উচ্চ শিক্ষায় আলোর দিশারি চট্টগ্রামের আট বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়

সবুর শুভ

বৃহস্পতিবার , ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ১১:১৮ পূর্বাহ্ণ
2254

১৯৯২ সালে দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পথচলা শুরু হয়। দীর্ঘ ২৭ বছরের যাত্রায় উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে ছন্দ মিলিয়ে এগুচ্ছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। জ্ঞানের মশাল নিয়ে আলোর মিছিলের সারথী আজকের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।
শিক্ষাক্ষেত্রে শুধু দেশে নয় বিদেশেও সুনাম অর্জন করেছে ইউএসটিসি, সিআইইউ, আইআইইউসি, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়, ইস্ট ডেল্টা ইউনির্ভাসিটি, বিজিসি ট্রাস্ট ইউনির্ভাসিটি, সাদার্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটি। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশি শিক্ষার্থীর পাশাপাশি অনেক বিদেশি শিক্ষার্থীও পড়াশোনা করছে। দেশের ১০৪টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রায় সাড়ে ৪ লাখ শিক্ষার্থী ধারণ করছে।
চিটাগাং ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনির্ভাসিটি (সিআইইউ)
১৯৯৯ সালে ঢাকার ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ বা আইইউবির শাখা ক্যাম্পাস হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করলেও ২০১৩ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি এটি স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে সরকার ও ইউজিসির অনুমোদন লাভ করে। বর্তমানে এখানে অনুষদ রয়েছে ৪টি। উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বরেণ্য শিক্ষাবিদ ড. মাহফুজুল হক চৌধুরী। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে-লাইভ ইন ফিল্ড এঙপেরিয়েন্স, যার আওতায় শিক্ষার্থীদের গ্রামীণ জীবন সম্বন্ধে প্রত্যক্ষ ধারণা প্রদান করা হয়। এটি বাংলাদেশের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় যার ক্যাম্পাসের মধ্যে রয়েছে আমেরিকান কর্নার (মার্কিন দূতাবাসের আমেরিকান সেন্টারের শাখা)। পৃথিবীর বেশকিছু নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়টি যৌথ কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো ও অনুষদ : বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে সিআইইউ বিজনেস স্কুল, স্কুল অব সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, স্কুল অব লিবারেল আর্টস অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেস ও স্কুল অব ল প্রোগ্রাম চালু রয়েছে। এই অনুষদগুলোর প্রায় প্রতিটিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পিএইচডি ডিগ্রিধারী শিক্ষকমণ্ডলী রয়েছে। তাদের প্রায় সবাই যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিধারী। এখানে শিক্ষক ও ছাত্র অনুপাত ১:২৫ নিশ্চিত করা হয়। শ্রেণিকক্ষগুলো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এবং প্রতিটি কক্ষের সাথেই রয়েছে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর ও কম্পিউটার সংযোগ।
তথ্য সমৃদ্ধ লাইব্রেরি : লাইব্রেরিতে রয়েছে অন্তত ১০ হাজারের অধিক বই। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদসংশ্লিষ্ট ব্যতীত বিভিন্ন প্রকারের অভিধান, প্রকৌশল ও বিজ্ঞান বিষয়ক নানা বই রয়েছে। রয়েছে ১১৫০টি অডিও-ভিজুয়াল উপকরণ, দেশ-বিদেশের স্বীকৃত জার্নাল ও অসংখ্য গবেষণা প্রতিবেদন। আমাদের মহান ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাজারও তথ্য নিয়ে আছে মুক্তিযুদ্ধ কর্নার। রয়েছে নেট ব্রাউজিংয়ের সুবিধা। স্কুলশিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে গণিত কর্নার, যা দেশের বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ও গণিতজ্ঞের প্রকাশিত প্রায় ১৭৮টি বইয়ে সমৃদ্ধ। এই লাইব্রেরির সাথে বিশ্বের বিখ্যাত ই-জার্নালসমূহের রয়েছে সংযোগ। ‘ইবিওসকো এগ্রিকোয়েটর সার্চ টুলস’-ব্যবহার করে সিআইইউ লাইব্রেরির রিসোর্চে রিমোটএঙেসের মাধ্যমে যে কেউ প্রবেশ করতে পারবেন। প্রকৌশল এবং কম্পিউটার অনুষদের জন্য রয়েছে অত্যাধুনিক কম্পিউটার, টেলিকমিউনিকেশন, ইলেকট্রনিক, ইলেকট্রিক্যাল ও পদার্থবিদ্যা ল্যাব। অন্য অনুষদের ছাত্রছাত্রীদের ব্যবহারের জন্য রয়েছে চারটি পৃথক কম্পিউটার ল্যাব, রয়েছে কনফারেন্স রুম, অডিটোরিয়াম, ক্যাফেটিরিয়া, প্রার্থনা কক্ষ, টেবিল টেনিস, ক্যারম ও বিলিয়ার্ড খেলার ব্যবস্থাসহ পৃথক কমন রুম।
এক্সট্রা কারিকুলার কার্যক্রম : সিআইইউতে এঙট্রা কারিকুলার কার্যক্রমের ওপর জোর প্রদান করা হয়ে থাকে। শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একাধিক ছাত্রকেন্দ্রিক কাব, যেমন-মডেল ইউনাইটেড নেশন্স ক্লাব, সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি (এসডব্লিউএস), এইচআরএম সোসাইটি, ইন্ডিপেন্ডেন্ট মার্কেটিং ক্লাব (আইএমসি), কালচারাল ক্লাব, ইন্ট্রিন্সিক ফাইন্যান্স ক্লাব (আইএফসি), বিজনেস স্টুডেন্টস সোসাইটি (বিএসএস), ইন্ডিপেন্ডেন্ট সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ক্লাব (আইএসইসি), ইংলিশ ক্লাব, স্পোর্টস ক্লাব, সিআইইউবিএস ডিবেটিং সোসাইটি, স্লাস ডিবেটিং ক্লাব ইত্যাদি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে নিয়মিত বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। ‘ইন্ডিপেনডেন্ট ক্রনিকলস’ নামে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি ত্রৈমাসিক নিউজ লেটার প্রকাশিত হয়।
গবেষণা কার্যক্রম: গবেষণা কার্যক্রমকে ত্বরাম্বিত করার লক্ষ্যে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সেন্টার রয়েছে, যারা বিভিন্ন অনুষদের গবেষণা কাজের ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে কাজ করে। রয়েছে সিআইইউ জার্নাল।
