উচ্চশিক্ষায় নতুনত্ব আনতে চায় সিআইইউ

সাক্ষাৎকারে উপাচার্য ড. মাহফুজুল হক চৌধুরী

শনিবার , ১৭ নভেম্বর, ২০১৮ at ৫:৫০ পূর্বাহ্ণ
183

১০ বছর আগেও চিত্রটা ছিল ভিন্ন। উচ্চশিক্ষার জন্য চট্টগ্রাম থেকে বহুসংখ্যক শিক্ষার্থী পাড়ি জমাতো দেশের বাইরে। অনেকেই চলে যেতো রাজধানী ঢাকায়। কিন্তু সময় পাল্টেছে। সুবাতাস বইতে শুরু করেছে পাহাড় আর সাগর পাড়ের শহরে। সচেতন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের এখন পছন্দ আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা।

গুণগত মান, যুগোপযুগী সিলেবাস আর সময়ের আগে একধাপ এগিয়ে থাকার কারণে ইতিমধ্যে তরুণ-তরুণীদের পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে ওঠেছে চিটাগং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি (সিআইইউ)।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতনামা শিক্ষক, দেশবরেণ্য শিক্ষাবিদ, সদা হাস্যোজ্জ্বল ও হাসিখুশি মানুষ প্রফেসর ড. মাহফুজুল হক চৌধুরী বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করছেন।
সাক্ষাৎকারে তিনি কথা বলেছেন চট্টগ্রামের উচ্চশিক্ষা, কর্মমুখী সিলেবাস, শিক্ষকতা পেশা, গবেষণা, প্রযুক্তির জোয়ার, বই পড়ার প্রতি আগ্রহ, সিআইইউর স্থায়ী ক্যাম্পাসের পরিকল্পনাসহ নানা বিষয় নিয়ে।
সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মহিউদ্দীন জুয়েল

সিআইইউর স্থায়ী ক্যাম্পাস নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভেতর চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। একদিকে উচ্ছ্বাস, অন্যদিকে অপেক্ষা।
উপাচার্য : স্থায়ী ক্যাম্পাসের কাজ শিগগিরই আমরা শুরু করতে যাচ্ছি। ইতিমধ্যে বোর্ড অব ট্রাস্টিজের (বিওটি) সভায় এই সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত হয়েছে। আমরা শহরের মধ্যে ক্যাম্পাস গড়বো। যেখানে ফ্লাইওভারের সুবিধা পাওয়া যাবে। ছেলে মেয়েরা সহজে বাসা থেকে বেরিয়ে ক্যাম্পাসে আসা যাওয়া করতে পারবে।
খুলশী, বায়েজিদসহ শহরের বেশ কয়েকটি বড় জায়গায় ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা করার বিষয়ে মত এসেছে। কোথায় হবে এখনি ঘোষণা করতে চাইছি না। বিষয়টি চমক হয়ে থাকুক। তবে খুব শিগগিরই কাজ শুরু হয়ে যাবে। নকশা প্রণয়নে থাকবে বৈচিত্র্য।
চট্টগ্রামের উচ্চশিক্ষায় সিআইইউ তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অনুযায়ী কতটুকু এগিয়ে গেছে বলে আপনি মনে করেন?
উপাচার্য : বিষয়টি ব্যাখ্যা করা একটু কঠিন। ২০১৩ সালে ঢাকা ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যদের উদ্যোগে চট্টগ্রামে সিআইইউ প্রতিষ্ঠিত হয়। নতুন বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে শুরুতে যেভাবে এগিয়ে যাওয়ার কথা ছিল এ ক্ষেত্রে তা হয়ে ওঠেনি।
২০১৬ সালের মার্চের পর নতুন উপাচার্যের নেতৃত্বে ধীরে ধীরে সিআইইউ আন্তর্জাতিকমানের শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে। শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি আমরা। দক্ষ লোকবল নিয়োগ ও সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছি। আমাদের হাতে নেওয়া পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে আগামি দুই বছর পর এখানে বদলে যাবে শিক্ষার পুরোনো চেহারা।
তাই বেশি বেশি গবেষণামূলক কার্যক্রমের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। দক্ষ জনশক্তি হয়ে গড়ে তুলছি শিক্ষার্থীদের। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সিআইইউতে সিভিক কালচার প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছি।
আমাদের বেশি করে ইতিবাচক ভাবনায় ডুবে থাকতে হবে। একটি ভালো মানের বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠলে তার সুফল সবাই পাবে। এই প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক দুই জায়গাতেই গতিশীলতা ফিরে এসেছে। সর্বোপরি সৃজনশীলতা, দক্ষতা ও জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি করার কোনো বিকল্প নেই।
আপনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন?
