উচ্চ মাধ্যমিক ভর্তিতে বিশেষায়িত কলেজ

সাজ্জাদ হোসেন

শনিবার , ২৩ জুন, ২০১৮ at ৫:৩৭ পূর্বাহ্ণ
529

২০১৮২০১৯ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রথম দফায় গত ১৩ থেকে ২৪ মে পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হয়। ২য় পর্যায়ে আবেদন গ্রহণ করা হয় ১৯ ও ২০ জুন। ৩য় পর্যায়ে আবেদন গ্রহণ ২৪ জুন এবং ফল প্রকাশ ২৫ জুন। সার্বিক প্রক্রিয়া শেষ করে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হবে আগামী ১ জুলাই। প্রথম ও ২য় পর্যায়ে সরকারি কলেজে চান্স না পেয়ে অনেক শিক্ষার্থীই হতাশ। যেহেতু সরকারি কলেজগুলোতে আসন সংখ্যা সীমিত। তাই বাধ্য হয়ে বেশীর ভাগ শিক্ষার্থীকে বেসরকারি কলেজে ভর্তি হতে হয়। একাদশ শ্রেণির ভর্তিতে সরকারি কলেজে আসন সংকটের কারণে চাপ বাড়ছে বেসরকারি কলেজগুলোতে। এক্ষত্রে শিক্ষার মান, অবকাঠামো, দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষক দ্বারা পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকেই বেছে নিচ্ছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। ভর্তির ক্ষেত্রে মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আগামী দিনে একজন শিক্ষার্থীর চলার পথে এই কলেজ তথা প্ল্যাটফর্ম বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে। সরকারি কিংবা বেসরকারি নয় বরং দিন শেষে একজন শিক্ষার্থী কতটুকু পরিণত এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষম সেটিই মুখ্য বিষয়। তাই ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্বাচনে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি। চট্টগ্রামের কলেজগুলোর মধ্যে অন্যতম চট্টগ্রাম বিজ্ঞান কলেজ।

২০০৮ সালে বিজ্ঞানের জন্য বিশেষায়িত কলেজ হিসেবে চট্টগ্রামে বিজ্ঞান কলেজের যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে কলেজটি ধারাবাহিক সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে চলেছে। ফলাফল বিচারে ২০১৫ সালে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক র‌্যাংকিং এ ১৮ তম স্থান এবং বেসরকারি কলেজগুলোর মধ্যে অন্যতম সেরা হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করে চট্টগ্রাম বিজ্ঞান কলেজ। এছাড়াও বিশেষায়িত কলেজ হিসেবে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ২য় স্থান দখল করে। ২০১৭ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় চট্টগ্রাম বিজ্ঞান কলেজের পাসের হার ছিল প্রায় ৯২%, যেখানে চট্টগ্রাম কলেজ ও সিটি কলেজের পাসের হার ছিল যথাক্রমে ৯০% ও ৮৮%

চট্টগ্রাম বিজ্ঞান কলেজের অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ জাহেদ খান বলেন বলেন, আমাদের ডিজিটাল ক্যাম্পাস শুধু শেহ্মাগান নয় বরং তা বাস্তব ও মানসম্মত। প্রতিষ্ঠার পর থেকে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে প্রতিবছর ঈর্ষণীয় ফলাফলের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে কলেজটি। এই বছর তার ব্যতিক্রম হয়নি। স্বগৌরবে এই বছর কলেজটির প্রায় ১০ বছর পূর্তি হলো। শুরু থেকেই এই কলেজের অগ্রযাত্রায় আস্থা রাখার জন্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। তিনি বলেন, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে নয় বরং সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে আমি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনা করছি। বিগত বছরের ফলাফল, পড়ালেখার মান, ডিজিটাল ক্লাসরুমসহ আধুনিক সকল সুযোগসুবিধা এবং স্বল্প খরচের কথা বিবেচনা করলে চট্টগ্রাম বিজ্ঞান কলেজই সেরা কলেজ। এই প্রতিষ্ঠান থেকে সহগ্রাধিক শিক্ষার্থী এইচএসসি পাস করে সাফল্যের সাথে এমবিবিএস, ইঞ্জিনিয়ারিং ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে। এবং দিন দিন এই সাফল্যের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেনজীবনের কাঙিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সঠিক উপায়ে পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের কোন বিকল্প নেই। পাশাপাশি তিনি অভিভাবকদের সচেতনতার বিষয়েও গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, এই কলেজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে শিক্ষার্থীদেরকে কোনো প্রাইভেট পড়তে হয় না। মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরসহ এসি ক্লাসরুম। সুবিশাল ক্যাম্পাস, ওয়াইফাই সুবিধা, আইটি ও বিষয়ভিত্তিক ব্যবহারিক ল্যাব।