সমঝোতা স্মারক : ফ্রান্সের বিখ্যাত ও ট্রিপল অ্যাক্রিডিটেড বিজনেস স্কুল-রেন স্কুল অব বিজনেস (আরএসবি), ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট, পেশাজীবীদের গ্লোবাল সংস্থা ‘দি অ্যাসোসিয়েশন অব চাটার্ড সার্টিফাইড অ্যাকাউন্টস (এসিসিএ), দেশের ভেতর এনবিআরসহ অন্তত ২০টির বেশি দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে রয়েছে সমঝোতা স্মারক।
সমাবর্তন: সিআইইউর প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৮ সালের ১ এপ্রিল। এতে সনদ গ্রহণ করেন বিভিন্ন অনুষদের ১৮০ জন ডিগ্রিধারী। এখন চলছে দ্বিতীয় সমাবর্তনের প্রস্তুতি।
ইনস্টিটিউট : সিআইইউতে ইনস্টিটিউট অব গর্ভনেন্স, ডেভেলপম্যান্ট অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ নামে রয়েছে একটি পৃথক ইনস্টিটিউট।
সিআইইউ অ্যামেরিকান কর্নার : চট্টগ্রামবাসীদের আমেরিকার ইতিহাস, সংস্কৃতি, সমাজ, শিল্পকলা, রাজনীতি, শিক্ষাসহ নানা বিষয়গুলোর সঙ্গে পরিচিত করে তুলতে সিআইইউতে গড়ে তোলা হয়েছে অ্যামেরিকান কর্নার। এটি উদ্বোধন করেন অ্যামেরিকান অ্যাম্বাসির ঢাকার চার্জ দ্যা অ্যাফেয়ার্স জোয়েল রেইফম্যান। দক্ষিণ এশিয়ার সর্বপ্রথম এই অ্যামেরিকান কর্নার মার্কিন দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে সরাসরি পরিচালিত হয়।
চট্টগ্রামের ঐতিহ্য নিয়ে আর্কাইভ : চট্টগ্রামের ইতিহাস, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, উন্নয়ন পরিক্রমা ও গবেষণাকার্যক্রমকে ছড়িয়ে দিতে সিআইইউতে ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় চিটাগং সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজ নামের অথ্যাধুনিক গ্রন্থাগার ও আর্কাইভ।
উপাচার্যের বক্তব্য : শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে সিআইইউ সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহফজুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, গুণগত শিক্ষা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন মানসম্মত শিক্ষক, শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। আমরা সেই গুণগত শিক্ষা ছড়িয়ে দিতেই নিরলস কাজ করে যাচ্ছি। একটি ভালো মানের বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠলে তার সুফল সবাই পাবে। এ জন্য গবেষণামূলক কার্যক্রমের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। বর্তমানে সিআইইউতে প্রশাসনিক ও একাডেমিক দুই জায়গাতেই গতি এসেছে। ফলে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে উঠছে শিক্ষার্থীরাও। মাহফুজুল হক চৌধুরী বলেন, সিআইইউ চট্টগ্রামে মডেল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছে। বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও আগের চেয়ে দ্বিগুণ হয়েছে। সাধারণত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্থায়ী শিক্ষক থাকেন না। আমি উপাচার্য হওয়ার পর স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছি। প্রতিটি স্কুলের ডিন পদে যাঁরা নিয়োগ পেয়েছেন, সবাই অভিজ্ঞ। অ্যাক্ট অনুযায়ী সিন্ডিকেট, একাডেমিক কমিটি, ফাইন্যান্স কমিটিসহ একাধিক পর্ষদের পূর্ণাঙ্গ প্যানেল তৈরি করেছি। শুধু তা-ই নয়, ক্যাম্পাসে অস্থায়ী শহীদ মিনার, ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুলে নতুনভাবে পাঁচ-ছয়টি ল্যাব প্রতিষ্ঠা, মিলনায়তন সংস্কার, ছাত্রছাত্রীদের জন্য কমনরুম তৈরি, স্কুল অব ল ও স্কুল অব লিবারেল আর্টস অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সের জন্য ক্লাসরুম বৃদ্ধি, ক্যান্টিন প্রতিষ্ঠা, বাগান, ফুড কর্নার ও শিক্ষকদের জন্য লাউঞ্জ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। উপাচার্য বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে। আমাদেও নেওয়া পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে আগামী দুই বছর পর এখানে বদলে যাবে শিক্ষার পুরোনো চেহারা।

আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (আইআইইউসি)
আইআইইউসির স্থায়ী ক্যাম্পাস কুমিরায়। ৪৩ একর জমির ওপর নান্দনিক ক্যাম্পাস। প্রায় সাড়ে ছয় লাখ বর্গফুট জায়গায় ৪০টি ভবনে আইআইইউসির শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সবুজাভ ক্যাম্পাস। ক্যাম্পাস সাজিয়ে-গুছিয়ে রাখার জন্য রয়েছে আইআইইউসির বিউটিফিকেশন কমিটি। আর এটা দেখভাল করে বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্যরা। মেধাবী শিক্ষার্থীদের পছন্দের অন্যতম পছন্দ আইআইইউসি। বর্তমানে এখানে লেখাপড়া করছে ১১ হাজার ৭৮৬ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ভারত, নেপাল, শ্রীলংকা, চীন, সোমালিয়া, মালদ্বীপ, নাইজেরিয়া, ইথিওপিয়া ও সুদানের দুই শতাধিক শিক্ষার্থীও রয়েছে।
আর্ন্তজাতিক অঙ্গনে আইআইইউসি : আইআইইউসি ফেডারেশন অব দি ইউনিভার্সিটিজ অব দি ইসলামিক ওয়ার্ল্ড (এফইউআইডব্লিউ) এবং অ্যাসোসিয়েশন অব কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটিজের (এসিইউ) সদস্য। বিশ্ববিদ্যালয়টির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, চীন, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরব, থাইল্যান্ড, নেপাল, তুরস্ক, সুদানসহ বিশ্বের স্বনামধন্য ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। আইআইইউসি সূত্রে জানা যায়, কীর্তিমান পুরুষ মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী চট্টগ্রামে একটি আন্তর্জাতিক মানের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলেন। ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত আইআইইউসি হলো সেই স্বপ্নের বাস্তব রূপ। বায়তুশ শরফের পীর মাওলানা আবদুল জব্বার এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের সূচনালগ্নে অনন্য সাধারণ ভূমিকা রাখেন। আইআইইউসি সর্বপ্রথম চট্টগ্রামে সাফল্যের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান হচেছন সাবেক এমপি আ ন ম শামসুল ইসলাম। উপাচার্য হচ্ছেন অধ্যাপক কেএম গোলাম মহিউদ্দিন। এ বিষয়ে আইআইইউসির সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মোসতাক খন্দকার বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশাত্মবোধ, মানবতাবোধ, সততা, বিজ্ঞানমনস্কতা, দক্ষতা সৃষ্টি করাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকে আইআইইউসি।