উপাচার্য : আমি দায়িত্ব নেই ২০১৬ সালে। আমার প্রথম উদ্যোগ ছিল এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রূপ দেবো। কতোখানি সফল হয়েছি জানি না, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পাওয়ার থেকে কাজ করে যাচ্ছি।
ইতিমধ্যে সিআইইউ চট্টগ্রামে মডেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম কুড়িয়েছে। বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা আগের চেয়ে দ্বিগুণ হয়েছে। সাধারণত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্থায়ী শিক্ষক থাকে না। আমি উপাচার্য হওয়ার পর স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছি।
প্রতিটি স্কুলের ডিন পদে যারা নিয়োগ পেয়েছেন সবাই অভিজ্ঞ। বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট অনুযায়ী সিন্ডিকেট, অ্যাকাডেমিক কমিটি, ফাইন্যান্স কমিটিসহ একাধিক পর্ষদের পূর্ণাঙ্গ প্যানেল তৈরি করেছি।
শুধু তাই নয়, ক্যাম্পাসে অস্থায়ী শহীদ মিনার, ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুলে নতুনভাবে ৫/৬টি ল্যাব প্রতিষ্ঠা, নতুনভাবে অডিটোরিয়ামের সংস্কার, ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য কমন রুম তৈরি, স্কুল অব ল ও স্কুল অব লিবেরেল আর্টস অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সের জন্য ক্লাস রুম বৃদ্ধি, ক্যান্টিন প্রতিষ্ঠা, ফুলের বাগান, ফুড কর্নার ও ফ্যাক্যাল্টিদের জন্য লাউঞ্জ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
সর্বোপরি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক ধারা ধরে রাখার চেষ্টা করেছি। সামনে আরও বেশ কয়েকটি বড় ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা আমার রয়েছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগে দীর্ঘকাল শিক্ষকতা করেছেন আপনি। দেশ বিদেশের বহু বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে জড়িত হওয়ার সুযোগ হয়েছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে উচ্চশিক্ষার ফোকাসটা আসলে কেমন হওয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন।
উপাচার্য : বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক শিক্ষার দুটি লক্ষ্য থাকতে হবে। একটি হলো জ্ঞান সৃষ্টি, আরেকটি জ্ঞান বিতরণ। এখন জ্ঞান সৃষ্টির জন্য আয়োজনের উদ্যোগ থাকা চাই। তার পিছনে বিনিয়োগ থাকবে, কিন্তু রিটার্ন আশা করা যায় না। এটা সুদূর প্রসারি। সমাজ, অর্থনীতি ও সংস্কৃতিতে প্রভাব ফেলে।
কিন্তু যদি কোনো গবেষণা বা শিক্ষা ব্যবহারিক জগত থেকে সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় সে শিক্ষা যুগ, সময় ও সমাজের আপেক্ষিক গুরুত্ব হারিয়ে ফেলে। যে কারণে জ্ঞান সৃষ্টির লক্ষ্য সামগ্রিকভাবে দেশ, সমাজ, মানবসভ্যতার এগিয়ে যাওয়ার জন্য হওয়া উচিত।
এ ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে কারগিরি, ব্যবসা বাণিজ্য, অর্থনীতি, শিল্প ও রাষ্ট্র কাঠামোর প্রয়োজনে দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টি করতে হবে। সুতরাং দুটোরই সমন্বয় সাধন করতে হবে। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনেকেই এই লক্ষ্য থেকে অনেক দূরে আছে।
বাংলাদেশ এখন জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে যে পর্যায়ে আছে, শিক্ষার এই দুটি উদ্দেশ্য সমন্বয় করা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য অপরিহার্য হয়ে ওঠেছে। সিআইইউ সামাজিক শত সমস্যার মধ্যেও এই ধারা বজায় রাখার চেষ্টা করেছে।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে সাধারণ মানুষের নেতিবাচক ধারণা আছে। প্রচলিত ধারণা পাল্টাতে হলে আমাদের করণীয় কী?
