উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ক্যাম্পাস

এম. সারওয়ার

শনিবার , ১৯ মে, ২০১৮ at ১২:০৮ অপরাহ্ণ
170

এসএসসি পরীক্ষা পাশের পর ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে সাউথ এশিয়ান কলেজে ভর্তি হয়েছিলাম। কলেজ যেদিন বিনামূল্যে পাঠ্যবইয়ের ডিজিটাল ভার্সনসহ ল্যাপটপ দিলো সেদিন হতে পড়াশুনা আমার জন্য সহজসরল হয়ে গেলো। টিচারদের ভিডিও লেকচারগুলো কলেজের ফ্রি ওয়াই ফাই ব্যবহার করে ডাউনলোড করে বাসায় নিয়ে এসে বারবার দেখার সুযোগ পেতাম। তাই প্রাইভেট পড়ার দরকার হতো না মোটেই। তারপরও কলেজ কর্তৃক ফ্রি অতিরিক্ত ক্লাস তো ছিলই। আর্থিক সমস্যার কারণে কলেজ ফাউন্ডেশন হতে আমাকে ১০০% বৃত্তির ব্যবস্থা করা হলো। শুধু তাই নয়, এইচএসসি পরীক্ষার পর মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ভালো ফলাফল করার জন্যও সহযোগিতা পেয়েছি। আমার দৃষ্টিতে এটা শুধু কলেজ নয়, স্বপ্ন পূরণের সুতিকাগার’এই অভিমত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ১ম বর্ষ পড়ুয়া আফরোজা জান্নাত কোহেলীর। এমন অনেক মেধাবীর স্বপ্নপূরণের ক্যাম্পাস চকবাজার এলাকায় চট্টেশ্বরী রোডে অবস্থিত সাউথ এশিয়ান কলেজ। চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে এবছর এসএসসিতে জিপিএ৫ পেয়েছে ৮,০৯৪ জন। বাঁধভাঙা উল্লাসে মাতার পরপরই এই মেধাবীদের কপালে চিন্তার ভাঁজমনের মত কলেজে ভর্তি হতে পারবতো?। নামকরা সরকারি কলেজগুলোতে আসন সংখ্যার চাইতে প্রায় ২০ গুণ অধিক আবেদন জমা হয়। এই তীব্র প্রতিযোগিতায় জিপিএ ৩৪ প্রাপ্তরা তো দূরের কথা জিপিএ৫ পেয়েও ভর্তির সুযোগ মিলছে না প্রতি বছর। তাই সচেতন অভিভাবকগণ কলেজ ভর্তির আবেদনের ক্ষেত্রে সরকারি কলেজের পরই, পড়ালেখার মান বিচারে সরকারি কলেজের সাথে পাল্লা দিতে সক্ষম প্রাইভেট কলেজগুলোকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। এর মধ্যে সাউথ এশিয়ান কলেজ অভিভাবকদের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।

কলেজের প্রকল্প পরিচালক মো. আবদুল্লাহ্‌ আল মামুন বলেন, আমরা নিজস্ব সার্ভার ও সফটওয়্যার, নিজস্ব ওয়েব পোর্টাল এবং আইটি বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে ডিজিটাল ক্লাসরুম পরিচালনা করে থাকি। আমরা গত পাঁচ বছর যাবৎ ভর্তিকৃত প্রায় ২০০০ শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে অন্যান্য শিক্ষা উপকরণের সাথে পাঠ্যবইয়ের ডিজিটাল ভার্সনসহ একটি করে ল্যাপটপ/ট্যাব প্রদান করে আসছি। সাউথ এশিয়ান কলেজে প্রতিটি ক্লাসের লেকচার মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে ভিডিও আকারে উপস্থাপন করেন দক্ষ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক। এতে ক্লাসের পড়া হয়ে উঠে প্রাণবন্ত ও সহজবোধ্য। সৃজনশীল পদ্ধতি সঠিকভাবে বাস্তবায়নের পূর্বশর্তই হলো Feedback/Group Work যা ছাত্রছাত্রীদের জ্ঞানমূলক ও অনুমোদনমূলক প্রশ্নোত্তরে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। প্রতিদিন একটি বিষয়ের উপর নির্ধারিত ফরম্যাটে এসাইন্টমেন্টের মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থীর প্রয়োগমূলক ও উচ্চতর দক্ষতামূলক প্রশ্নের সঠিক উত্তরদানের অনুশীলন করানো হয়। ফলে শিক্ষার্থী সহজেই সৃজনশীল পদ্ধতিতে সাবলীল হয়ে ওঠে।