৬ অনুষদে ১১ বিভাগ : আইআইইউসিতে ৬টি অনুষদের অধীনে ১১টি বিভাগ রয়েছে। বিভাগগুলো হলো- কোরআনিক সায়েন্স অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ, দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ, হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রনিক অ্যান্ড টেলিকম্যুনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং, ফার্মেসি, ব্যবসায় প্রশাসন, অর্থনীতি ও ব্যাংকিং, ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য ও আইন বিভাগ। আট সেমিস্টারে পাঠদান করা হয় আইআইইউসির বিভাগগুলোতে। মে-জুন এবং অক্টোবর-নভেম্বরে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি দেয়া হয়।
জ্ঞানী-গুণী শিক্ষকের সমাহার : আইআইইউসিতে ৪০২ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন। এরমধ্যে নিয়মিত শিক্ষকের সংখ্যা ৩০২ জন। শিক্ষকদের মধ্যে ৯৩ জন পিএইচডি ডিগ্রিধারী।
গবেষণায় গুরুত্ব : উচ্চশিক্ষায় গবেষণা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। তাই গবেষণাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে আইআইইউসি। গবেষণা কাজকে বিশেষভাবে প্রমোট করার জন্য সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড পাবলিকেশন (সিআরপি) নামে আলাদা একটি ডিভিশন রয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। বছরে এখাতে এক কোটি টাকার বেশি ব্যয় করা হয়। বিভিন্ন দেশের শিক্ষাবিদ ও গবেষকদের অংশগ্রহণে এখানে ১২টি ইন্টারন্যাশনাল একাডেমিক কনফারেন্স সফলভাবে আয়োজন করেছে।
সমৃদ্ধ লাইব্রেরি : আইআইইউসিতে রয়েছে ৩৫ হাজার টাইটেলের ৮৪ হাজার ৪৩৪টি বইয়ের বিশাল লাইব্রেরি। এখানে রয়েছে অত্যাধুনিক কস্পিউটার ল্যাব, ইন্টারনেট ল্যাব, ইন্টারনেট সুবিধা, প্রায় ১৫ হাজার ৫০০ টি ই-জার্নাল ও ই-বুক। দেশি-বিদেশি ১১ হাজার ৭৮৬ শিক্ষার্থী এনব সুযোগ-সুবিধা নিয়ে লেখাপড়া করছে।
দরিদ্র মেধাবীদের জন্য : দরিদ্র, অথচ মেধাবী এমন শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ কিছু সুবিধা দিয়ে থাকে আইআইইউসি। এই বিষয়গুলো দেখার জন্য রয়েছে স্টাফ ডেভেলপমেন্ট ও স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার ডিভিশন নামে আলাদা একটি বিভাগ। প্রতিবছর দরিদ্র মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকার আর্থিক সুবিধা এবং বৃত্তি প্রদান করা হয়। উল্লেখ্য, ইতিমধ্যে শতাধিক মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে বিনা ফিতে অধ্যয়নের সুযোগ করে দিয়েছে।
বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার : আইআইইউসিতে নিয়মিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত হয়। ২০১৫ ও ২০১২ সালে সারাদেশে বৃক্ষরাপণে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাটাগরিতে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার লাভ করেছে আইআইইউসি।
ইউএসটিসি

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (ইউএসটিসি) বাংলাদেশ তথা দক্ষিণ এশিয়ার একটি স্বনামখ্যাত উ”চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। জনসেবা ফাউন্ডেশনের অধীনে পরিচালিত উক্ত প্রতিষ্ঠানটি প্রথমে ১৯৮৯ সনে “ইনস্টিটিউট অব এপ্লাইড হেলথ সায়েন্সস” (আইএএইচএস) এবং পরবর্তীতে পরিপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়, ইউএসটিসি হিসাবে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১৯৯২ এর অধীনে যাত্রা শুরু করে। জনসেবা ফাউন্ডেশন এর প্রতিষ্ঠাতা, জাতীয় অধ্যাপক প্রফেসর ডা: নুরুল ইসলাম ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য। বর্তমানের উক্ত প্রতিষ্ঠানটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন এ আই ইসলাম এবং উপাচার্য হিসেবে রয়েছেন প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর আলম (চুয়েটের সাবেক উপাচার্য)। প্রতিষ্ঠানে মোট পাচটি অনুষদ রয়েছে- ১.ফ্যাকাল্টি অব মেডিসিন ২. ফ্যাকাল্টি অব বেসিক মেডিকেল এন্ড ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্স, ৩. ফ্যাকাল্টি অব সায়েন্স বিসনেস এন্ড মিনিষ্ট্রেশন ৪. ফ্যাকাল্টি অব সায়েন্স ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজী ৫. ফ্যাকাল্টি অব সোসল সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং। প্রত্যেক অনুষদের অধিনে এক বা একাধিক বিভাগ এবং প্রত্যেক বিভাগের অধীনে যুগোপযুগী বিষয় ও প্রোগ্রাম চালু আছে। এ বিশ্ববিদ্যালয় ফ্যাকাল্টি অব মেডিসিন থেকে মোট ৩৯৮৬ জন ছাত্র-ছাত্রী এমবিবিএস পাশ করেছে এর মধ্যে ২১৬৫ জন বিদেশী ছাত্র-ছাত্রী এবং ১৮২১ বাংলাদেশী ছাত্র-ছাত্রী। দেশে বিদেশের অনেক নামকরা প্রতিষ্ঠানে তারা সুনামের সাথে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করে যা”েছন। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে রয়েছে আধুনিক সকল সুযোগ সুবিধা-আধুনিক ল্যাব, মাল্টিমিডিয়া শ্রেণীকক্ষ, ওয়াই ফাই জোন, সুবিশাল লাইব্রেরী, হোষ্টেল সুবিধা, খাবার ক্যান্টিন, অডিটোরিয়াম ও ভিডিও কনফারেন্সিং রুম। রয়েছে পূর্নকালীন অভিজ্ঞ শিক্ষকমন্ডলী ও সকল প্রকার শিক্ষা সহায়ক উপকরন। বিশ্ববিদ্যালয়টি তার একাডেমিক কার্যক্রম বৃদ্ধির লক্ষ্যে সম্প্রতি বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করে।
