উত্তরা গণভবনের গাছ চুরি: ঠিকাদার জেলহাজতে

নিজস্ব প্রতিবেদন

মঙ্গলবার , ৩১ অক্টোবর, ২০১৭ at ৫:০৫ অপরাহ্ণ
5405

নাটোরের উত্তরা গণভবনে প্রতারণা করে চার লাখের বেশি টাকার গাছ চুরির মামলার একমাত্র আসামি ঠিকাদার সোহেল ফয়সালকে (৩২) জেলহাজতে পাঠিয়েছেন আদালত।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম রবিউল ইসলাম এই নির্দেশ দেন।

নাটোর আদালত পুলিশের পরিদর্শক নাসির আলী মণ্ডল জানান, দুপুর সোয়া ১২টার দিকে গণভবনের গাছ চুরির মামলার আসামি ঠিকাদার সোহেল ফয়সাল নাটোর সদর আমলি আদালতে হাজির হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের আবেদন করেন। এ সময় তাঁর আইনজীবী লোকমান হোসেন আদালতকে জানান, তাঁর মক্কেল নিরপরাধ। গাছ চুরির ঘটনার মূল অপরাধীদের এই মামলায় আসামি করা হয়নি। ঠিকাদার বিধিবিধান মেনে গাছ কেটেছেন।

আদালতে সরকারপক্ষে দায়িত্বরত পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিম জামিনের আবেদনের বিরোধিতা করেন। তিনি আদালতকে বলেন, ঠিকাদার সোহেল ফয়সাল নিলামে যে সমস্ত গাছ কিনেছেন, তিনি তার চেয়ে চার লাখের বেশি টাকার অতিরিক্ত গাছ প্রতারণা করে চুরি করেছেন। উত্তরা গণভবন রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন থেকে এই আসামি বিপুলসংখ্যক গাছ চুরি করে ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারার অভিযোগ রয়েছে।

আদালতের বিচারক রবিউল ইসলাম উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর ঠিকাদার সোহেল ফয়সালের জামিনের আবেদন অগ্রাহ্য করেন এবং তাঁকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

১৭ অক্টোবর অবৈধভাবে গাছ কাটা ও অন্যান্য অনিয়মের ব্যাপারে প্রথম আলোতে খবর ছাপা হলে উত্তরা গণভবন ব্যবস্থাপনা কমিটি ওই দিনই জরুরি সভা করে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রাজ্জাকুল ইসলামকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। কমিটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই উত্তরা গণভবন ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রধান নাটোরের জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুনের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করে।
তদন্ত প্রতিবেদনে গণপূর্তর নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউর রহমান আকন্দ, ঠিকাদার সোহেল ফয়সাল এবং গণভবনের তত্ত্বাবধায় আব্দুস সবুর তালুকদারকে প্রত্যক্ষভাবে ও এসডি জিয়াউর রহমান, এসও মো. কামরুজ্জামান ও কেয়ারটেকার আবুল কাশেমকে পরোক্ষভাবে অভিযুক্ত করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে মোট ১ হাজার ৯২ সিএফটি গাছ কাটা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মাত্র ১৮ হাজার টাকায় গাছ বিক্রি করা হলেও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ৩ লাখ ৬৩ হাজার টাকার গাছ কাটার সত্যতা পাওয়া যায়।

x