আবার ক্লাস শেষে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিষয় সহজে অনুধাবন করার জন্য সকল শিক্ষার্থীকে তাদের ট্যাবএ পাঠ্য সংশ্লিষ্ট অ্যানিমেশন, ভিডিও ক্লিপস, প্রেজেন্টেশন হ্মাইড ইত্যাদি দেয়া হয় যাতে ডিজিটাল কনটেন্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যতবার খুশি ক্লাস লেকচারটি পুনরায় দেখতে পারে। এছাড়া স্বল্প মেধাবীদের জন্য রয়েছে একজন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক। সাউথ এশিয়ান কলেজ উদ্ভাবিত সৃজনশীল পদ্ধতি আয়ত্ত্ব করার বিজ্ঞানসম্মত স্বতন্ত্র Method-69 পদ্ধতিতে দক্ষ, অভিজ্ঞ শিক্ষকমন্ডলী কর্তৃক পাঠদানের ফলে ডিজিটাল ক্লাসরুমে ক্লাসের পড়া ক্লাসেই শেষ হয়। কোন শিক্ষার্থী মাসিক পরীক্ষায় কাঙ্খিত ফলাফল অর্জনে ব্যর্থ হলে ক্লাসের পর/পূর্বে তার জন্য অতিরিক্ত ক্লাস (যেখানে পড়িয়ে, শিখিয়ে, লিখিয়ে পড়া শেষ করা পর্যন্ত ক্লাস চলবে)-এর ব্যবস্থা রয়েছে। তাই কোন শিক্ষার্থীকে বাইরে প্রাইভেট পড়তে হয় না, সত্যিকার অর্থেই।

অধ্যক্ষ প্রফেসর দিদারুল আলম এ প্রসংগে বলেন, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমে দুর্বোধ্য বিষয়সমূহ ছক, সমীকরণ, চিত্র অথবা ভিডিওর মাধ্যমে হয়ে উঠে সহজ থেকে সহজতর। Power Point Presentation-এর মাধ্যমে লেকচার এর কারণে সময়ের অপচয় অনেক কম হয়। এ ছাড়াও নিয়মিত ক্লাস টেস্ট, মান্থলী টেস্ট, টার্ম ইত্যাদি পরীক্ষার মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের মূল্যায়ন গ্রেডিং ও প্রমোশন নির্ধারণ করা হয় এবং ফলাফল অভিভাবকের নিকট গার্ডিয়ান পোর্টালে পাঠানো হয়। সর্বোপরি মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের মাধ্যমে শিক্ষাকে সহজ, আনন্দময় ও কার্যকরণে সাউথ এশিয়ান কলেজ দারুণভাবে সফল হয়েছে, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ই+সহ শতকরা ৯২% পাশের হার তারই প্রমাণ। ফলে সচেতন অভিভাবকগণ অনলাইন আবেদনে প্রথম অপশনেই এই কলেজের নাম রাখবেন। গুলজারের পশ্চিমে, চট্টেশ্বরী রোড, চকবাজার, চট্টগ্রাম, ফোন০১৯৫২ ১০০৯০০, ০১৯৫২৬০০১০০ এই নম্বরে এবং www.sacc.edu.bd এই সাইটে লগ ইন করে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।

x