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিয়মিত রিসার্স জার্নাল প্রকাশিত হয় এবং ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকদের গবেষণা কার্যক্রমকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য রয়েছে ইউএসটিসি রিসার্স সেল ও ই-লাইব্রেরী সুবিধা, যা সার্বক্ষনিক সেবা দিয়ে গবেষণা কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করছে।
৪র্থ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভুলেশন কে সামনে রেখে প্রযুক্তির উৎকর্ষ ও প্রযুক্তিকে নানা বাস্তব কাজে প্রয়োগের প্রত্যয় নিয়ে চট্টগ্রামের এ স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান ইউএসটিসি এগিয়ে চলেছে।
এ বিষয়ে উপাচার্য প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর আলম জানান, বেসরকারি পর্যায়ে চিকিৎসা বিজ্ঞানে অনন্য এক প্রতিষ্ঠান । যার প্রতিষ্ঠাতা চন্দনাইশের কৃতিপুরুষ প্রয়াত জাতীয় অধ্যাপক ড. নুরুল ইসলাম। চিকিৎসা শিক্ষাসহ নানা ক্ষেত্রে সমাজে আলো ছড়াচেছ এ বিশ্ববিদ্যালয়।
তথ্য মতে, বিশ্ববিদ্যালয়টি ব্যক্তিগত অনুদানের মাধ্যমে ১৯৮৯ সালের ১৩ মে প্রতিষ্ঠিত হয়ে। প্রথমদিকে এটি প্রায়োগিক স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট হিসাবে কাজ করে। পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে এটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্বিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়। ১৯৮৯ এ ইউএসটিসি শুরুর সময়ে মাত্র দুইজন অধ্যাপক ও নয়জন প্রভাষক ছিলেন। কিন্তু এখন পূর্ণসময় পাঠদানকারী শিক্ষকের সংখ্যা ১৪৮জন। ইউএসটিসিতে ৫ হাজার শিক্ষার্থী আছেন। তার মধ্যে ৮৫%বিদেশী যারা ভারত (প্রধানত কাশ্মীর, আসাম ও মনিপুর), নেপাল, মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা, ভূটান, জর্দান, যুক্তরাষ্ট্র, মালদ্বীপ (অল্পসংখ্যক) এবং ফিলিস্তিন থেকে এসেছেন। দেশে উল্লেখ করার মতো বিদেশী শিক্ষার্থী আনার ক্ষেত্রে এ বিশ্ববিদ্যালয় অগ্রগণ্য ভুমিকা পালন করেছে। এতে একদিকে দেশের ভারমুর্তি যেমন উজ্জল হয়েছে তেমনি অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রাও এসেছে।

প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়
চট্টগ্রামে উচচশিক্ষার ক্ষেত্রে অনন্য ভূমিকা রেখে চলেছে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম আসতেই চট্টল বীর এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর নাম চলে আসে অবলীলায়। তিনি মেয়র থাকাকালীন নগরীর মাধ্যমিক শিক্ষায় বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন। তিনিই প্রথম নগরীর বেশিরভাগ মাধ্যমিক স্কুলকে সিটি কর্পোরেশনের অধীনে নিয়ে আসেন। তাঁর হাত ধরেই যাত্রা শুরু প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের। এই বিশ্ববিদ্যালয় এখন সারাদেশের অন্যতম সেরা একটি উচচশিক্ষা কেন্দ্র। গত ১৩ বছর ধরে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সমাজবিজ্ঞানী ড. অনুপম সেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শুধু শিক্ষাদান করে না, নতুন জ্ঞানও সৃষ্টি করে। প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় সেই লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে। পাশ্চাত্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় দিয়ে। বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও জাতীয় সংস্কৃতিতে ভূমিকা রাখতে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যারয় উচ্চ মানসম্পন্ন নাগরিক তৈরি করছে। ২০০২ সালের জানুয়ারি মাসে এখানে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুতে দুটি অনুষদের অধীনে বিভাগ ছিল দুটি। বর্তমানে ছয়টি অনুষদের অধীনে ১০টি বিভাগ। এ ছাড়া প্রবর্তক মোড়ের দুটি ভবন ছাড়াও দামপাড়া, হাজারী লেইন, জিইসির মোড়ে আরও তিনটি সুদৃশ্য ভবন রয়েছে। প্রায় ৩৩৬ জন শিক্ষক ও ১০ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছেন। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০টি বিভাগের অধীনে ১৪টি প্রোগ্রাম হলো- ১. ব্যাচেলর অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (বিবিএ), ২. ব্যাচেলর অব সায়েন্স ইন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই), ৩. ব্যাচেলর অব সায়েন্স ইন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই), ৪. ব্যাচেলর অব আর্টস (অনার্স) ইন ইংলিশ, ৫. ব্যাচেলর অব ল’স এলএলবি (অনার্স), ৬. ব্যাচেলর অব আর্কিটেকচার, ৭. ব্যাচেলর অব সায়েন্স (অনার্স) ইন ম্যাথমেটিঙ ৮. ব্যাচেলর অব সোশ্যাল সায়েন্স ইন ইকোনমিঙ, ৯. মাস্টার অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এমবিএ) দুই বছর, ১০. মাস্টার অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এমবিএ) এক বছর, ১১. এঙিকিউটিভ মাস্টার অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইএমবিএ) এক বছর ছয় মাস, ১২. মাস্টার অব আর্টস ইন ইংলিশ, ১৩. মাস্টার অব সোশ্যাল সায়েন্স ইন ইকোনমিঙ ও ১৪. মাস্টার অব ল’স (এলএলএম)। প্রিমিয়ার ২০০২ সালে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগ চালু করে। এখানে ২০০টি কম্পিউটার নিয়ে গঠিত ৫টি কম্পিউটার ল্যাব ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি রয়েছে ২টি সার্কিট ও ইলেকট্রনিক, ১টি কমিউনিকেশন এবং ১টি মাইক্রোপ্রসেসর ল্যাব। এছাড়াও প্রত্যেক শিক্ষক ও অফিসে অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যবহারের জন্য আরও ৪০টি কম্পিউটার রয়েছে। এখানে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের যাত্রা শুরু হয় ২০০৮ সালের জানুয়ারি মাসে। দুইশতাধিক কম্পিউটার নিয়ে গঠিত ৫টি কম্পিউটার ল্যাব ব্যবহার করা হয় এখানে। চট্টগ্রামের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের