী সমাবেশে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালীন কোনো দুর্নীতি করেন নি বলে দাবি করেছেন আ জ ম নাছির উদ্দীন। তিনি বলেন, ‘আমি গর্ব করে এবং জোর গলায় বলতে পারব। কেউ জিজ্ঞেস করলে আমার সাফল্য হিসেবে বলতে পারবো, চুল পরিমাণ দুর্নীতি করিনি। কেউ বলতেও পারবে না। আমি দায়িত্ব গ্রহণের সময় বলেছিলাম, সততার সাথে, স্বচ্ছতার সাথে জবাবদিহিতার মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করবো। ইনশাল্লাহ, গত তিন বছরে আমি সেভাবে দায়িত্ব পালন করেছি। সামনের দিনগুলোতেও করবো।’

দুর্নীতি না করাকে তিনি সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করলেও আসলে সেটা তাঁর সততার লক্ষণ, কাজের সাফল্য নয়। আজকাল ডিজিটাল যুগে দুর্নীতিকে কেউ ঢেকে রাখতে পারে না। কোনো না কোনোভাবে তা প্রকাশিত হবেই। হয়তো দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির শাস্তি সব জায়গায় নিশ্চিত হয় না। আমরা কেবল দেখবো, তাঁর কাজগুলোকে তিনি কিভাবে এগিয়ে নিয়ে গেছেন।

নগর বিশ্লেষকদের মতে, নগরের প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা নিরসনে মেয়র কোনো আশা দেখাতে পারেননি নগরবাসীকে। ভারি বর্ষণের পাশাপাশি জোয়ারের পানিতে নগরবাসীকে এ বছরও ডুবতে হয়েছে আগের মতো। যদিও নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকারের মেগাপ্রকল্প বর্তমানে বাস্তবায়ন করছে সিডিএ। তাই আপাতত জলজটে দুর্ভোগ পোহানোর ক্ষেত্রে নগরবাসীর অভিযোগের তীর মেয়রকে তেমনভাবে বিদ্ধ করবে না। তবু চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের যে নিজস্ব দায়িত্ব, তা থেকে অব্যাহতি দেওয়া যায় না। এই জলাবদ্ধতার সঙ্গে বাড়তি দুর্ভোগ হিসেবে যুক্ত হয়েছে বেহাল সড়ক। শিক্ষা খাতে নীতিমালা করলেও প্রত্যাশিত পরিবর্তন নেই। স্বাস্থ্য খাতও আছে আগের মতো। অথচ জলাবদ্ধতা নিরসনকে ১ নম্বরে রেখে শিক্ষার উন্নয়নে সাত দফা, পরিচ্ছন্ন নগর করতে চার দফা, স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সাত দফা, ডিজিটাল চট্টগ্রাম করতে পাঁচ দফা পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেছিলেন তিনি। পোর্ট কানেকটিং রোড ও আগ্রাবাদ অ্যাক্সেস রোডের সংস্কার কাজে তেমন অগ্রগতি নেই। যদিও বলা হচ্ছে এই কাজ ২০১৯ সালের মে মাসের মধ্যে শেষ হবে। উন্নয়ন কাজ চলমান থাকায় এ দুটি সড়কে এখন ভোগান্তি বেশি। নগরীর অন্য স্থানের সড়ক নিয়মিত সংস্কার করা হচ্ছে। আমরা প্রত্যক্ষ করছি, বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সঙ্গে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সমন্বয়হীনতা। এই সমন্বয়হীনতা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনায় বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে। এব্যাপারে মেয়র বলেছেন, ‘এ জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিব বরাবর চিঠিও দিয়েছি। মন্ত্রণালয় থেকেও প্রকল্প গ্রহণের আগে চসিককে অবহিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মানছে না এই নির্দেশনা।’ আমরা বিশ্বাস করি, চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য সিটি করপোরেশন, ওয়াসা, সিডিএ এবং চট্টগ্রামের সেবাসংসংস্থাগুলোর সমন্বয় দরকার। কেননা উন্নয়ন প্রকল্পগুলো তারাই বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। যতদিন পর্যন্ত এই সমন্বয় হবে না, ততদিন নগরবাসীকে পোহাতে হবে ভোগান্তি।

x