চট্টগ্রাম বিজ্ঞান কলেজের অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মাদ জাহেদ খান কলেজের সার্বিক সাফল্যকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সমন্বিত প্রয়াস উল্লেখ করে সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং আগামীতে আরও ভালো ফলাফল উপহার দিতে পারবেন বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

কলেজটির আগ্রাবাদ ক্যাম্পাসের দায়িত্বে রয়েছেন চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মুহম্মদ আবু জাফর চৌধুরী। তিনি বলেন, মান সম্পন্ন পাঠদান ও ভাল ফলাফলের কারণে বিজ্ঞান কলেজ সবার নজর কেড়েছে। ফলে এখন বিজ্ঞানের সেরা শিক্ষার্থীরা কলেজে পড়তে আসছে। চট্টগ্রামে ভাল কলেজগুলোর সবগুলোই বেসরকারি উল্লেখ করে তিনি বলেন, চট্টগ্রামে বিজ্ঞান কলেজ এই স্থানটি দখল করেছে। পড়ালেখা ও ফলাফলের মানে বিজ্ঞান কলেজ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য চট্টগ্রামের সেরা কলেজ। কলেজটিতে এসি ক্লাশরুমসহ সকল আধুনিক সুযোগ সুবিধা বিদ্যমান রয়েছে বলে তিনি জানান। বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের পাঠদানে রয়েছে নানা উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। বছরের শুরুতেই একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুসরণ, সুনির্দিষ্ট পাঠ পরিকল্পনা, ডিজিটাল কন্টেন্ট ও আধুনিক শিক্ষা উপকরণ ব্যবহার, সৃজনশীল পদ্ধতির যথাযথ অনুসরণ, কোকারিকুলাম সুবিধা বাস্তবায়ন এবং ক্লাসের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ। এছাড়াও নিয়মিত পরীক্ষার যেমনসাপ্তাহিক, টার্ম, বার্ষিক পরীক্ষা, প্রিটেস্ট , মডেল টেস্টগুলোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করা হয়। সেই সাথে হোম টিচিং সার্ভিস, ক্লাস ও গাইড টিচার্স সাপোর্ট, অপেক্ষাকৃত দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য টিচিং সাপোর্ট, অভিভাবকদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ, কলেজে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা, সহশিক্ষা কার্যক্রমে উদ্বুদ্ধকরণ ও বাস্তবায়ন, ডিজিটাল পদ্ধতিতে উপস্থিতি নির্ণয় ইত্যাদি কার্যক্রম নিয়মিত বাস্তবায়িত হয়ে থাকে।

বর্তমানে চট্টগ্রাম বিজ্ঞান কলেজে অনলাইনে আবেদনের মাধ্যমে ভর্তির সুযোগ রয়েছে। উল্লেখ্যযে সকল শিক্ষার্থী ১ম ও ২য় পর্যায়ে ভর্তি নিশ্চিত করতে পারেনি তারা চট্টগ্রাম বিজ্ঞান কলেজে সরাসরি ভর্তি হতে পারবে। বর্তমানে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি কার্যক্রম চলছে। ভর্তির যোগ্যতাচট্টগ্রাম বিজ্ঞান কলেজ., চট্টগ্রাম কমার্স কলেজ ২., সিটি বিজ্ঞান কলেজ ২., চট্টগ্রাম সিটি পাবলিক কলেজ.৫। ভর্তি সংক্রান্ত যে কোন যোগাযোগচট্টগ্রাম বিজ্ঞান কলেজ০১৮১৭২৯১৮৮৮, চট্টগ্রাম কমার্স কলেজ০১৯৭৭২৯১৮৮, সিটি বিজ্ঞান কলেজ০১৯৭২৪০২০৬০, চট্টগ্রাম সিটি পাবলিক কলেজ০১৯৭৭২৯১৮৮৮।

x