মধ্যে একমাত্র প্রিমিয়াওে এই বিভাগ রয়েছে। ২০১২ সালের ১৫ জানুয়ারি এই বিভাগটির যাত্রা। শিক্ষা অর্জনের সুবিধার্থে এখানে রয়েছে ১০টি ডিজাইন স্টুডিও, জুরি স্পেস ও ৩টি থিওরি রুম প্রভৃতি। ২০০৩ সালের জুলাই মাসে আইন বিভাগ প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এই অনুষদ ও বিভাগে দীর্ঘকাল ধরে অ্যাডজাঙ্কট ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন চবি আইন অনুষদের সাবেক ডিন ২০০২ সালের জানুয়ারি মাসে এখানে ব্যবসা শিক্ষা অনুষদের যাত্রা শুরু। বর্তমানে এই অনুষদে অধ্যাপক হিসেবে রয়েছেন সুপরিচিত অধ্যাপক অমল ভূষণ নাগ। একমাত্র প্রিমিয়ারে বেসিক সায়েন্সের মধ্যে গণিত বিভাগে অনার্স পড়ার সুযোগ রয়েছে। ২০১৫ সালের শুরুতে এই বিভাগের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে এই বিভাগের চেয়ারম্যান মো. ইফতেখার মনির। তিনি বলেন, আধুনিক বিশ্বের চাহিদার কথা মাথায় রেখে গণিত বিভাগের কারিকুলাম তৈরি করা হয়েছে। যেন এখান থেকে ডিগ্রি অর্জন করে শিক্ষার্থীরা বিশ্বের সাথে তাল মেলাতে পারঙ্গম হয়। ইংরেজি বিভাগ ২০০২ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এই বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সাহিত্যিক ড. মোহীত উল আলম। মাঝখানে তিনি জাতীয় কবি কাজি নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ বেশকিছু দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমানে আবারো তিনি প্রিমিয়ারে। ২০০৬ সালের জানুয়ারি মাসে অর্থনীতি বিভাগের সূচনা ঘটে। বর্তমানে এই বিভাগের চেয়ারম্যান ফারজানা ইয়াসমিন চৌধুরী। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রদত্ত সুবিধার মধ্যে রয়েছে, মেরিট স্কলারশিপ, দরিদ্র অথচ মেধাবী এবং মুক্তিযোদ্ধা কোটাসহ বিভিন্ন কোটায় প্রতি বছর প্রায় দেড় কোটি টাকা পর্যন্ত ওয়েভার প্রদান, অগ্নিকাণ্ড থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য অগ্নিনির্বাপক ও প্রতিরোধক যন্ত্রের ব্যবস্থা। এখন এসব সুবিধার সাথে যোগ হয়েছে ছাত্রীনিবাস। মানসম্মত উচচশিক্ষা প্রদানের পাশাপাশি সাহিত্য, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, ক্রীড়া ও বিজ্ঞানসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতন করার লক্ষ্যে নিয়মিত আলোচনা অনুষ্ঠান, সেমিনার ও কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি
মুক্তিযুদ্ধকালীন চট্টগ্রাম শহর মুজিবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর যৌথ কমান্ডের কমান্ডার, সাবেক সংসদ সদস্য, বিজিসি ট্রাস্টের বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আফছার উদ্দিন আহমেদ ১৯৮২ সালে বেগম গুল চেমন আরা ট্রাস্ট (বিজিসি ট্রাস্ট) প্রতিষ্ঠা করেন। ১০০ একর নিজস্ব ভূমির উপর বিজিসি ট্রাস্ট শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবামূলক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছে। ইতোমধ্যে এই এলাকা দেশ- বিদেশে ‘বিজিসি বিদ্যানগর’ হিসেবে পরিচিতি। এই বিদ্যানগরে বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, বিজিসি ট্রাস্ট মেডিকেল কলেজ, বিজিসি একাডেমি (স্কুল অ্যান্ড কলেজ), বেগম ওসমানআরা কলেজ অব নার্সিং, মাওলানা মুহাম্মদ ইছহাক শিশু নিকেতন, বিজিসি ট্রাস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্যক্রম সুন্দরভাবে পরিচালিত হচ্ছে। রাষ্টপ্রতি ও চ্যান্সেলর এ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে প্রফেসর ড. সরোজ কান্তি সিংহ হাজারীকে তৃতীয় বারের মতো নিয়োগ প্রদান করেছেন। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ৫টি অনুষদ রয়েছে। যেমন : ব্যবসায় প্রশাসন, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, আইন, কলা, বিজ্ঞান। ৫টি অনুষদের অধীনে বিবিএ, এমবিএ, বিএ (অনার্স) ইন ইংলিশ, বি ফার্ম (অনার্স), বিএস-সি (অনার্স) ইন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, এলএলবি (অনার্স) কোর্স পরিচালিত হচ্ছে। সকল প্রোগ্রামসমূহের জন্য দেশি-বিদেশি ডিগ্রিধারী দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকমণ্ডলী রয়েছেন। মূল বিশেষত্ব হচ্ছে বেশিরভাগ শিক্ষকই পূর্ণকালীন। তাছাড়া বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতিমান শিক্ষকমণ্ডলী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উর্ধতন কর্মকর্তাগণ খণ্ডকালীন ক্লাস নিয়ে থাকেন। তুলনামূলক কম টিউশন ফি এবং মাসিক কিস্তি পরিশোধের মাধ্যমে টিউশন ফি প্রদানের পাশাপাশি এই বিশ্ববিদ্যালয় এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষার মেধার ফলাফল, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, বিধবার সন্তান, সহোদর, উপজাতীয় শিক্ষার্থী, জাতীয়ভাবে স্বীকৃত খেলোয়াড়, শিল্পী সর্বোপরি অস্বচ্ছল পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য ১০% থেকে ১০০% পর্যন্ত টিউশন ফি মওকুফ করছে। এছাড়াও রয়েছে সেমিস্টার ফলাফলের মাধ্যমে বিশেষ বৃত্তির সুযোগ। দক্ষিণ চট্টগ্রামে অবস্থিত কলেজসমূহ থেকে এইচএসসি পাস করা শিক্ষার্থীদেও সকল প্রোগ্রামে টিউশন ফি ১০% বিশেষ ছাড় দেয়া হয়। এখানে প্রায় ২০ হাজার বই ও দেশি-বিদেশি জার্নালসমৃদ্ধ লাইব্রেরি রয়েছে। শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধির জন্য ইউজিসি ডিজিটাল লাইব্রেরির সদস্যভূক্ত করা হয়েছে। যার মাধ্যমে দেশি বিদেশি অসংখ্য ই জার্নাল ও ই-বুক অনলাইন এঙেস করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
২০১৮ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাসে বঙ্গবন্ধু ফ্রিডম স্কোয়ারে প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। সমাবর্তনে ৭৩৭৭ জন শিক্ষার্থী সনদ অর্জন করে এবং মোট ১৩ জন গ্র্যাজুয়েটকে স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়।
