উন্নয়নশীল দেশ এবং আত্মতুষ্টি প্রসংগে

সোমবার , ২২ অক্টোবর, ২০১৮ at ৬:১৬ পূর্বাহ্ণ
27

প্রায় ৪৩ বছর পর উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেল। এ অর্জন নিয়ে খুব বেশী আত্মতুষ্টিতে না ভুগে সামনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুতি নেয়া উচিত। এক সময় বাংলাদেশ ক্ষুধা, দারিদ্র্য, দুর্ভিক্ষ, অধিক জনসংখ্যা আর প্রাকৃতিক দুর্যোগের দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল। নানা রকম প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি মানব সৃষ্ট অনেক দুর্যোগ ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেই বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে এ ধাপগুলো অতিক্রম করতে আমাদের খুব সাবধানে পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশ্ব ব্যাংকের মতে উন্নয়নের ১২টি সূচকের বেশীর ভাগই বাংলাদেশ পূরণ করেছে। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৩৪ তম। ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলংকার চেয়েও এগিয়ে। মানুষের ক্ষয়ক্ষমতা বেড়েছে। প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে। দারিদ্র্যের হার ২৪ শতাংশ এসেছে। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে উন্নয়নের এ ধারা অব্যাহত থাকবেই বলেই আশা করা যায়। উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হতে অনেক কঠিন পথ পাড়ি দিতে হয়েছে।
এ সম্মান ধরে রাখা ও বেশ কঠিন কাজ। নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত থাকা দরকার। দুর্নীতি, ঋণ জালিয়াতি ও ঋন খেলাপি, সুশাসনের অভাব, রাজনৈতিক অস্থিরতা, নৈতিকতার অবক্ষয়, মৌলবাদ, জংগিবাদ, বিভিন্ন শক্তির অপতৎপরতা বন্ধ করতে হবে। ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। মানসম্মত ও মূল্যবোধসম্পন্ন শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষির উন্নয়নে নজর দিতে হবে। কৃষির উন্নয়নের ওপর দেশের উন্নতি নির্ভর করে। তাই, কৃষির উপর জোর দেওয়ার বিকল্প নেই। মাতৃমৃত্যু ও শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি কমেছে। তবে জটিল রোগ নিরাময়ের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে আরো দায়িত্বশীল হতে হবে। গবেষণার ক্ষেত্র আরো বাড়াতে হবে। সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করার ব্যবস্থা নিতে হবে। অর্জন ধরে রাখতে এটা করতে হবে।
এম. এ. গফুর, বলুয়ারদীঘির দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়, কোরবানীগঞ্জ, চট্টগ্রাম।

x