উখিয়ায় ক্রেতাদের পছন্দ দেশি মাঝারি গরু

রফিকুল ইসলাম, উখিয়া

শুক্রবার , ৯ আগস্ট, ২০১৯ at ৬:৫১ পূর্বাহ্ণ
22

উখিয়ার সব হাট-বাজারে স্থানীয় গরু ও মহিষ বেশি। কোরবানি দেয়ার মতো সামর্থ্যবান লোকজনের হারও বেড়েছে। তুলনামূলকভাবে গরু-মহিষের দাম কিছুটা বেশি। তবে শেষ মুহূর্তের অপেক্ষায় অধিকাংশ ক্রেতা-বিক্রেতা।
উখিয়ার গরুর বাজারগুলোতে এবার মিয়ানমার ও ভারতের গরুর চেয়ে দেশীয় গৃহপালিত ও খামারিদের গরুর সরবরাহ অনেক বেশি। দাম কিছুটা চড়া হলেও বেচাকেনাও চলছে মোটামুটি। মঙ্গলবার থেকে মিয়ানমারের পশু আমদানি বন্ধ করে দিয়েছেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে গরুর বাজারে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসন তৎপর রয়েছে।
উখিয়ার সদর, মরিচ্যা, রুমখা, কুতুপালং, পালংখালীর কোরবানির পশুর হাটগুলোতে রয়েছে প্রচুর সংখ্যক লোকজন ও গবাদি পশুর সমাগম। বড় আকারের গরুর তুলনায় বাজারে অধিকাংশ ক্রেতাদের পছন্দ দেশীয় গৃহপালিত মাঝারি আকারের গরু। তবে আশানুরূপ বেচাকেনা শুরু হয়নি। স্থানীয় ব্যবসায়ী, হাটের ইজারাদার, প্রাণিসম্পদ সংশ্লিষ্টদের আশা, আজ শুক্রবার থেকে রোববার এ তিনদিন কোরবানির পশুর ক্রয়-বিক্রয়ে গতি আসবে।
মিয়ানমার থেকে গত ১ সপ্তাহে প্রায় ১০ হাজারের অধিক গরু ও মহিষ নাফ নদী পাড়ি দিয়ে নৌকায় করে এপাড়ে এসেছে। এসব গরু স্থানীয় বাজারে প্রভাব ফেলেছে। কোরবান পর্যন্ত স্থানীয় খামারিদের উৎপাদিত গরু ও মহিষের বাজারদর ধরে রাখতে ৬ আগস্ট থেকে মিয়ানমার হতে সকল প্রকার গবাদি পশু আমদানি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। স্থানীয় গবাদি পশুর দরপতনের আশংকায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন।
নুরুল আমিন (৩৭) নামের এক ব্যক্তি ২টি মাঝারি সাইজের গরু নিয়ে এসেছেন উখিয়া বাজারে। ২টি গরুর দাম হাঁকা হচ্ছে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। তার বাড়ি রাজাপালং ইউনিয়নের দোছড়ী গ্রামে। তিনি জানান, গরু ২টি রমজানের পরের সপ্তাহে ক্রয় করেছেন ১ লাখ ১০ হাজার টাকায়। এ পর্যন্ত গরুর খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য খাতে ব্যয় হয়েছে ৩০ হাজার টাকার বেশি।
উখিয়া উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সাহাব উদ্দিন বলেন, উখিয়ায় কোরবানি পশুর চাহিদা ১২ থেকে ১৩ হাজারের মতো। কিন্তু এ বছর স্থানীয়ভাবে কোরবানি উপলক্ষে প্রায় ১৭ হাজার গরু মোটাতাজা করা হয়েছে। উখিয়ায় ৩৪২টি খামার ছাড়াও স্থানীয় কৃষক ও গৃহস্থ পরিবারে প্রচুর গবাদি পশু রয়েছে। এতে স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে গরু বিক্রয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের জন্য বিভিন্ন দাতা সংস্থার নিকট এসব গরু স্থানীয়ভাবে বিক্রির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। প্রাণিসম্পদ অফিসের পক্ষ থেকে পশুর হাট মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করা রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী জানান, গরুবাজারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা। সার্বক্ষণিক পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে, অপ্রীতিকর ঘটনা থেকে সাধারণ ক্রেতা-বিক্রেতারা নিরাপদ থাকে।

x