দেশ- বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও সংস্থার সাথে বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটির রয়েছে সমঝোতা স্বারক। যেমন : স্টোনি ব্রুক ইউনিভার্সিটি, ইউএসএ, বাইনারী ইউনিভার্সিটি, মালয়েশিয়া অন্যতম। সম্প্রতি বাইনারী ইউনিভার্সিটি, মালয়েশিয়ার সাথে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার আওতায় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ ও এমবিএর শিক্ষার্থীরা বিশেষ টিউশন ফি ছাড় নিয়ে বাইনারী ইউনিভার্সিটি, মালয়েশিয়ায় ডিগ্রি অর্জন করতে পারবে। আঁিলয়স ফ্রঁসেজ, চট্টগ্রামের সাথে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় শিক্ষার্থীরা নিজ ক্যাম্পাসে ফরাসি ভাষা শেখার সুযোগ পায়। বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের সাথে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় বিদেশি প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে বিনামূল্যে ট্রেনিং করার সুযোগ পাচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গুণগত মান নিশ্চিতকরণের জন্য একটি সেল গঠন করেছে। গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রয়েছে একটি রিসার্চ সেল, কর্তৃপক্ষ উচ্চ শিক্ষার জন্য শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় ছুটি মঞ্জুর করে থাকেন। তাছাড়া পিএইচডি গবেষণার জন্য অনুদান প্রদান করা হয়। দেশে বিদেশে প্রবন্ধ উপস্থাপনের জন্যও অনুদান দেয়া হয়ে থাকে। প্রদান করে থাকেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত গবেষণা জার্নাল প্রকাশিত হয়।
বিজিসি ট্রাস্ট মেডিকেল কলেজ ঃ বিজিসি ট্রাস্ট মেডিকেল কলেজ বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত ও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল কর্তৃক স্বীকৃত এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এফিলিয়েটেড একটি পূর্ণাঙ্গ বেসরকারি মেডিকেল কলেজ। এই মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার ১৭ বছর এর মধ্যে ১২টি ব্যাচের শিক্ষার্থী সফলতার সাথে এমবিবিএস পাস করে দেশে-বিদেশে স্বাস্থ্য সেবায় অবদান রাখছে। অনেকেই দেশে-বিদেশে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছে। বর্তমানে ৬৪০ জন শিক্ষার্থী এমবিবিএসে অধ্যয়নরত আছে। তাছাড়া ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য রয়েছে পৃথক ও আধুনিক হোস্টেল সুবিধা। এ কলেজে সকল আধুনিক যন্ত্রপাতি সমৃদ্ধ ল্যাবরেটরি ছাড়াও পর্যাপ্ত ক্লাসরুম রয়েছে। তাছাড়া প্রতিটিতে ২৫০ জনের ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন চারটি লেকচার গ্যালারি রয়েছে যাতে মাল্টিমিডিয়াসহ সকল আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বিদ্যমান। রয়েছে ৫শ শয্যা বিশিষ্ট বিজিসি ট্রাস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। এ হাসপাতালে বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য কনসালটেন্ট নিয়োগ দেয়া হয়েছে। গাইনি, শিশুরোগ, মেডিসিন, সার্জারী, হৃদরোগ, চর্ম রোগ, নাক-কান-গলা, গ্যাস্ট্রোএন্টারলজী, চক্ষু রোগ, অর্থোপেডিক সার্জারি, দন্ত রোগসহ সকল বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে আধুনিক চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। তাছাড়া রোগ নিরূপণের জন্য দেশ-বিদেশ থেকে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি সমৃদ্ধ ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হয়েছে
অবকাঠামো ও পরিবহন ব্যবস্থা : শুরু থেকেই নিজস্ব ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছে এই বিশ্ববিদ্যালয়। চন্দনাইশে এই বিশ্ববিদ্যালয় অবস্থিত। গ্রামীণ পরিবেশে অবস্থিত হলেও এ ক্যাম্পাসে সকল প্রকারের আধুনিক সুযোগ সুবিধা বিদ্যমান। ক্যাম্পাসে ওয়াই ফাই সুবিধা, মাল্টিমিডিয়া ক্লাশরুম, সেমিনার হল, এবং নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষনিক সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। কোর্স ক্যারিকুলামের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ আধুনিক যন্ত্রপাতিসমৃদ্ধ সুপরিসর ল্যাবরেটরি রয়েছে। তাছাড়া খেলার মাঠ, লেক, শহীদ মিনার ও বঙ্গবন্ধু ফ্রিডম স্কোয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম আকর্ষণ। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও ছাত্র-ছাত্রীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য রয়েছে পরিবহনের বিশেষ সুবিধা। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট ও সরকারী বিধি বিধান মোতাবেক সিন্ডিকেট, একাডেমিক কাউন্সিল, অর্থ কমিটি, নিয়োগ কমিটিসহ সকল প্রকার কমিটির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে বিশ্ববিদ্যায়ের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সাড়ে তিন হাজার শিক্ষার্থী এ বিশ্ববিদ্যালয়ে।

ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি
অনন্য স্থাপত্যশৈলীর নিজস্ব ক্যাম্পাস গড়ে তুলেছে এ প্রজন্মের গবেষণাধর্মী বিশ্ববিদ্যালয় ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি (ইডিইউ)। পাহাড় আর গাছগাছালির মধ্যিখানে ইউরোপীয় ধাঁচের লাল দালানে শিক্ষার্থীদের প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর পদচারণা। দূর থেকে দেখলে মনে হতে পারে যেন পটে আঁকা কোনো ছবি। উচ্চশিক্ষার জন্য এমন উপযুক্ত পরিবেশেই গড়ে উঠেছে ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি। নগরীর খুলশী এলাকায় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি। দুই বছর পর ২০০৮ সালে বিবিএ ও এমবিএ প্রোগ্রামের অধীনে মাত্র পাঁচজন শিক্ষার্থী নিয়ে শুরু হয় এর শিক্ষা কার্যক্রম। এরপর ধাপে ধাপে বাড়তে থাকে পরিসর। ২০১০ সালে কার্যক্রম শুরু হয় স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের। বর্তমানে এর অধীনে পড়ানো হচ্ছে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ইলেকট্রনিক অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ব্যাচেলর প্রোগ্রাম। স্কুল অব লিবারেল আর্টসের অধীনে ২০১৩ সালে বিএ ইন ইংলিশ এবং ২০১৮ সালে চালু হয় এমএ ইন ইংলিশ প্রোগ্রাম। ২০১৬ সালে চালু হয় বিএ অর্থনীতি।