উপাচার্য : বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস দু’দশকের কাছাকাছি। ১৯৯১ সাল থেকে যদি ধরা হয় তাহলে বলবো সময়টা কিন্তু কমও নয়। এই সময়ের মধ্যে অনেক মানুষের ধারণা তৈরি হয়েছে যে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কেবল বুঝি ব্যবসায়িক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
আমরা যদি আধুনিক সভ্যতার ইতিহাস দেখি তাহলে দেখবো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শুভ সূচনা শুরু হয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানকার প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীরা মনে করেছিলেন যেহেতু রাষ্ট্রের কাছ থেকে তারা অনেক কিছু পেয়েছেন, তাই তাদেরও দেশকে এগিয়ে নিতে নিজেদের কিছু দেওয়ার আছে। আর সেই ধারণা থেকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন সবাই। কিন্তু বাংলাদেশে দুর্ভাগ্যবশত এই নীতি পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি বলে অভিযোগ ওঠেছে। অভিযোগটি কিছুটা সত্যি হলেও আমাদের সুনাম এখনও অক্ষুণ্ন আছে।
আমি অত্যন্ত সততার সঙ্গে বলতে পারি ঢাকা আইইউবি ও চট্টগ্রামের সিআইইউ যারা প্রতিষ্ঠা করেছেন তাদের কারোরই অর্থ উপার্জনের বিষয়টি কখনই পরিকল্পনায় ছিলো না। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে তারা শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করে ছিলেন। এখানকার অর্জিত অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য ব্যয় হয়।
যারা শিক্ষকতা পেশায় আসতে চান একজন শিক্ষাবিদ হিসেবে তাদের প্রতি আপনার কী পরামর্শ থাকবে?
উপাচার্য : যারা আসতে চায় তাদের প্রতি আমার দুটি পরামর্শ থাকবে। একটি হলো পরিপূর্ণভাবে তাদের মানসিক ও শিক্ষাগত প্রস্তুতি থাকা চাই। আরেকটি হল এই পেশা গ্রহণ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের উৎসাহিত করতে সমাজ, রাষ্ট্র ও কর্তৃপক্ষ সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে। শিক্ষকতা এমন একটি পেশা যা অন্য ৮/১০টি পেশার মতো নয়। এই পেশায় আছে ঈর্ষান্বিত সাফল্য। যারা পেশা হিসেবে নিতে চান তাদের বলবো প্রচুর পড়তে হবে। জ্ঞানে বেশি বেশি সমৃদ্ধ হওয়ার কোনো বিকল্প নেই।
শুধু ক্লাসরুমে আমি শিক্ষার্থীদের পাঠদান করবো এই মানসিকতা পরিহার করা উচিত। এখানে নিত্য-নতুন জ্ঞান সৃষ্টির জন্য ডুবে থাকতে হবে। ভালো জার্নাল, প্রকাশনা-পুস্তক ইত্যাদি কাজগুলোতে তার মুন্সিয়ানার ছাপ থাকা জরুরি।
এই ক্ষেত্রে যারা মেধাবী তাদেরকে শিক্ষকতা পেশায় আনার জন্য সামাজিক মর্যাদা, আর্থিক নির্ভরতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এতে যেন তার জ্ঞান সৃষ্টির প্রচেষ্টায় কখনই কোনো ব্যাঘাত না ঘটে।
আপনি কীভাবে শিক্ষকতা পেশায় আসলেন। ছোট বেলায় কি হতে চেয়েছিলেন?