২০১৯ সালে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো বিদেশের জনপ্রিয় মাস্টার্স প্রোগ্রাম পাবলিক পলিসি অ্যান্ড লিডারশিপ চালু করে এ বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমান জটিল সময়ে সমাজের নানা পর্যায়ে নীতিনির্ধারণ, পাবলিক ও প্রাইভেট বা বাণিজ্যিক উভয় সেক্টরে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ, দক্ষ ও নৈতিক নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে এ প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। তিন পদ্ধতিতে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করা যাচ্ছে এ প্রোগ্রামে। এগুলো হলো রিসার্চ মোড, রিসার্চ ও কোর্সওয়ার্কের সমন্বিত মোড এবং শুধুমাত্র কোর্সওয়ার্ক বা টট মোড। একই বছরে চালু হয়েছে অ্যাঙেস একাডেমি। নতুন ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ও গণিতে পারদর্শিতার তারতম্য কাটিয়ে ওঠাসহ পঠনপাঠনের উন্নতিতে সাহায্য করা হয় এ একাডেমিতে। একই সাথে সাংস্কৃতিক জ্ঞানের উন্নয়ন ও সাম্প্রতিক বিশ্বের নানা সামাজিক-সাংস্কৃতিক সমস্যা- যেগুলো সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা খোলামেলা আলোচনা করতে চান না সেগুলো যাতে সহজভাবে বলতে পারেন, সে বিষয়েও প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং গঠনমূলক ধারণা অর্জনে সহযোগিতা করছেন একাডেমিক ইন্সট্রাক্টরবৃন্দ। বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতিবছর গড়ে প্রায় দেড়শ শিক্ষার্থী গ্র্যাজুয়েট হিসেবে বের হন। পাঁচজন দিয়ে শুরু হওয়া এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বর্তমানে প্রায় ২ হাজার। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনে ঢুকতেই হাতের ডান পাশে ক্যাফেটেরিয়া। ক্যাফেটেরিয়া লাগোয়া অ্যাম্ফিথিয়েটার (উন্মুক্ত মঞ্চ)। রোদের তেজ কিছুটা কমে আসতেই শিক্ষার্থীর দল ভিড় করে গ্যালারির মতো দেখতে এই অ্যাম্ফিথিয়েটারে। খোলা আকাশের নিচে গ্রিক-রোমান ধাঁচে তৈরি করা হয়েছে এটিকে। একাডেমিক ভবনের নিচতলায়, অ্যাডমিনস্ট্রেশন অফিস ও ফ্যাকাল্টি রুমের পরই আছে শিক্ষার্থীদের মিলেমিশে আড্ডা দেওয়ার মতো একটা খোলামেলা জায়গা, ইন্টার‌্যাকশন জোন হিসেবেই যার পরিচিতি। আছে প্রায় ৫০ হাজার বইসমৃদ্ধ দ্বিতল গ্রন্থাগার। একই সাথে গড়ে তোলা হয়েছে অনলাইন রিসোর্স। ডাটাবেজে থাকা ৩৬ হাজার আর্টিকেল এবং অজস্র ই-বুক পড়া যাবে অনায়াসেই। এছাড়া ম্যাগাজিন, নিউজপেপারের সমন্বয়ে গড়ে তোলা হয়েছে আলাদা সেলফ। এছাড়া ইডিইউর আছে ১১টি অত্যাধুনিক ল্যাব। পাঠদানের ক্ষেত্রে নর্থ আমেরিকান কারিকুলাম অনুসরণ করা হয়। প্রফেসর হিসেবে আছেন বিশ্বের নামকরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ফ্যাকাল্টি মেম্বারবৃন্দ। এছাড়া নিয়মিতভাবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও গবেষকগণ ক্লাস-সেমিনার পরিচালনা করে থাকে। শ্রেণিকক্ষগুলো তৈরি করা হয়েছে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী। ৩৫ জন শিক্ষার্থীর লেকচার শোনার ব্যবস্থা প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে। পড়ালেখার ফাঁকে গ্রুপ স্টাডি ও বিষয়ভিত্তিক আলোচনার জন্য তৈরি করা হয়েছে কমনরুম।

সার্দান ইউনিভার্সিটি
বেসরকারি ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষার আরেক নাম সাদার্ন ইউনিভার্সিটি। আরেফিন নগরে ১০ একর জায়গায় গড়ে উঠছে সাদার্ন ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাস। অনেক ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে শিক্ষা গ্রহণের আদর্শ স্থান হিসেবে সবার আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে বেসরকারি এই বিশ্ববিদ্যালয়টি। চট্টগ্রাম শহরের মধ্যেই সম্পূর্ণ ডিজিটাল এবং বৈশ্বিক মানের দৃষ্টিনন্দন স্থায়ী ক্যাম্পাস এ প্রতিষ্ঠানটিকে দিয়েছে আলাদা বৈশিষ্ট্য। শিক্ষার গুণগতমান নিশ্চিতে ও শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে তুলতে এখানে একাডেমিক উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত আছেন ব্রিটিশ কাউন্সিলরের সাবেক পরিচালক ড. মাক বার্থোলোমিউ। ইতিমধ্যে প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থী সাদার্ন ইউনিভার্সিটি থেকে ডিগ্রি নিয়েছে এবং বর্তমানেও প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিভাগে অধ্যয়নরত। ১৮৪ জন শিক্ষক রয়েছে এই প্রতিষ্ঠানে। প্রতিটি বিভাগে রয়েছে একাধিক ফুলটাইম অধ্যাপক। অধ্যয়ন করছেন বিভিন্ন দেশের ২০ জন বিদেশি শিক্ষার্থীও। এখানে মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য টিউশন ফির ১০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় ও বৃত্তিসহ নানা সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হয়। সাদার্নেই এসব শিক্ষার্থীর চাকরির সুযোগও রেখেছে কর্তৃপক্ষ। নগরীর মেহেদীবাগে ১৭ বছর আগে সাদার্ন ইউনিভার্সিটির যাত্রা শুরু করে। যে স্বপ্ন নিয়ে অধ্যাপক সরওয়ার জাহান প্রতিষ্ঠানটি শুরু করেছিলেন আজ তা আর স্বপ্ন নয় বরং উচ্চশিক্ষার বাতিঘর। সাতটি ভবনে ১শ শ্রেণিকক্ষ রয়েছে। সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ক্লাসরুমগুলোয় রয়েছে ডিজিটাল প্রেজেন্টেশনের সব সুযোগ। প্রত্যেক বিভাগের রয়েছে সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট সুবিধাসহ কম্পিউটার ল্যাব। এ ছাড়া প্রায় ৭৫টি কম্পিউটারের সমন্বয়ে অত্যাধুনিক কেন্দ্রীয় কম্পিউটার ল্যাব রয়েছে। প্রায় ১৫ হাজার দেশি-বিদেশি বই ও জার্নালসমৃদ্ধ এখানে রয়েছে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নুরুল মোস্তফা বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে আমরা অত্যন্ত আন্তরিক। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও বিশ্বব্যাংক যৌথভাবে হেকেপ প্রজেক্টের মাধ্যমে সাদার্ন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করছে। ইতিমধ্যে আটটি বিভাগের পিয়ার রিভিউ কার্যক্রম শেষ হয়েছে এবং প্রতিটি বিভাগ অত্যন্ত ভালো করেছে। বিদেশি বিশেষজ্ঞসহ পিয়ার রিভিউ কমিটির সদস্যরা সাদার্ন ইউনিভার্সিটির কাজে প্রশংংসা করেছে। গবেষণাধর্মী শিক্ষাকে আমরা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। এখানে ভর্তির জন্য আবেদন করা যায়- ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ-বিবিএ, এমবিএ হোটেল ম্যনেজমেন্টসহ কলা অনুষদ- ইংরেজি, ইসলামিক স্টাডিজ, সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদ- সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) ও ইলেকট্রনিক অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ইসিই), কম্পিউটার সায়েন্স, ফার্মাসি, আইন অনুষদ- এলএলবি, এলএলএম। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশকজন উপাচার্যের তত্ত্বাবধানে এ বিশ্ববিদ্যালয় চলছে। এরা হলেন- মোহাম্মদ আলী (চবি, সাদার্ন ও আাইআইউসির সাবেক উপাচার্য), নুরুদ্দীন চৌধুরী (চবির সাবেক উপাচার্য), ইঞ্জিনিয়ার মোজাম্মেল হক (চুয়েটের সাবেক উপাচার্য), মঈনুদ্দিন আহমেদ খান (সাদার্নের প্রতিষ্ঠাকালীন উপাচার্য)।
সাদার্নের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ফ্রিতে পড়ার সুযোগ পান মেধাবীরা। অধ্যয়নরত ছাত্র ছাত্রীদের বড় একটা অংশ কোন না কোনভাবে ইউনিভার্সিটি ট্রাস্ট থেকে আর্থিক প্রণোদনা পেয়ে থাকে। এখানে গরিব ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাঠদানেরও সুযোগ রয়েছে। মেধাক্রম অনুযায়ী ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য রয়েছে মেধাবৃত্তিও। সাদার্ন নিউজ নামে এই ইউনিভার্সিটিতে একটি সেমিস্টার ভিত্তিক নিউজলেটার প্রকাশ করে থাকে। যাতে ইউনিভার্সিটির একাডেমিক কার্যক্রমসহ সবকিছু তুলে ধরা হয়। এখানে রয়েছে ৮টি অত্যাধুনিক ফার্মেসি ল্যাব। যেখানে ২২টি ব্যবাহারিক কোর্স পরিচালিত হয়। আছে ৬টি ইলেকট্রনিক অ্যান্ড ইলেক্ট্রিক্যাল ল্যাব, ৪টি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ল্যাব এবং কম্পিউটার ল্যাব তৈরি করা হয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদের কমিউনিকেশন স্কিল বাড়াতে একটি ল্যাঙ্গুয়েজ ল্যাবও রয়েছে। প্রতি সেমিস্টারে ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় উদ্যোক্তা উন্নয়ন মেলা ও ব্যবসা পরিকল্পনা প্রতিযোগিতা। রয়েছে সাদার্ন ট্যালেন্ট পুরস্কারও। স্পোকেন ইংলিশ ক্লাব, ক্যারিয়ার ক্লাব, বিজিনেস ক্লাব, কালচারাল ক্লাব, উদ্যোক্তা মেলা, স্টাডি ট্যুর, ইনডোর গেমস, রক্তদান কর্মসূচি, বৃক্ষরোপণসহ নানা কার্যক্রম।

পোর্টসিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ২০১২ সালের ১৮ নভেম্বর উচ্চশিক্ষায় আলো ছড়াতে প্রতিষ্ঠিত হয়। পরের বছর ১৭ মে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য চট্টগ্রামের কল্পোলোকে ১ একর জমি কেনা হয়েছে এবং এই জমিসংলগ্ন এক একর খেলার মাঠও রয়েছে। পরিকল্পিত আবাসিক এলাকার ভেতরে পরিকল্পিত বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবেই গড়ে উঠছে পোর্ট সিটি। অনুমোদিত অনুষদ, বিভাগ ও প্রোগ্রামের মধ্যে রয়েছে ৪টি অনুষদ, ১০টি বিভাগ ও ২০ টি প্রোগ্রাম। শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৬৫০০ (বিদেশিসহ)। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর মধ্যে যথাক্রমে পূর্ণকালীন শিক্ষক (শিক্ষা ছুটিসহ)-১৪৪ ও খণ্ডকালীন শিক্ষক ৫০ জন, ৫৬ জন কর্মকর্তা ও ১৩৪ জন কর্মচারী। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের শুরু থেকে মান নিয়ন্ত্রণ করে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হয়। ধুমপান ও রাজনীতিমুক্ত পরিবেশে এখানে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পুরো ক্যাম্পাস সিসিটিভি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। মেধাবী অথচ গরিব, মুক্তিযোদ্ধা, আদিবাসী, অনুন্নত এলাকার শিক্ষার্থীসহ নানা কোটায় উল্লেখযোগ্য হারে বৃত্তি প্রদান করা হয়। এছাড়াও সেমিস্টাার পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে প্রতি সেমিস্টারে বৃত্তি প্রদান করা হয়। রত্নাগর্ভা বেগম আশ্রাফুন্নেছা ফাউন্ডেশন থেকেও বৃত্তি প্রদান করা হয়ে থাকে। নবনিযুক্ত শিক্ষকদের পাঠদান কার্যক্রমে পারদর্শী করে তোলার জন্য সিটিডির মাধ্যমে মাসব্যাপী ট্রেনিং দেয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব খরচে ২৮ জন শিক্ষক ও ২ জন কর্মকর্তাকে মালয়েশিয়ার নটিংহাম ইউনিভার্সিটি, ইউকেতে সামার স্কুল এবং ইন্ডিয়ায় রাজস্থানের মোদি ইউনিভার্সিটিতে ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়। মাাল্টিমিডিয়া সুবিধা সম্বলিত ৬০টি শ্রেণিকক্ষ রয়েছে। প্রায় ১১ হাজার বই ও অটোমেশনসহ ই-লাইব্রেরির সুবিধা আছে পোর্টসিটিতে। বিভিন্ন বিভাগের সর্বমোট ৩৫ টি আধুনিক ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চিকিৎসা সেবা প্রদানের লক্ষ্যে এজজন মহিলাসহ তিন জন চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ১০ টি এবং প্রতি ৪ মাস অন্তর অন্তর বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম ভিত্তিক নিউজ ডট কম প্রকাশিত হয়। চবির সাবেক প্রফেসর ড. মো. নুরুল আনোয়ার উপাচার্য হিসেবে এ বিশ্ববিদ্যালয়কে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছেন।

x