উপাচার্য : বাবা-মা চেয়েছিলেন পড়ালেখা শেষ করে যেন একজন ভালো মানুষ হই। তবে রাজনীতিবিদদের বক্তব্য সে সময় খুব মনোযোগ দিয়ে শুনতাম। ভীষণ টানতো। পরে একসময় হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীদের দেখে ব্যারিস্টার কিংবা আইনজীবী পেশার প্রতি আকৃষ্ট হই। তবে পড়ার প্রতি আগ্রহ তৈরি হলে পরবর্তীতে বুঝতে পারি শিক্ষকতা পেশাই আমার আসল ঠিকানা। এর পেছনে অবশ্য আরও একটি কারণ আছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার আগে যখন বইয়ে কোনো ব্যক্তির নামের আগে ডক্টর লেখা থাকতো, তখন আমি এই শব্দটির প্রতি আকৃষ্ট হতে শুরু করি। যখন জানতে পারলাম ডক্টর লিখতে হলে অনেক পড়ালেখা থাকতে হবে তখন একটা উৎসাহ কাজ করে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার পর আমি অনেক দেশ ভ্রমণ করেছি। যুক্তরাষ্ট্রের একটা খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিজে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেছি। পরবর্তীতে দেশটির আরও দুটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফেলোশিপ পেয়েছি।
জাপানোর বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় টোকিও ইউনিভার্সিটি থেকেও উচ্চতর ডিগ্রি লাভের সুযোগ হয়েছে। ইউরোপ, ভারতসহ অনেক দেশেই নিজের উপস্থাপিত জ্ঞান বিতরণের সুযোগ পেয়েছি। জার্নাল প্রকাশিত হয়েছে প্রচুর। সাফল্য পেতে হলে মানুষকে নিরলস পরিশ্রম করতে হবে।
এখনকার তরুণ প্রজন্ম প্রযুক্তি নির্ভর। আপনারা একসময় পায়ে হেঁটে লাইব্রেরিতে গিয়ে বই পড়েছেন। আপনি কি মনে করেন বর্তমান সময়ে বই পড়ুয়াদের সংখ্যা আগের চেয়ে অনেক কমে যাচ্ছে?
উপাচার্য : অবশ্যই। এই বিষয়ের সঙ্গে আমি পুরোপুরি একমত। এখনকার ছেলে মেয়েদের বেশির ভাগই বই পড়ে না। আমি মনে করি এই ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের অনেক দায়-দায়িত্ব আছে। তাদেরকেই বই পড়ার প্রতি ছাত্রদের বেশি বেশি উৎসাহিত করতে হবে। নিতে হবে যুগোপযুগী উদ্যোগ। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের একটি বই পুরাটা শেষ করার মানসিকতা কম। শিক্ষকদের উচিত তাদেরকে আর্টিকেল পড়তে দিয়ে বইয়ের প্রতি আকৃষ্ট করা। পরবর্তীতে রিভিউ লিখতে দিতে হবে। এভাবে বইয়ের সঙ্গে বন্ধুত্বমূলক সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে।
প্রযুক্তি শিক্ষাকে অনেকখানি সহজতর করেছে। আপনার মন্তব্য শুনতে চাই?
উপাচার্য : আমি বিষয়টিকে ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখি। জ্ঞানে সমৃদ্ধ হওয়ার জন্য কে কিভাবে প্রযুক্তিকে ব্যবহার করছে, সঠিকভাবে করছে কি না তা দেখার বিষয় অবশ্য রয়েছে।
তবে প্রযুক্তির পাশাপাশি বইও পড়তে হবে। সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, কর্মশালা, গোলটেবিল বৈঠকসহ একাধিক জ্ঞান বৃদ্ধির ধাপগুলোতে অংশ নিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতামত ভাগাভাগি করা উচিত। এতে জ্ঞানের বিকাশ পরিপূর্ণভাবে বিকশিত হয় বলে আমার কাছে মনে হয়।
আপনাকে ধন্যবাদ
উপাচার্য : তোমাকেও ধন্যবাদ।

x