ঈদ উল আযহার আনন্দ হোক সবার

বিশ্বজিৎ পাল ও গোলাম সরওয়ার

বৃহস্পতিবার , ৮ আগস্ট, ২০১৯ at ৪:১৮ পূর্বাহ্ণ
690

বিশ্ব মুসলমানদের প্রধান দুটি উৎসবের মধ্যে একটি হচ্ছে “ঈদ-উল-আযহা”। ঈদ ঘরে ঘরে আনন্দ আর খুশীর শিহরণ জাগায় ছোট, বড়, ধনী, গরীব সকলের মাঝে কন্দরে। এদিন হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে যাওয়ায় কোনো মানুষের ভেতর আমিত্ব থাকে না। শুধুমাত্র মুসলিম সমাজেই তার আনন্দ বার্তা ছড়ায় না। সর্বত্রই বিঘোষিত হয়ে ওঠে ঈদের জাগরণী উচ্ছ্বাস। মহামিলনের ঐক্যবন্ধনে দৃঢ় সূত্র গেঁথে যায় তেপান্তরে সীমানা দিগন্ত ছাড়িয়ে। পবিত্র ঈদ- উল- আযহার আনন্দ ও মহান আল্লাহকে খুশি করতে পশু কুরবানীর মধ্য দিয়ে আত্মত্যাগের শান্তির বাণী ছড়িয়ে পড়ুক প্রতিটি ঘরে ঘরে। ধর্মীয় মূল্যবোধে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় চেতনার ছোঁয়া দিয়ে এই ঈদে মানবিকতা জাগ্রত হয়ে ওঠুক। ঈদ শুধু নিছক আনন্দ আর ফুর্তির নাম নয়; এ থেকে আমাদের জীবনের জন্য শিক্ষণীয় আছে অনেক কিছু। বিশেষ করে সুখ, সৌহার্দ্য আর আনন্দের বার্তা নিয়ে আসা এই পবিত্র উৎসবে ধনী-দরিদ্র, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী সব মুসলমান মিলেমিশে ঈদের আনন্দ সমভাগ করে নেন, পারস্পরিক হিংসা-বিদ্বেষ, অহংকার ভুলে খুশিমনে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করেন। কোরবানীর আদর্শ হয়তো এসব অনুভুতিতেই লুকিয়ে আছে। তবে সময়ের সাথে সাথে সমাজে ঈদ ভাবনায় এসেছে পরিবর্তন। এ পরিবর্তনে প্রকট হয়ে উঠেছে আর্থ-সামাজিক বৈষম্য আর প্রতিযোগী মন। বিশেষ করে এখন ঈদের আনন্দ নিয়ন্ত্রণ করছে আর্থিক সামর্থ্যের। নিম্নে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের ঈদের ভাবনা তুলে ধরা হল ঃ

ড. ইলু ইলিয়াস
শিক্ষক

সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান। ঈদ-উল-আযহা ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, অসামান্য ত্যাগের মহিমায় সমুজ্জ্বল ঈদ-উল-আযহা। এমন ত্যাগের দৃষ্টান্ত সৃজন বিশ্বে দ্বিতীয়টি আর নেই। ত্যাগের এই বিরল ইতিহাস বস্তুতই আল্লাহর প্রেরিত পুরুষ ইব্রাহিম (আঃ) এর স্মৃতি বিজড়িত। আল্লাহর ইচ্ছা হলো প্রিয় বান্দা ইব্রাহিম তাঁর জন্যে কতটা ত্যাগ স্বীকার করতে সক্ষম তার পরীক্ষা নেয়ার। তিনি বলেন, আপন ঔরসজাত সন্তান ইসমাইল (আঃ) কে আল্লাহর তরে কোরবানী প্রদানের সিদ্ধান্ত ও চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণের মধ্য দিয়ে ইব্রাহিম (আঃ) সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে যে অতুলনীয় আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন তার মধ্য দিয়ে সৃজন বিশ্বে অনন্য মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে উঠে মানবজীবন। এই মহিমান্বিত মহত্তম মানবজীবনের সাধনায় প্রতিবছর জিলহজ্ব মাসের প্রারম্ভে বিশ্বের সকল প্রান্ত থেকে লাখো মুসলমান ইব্রাহিম (আঃ) এর সেই স্মৃতি বিজড়িত স্থানে সম্মিলিত হয়ে পালন করেন পবিত্র হজ্ব। অতএব, তারা সেখানে এবং অন্যরা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নিজ নিজ অবস্থানে প্রদান করেন আল্লাহ নামে পশু কোরবানী। এই সম্মিলন এই আত্মত্যাগ বৃহত্তর মানবমন্ডলীকে যেমন ঐক্যের সাধনায় উদ্বুদ্ধ করে, তেমনি উন্নীত করে দেয় মহত্তম জীবন বোধে। বিশেষ করে পবিত্র হজ্জ্বের আনুষ্ঠানিকতার পর সারা বিশ্বে শুরু হয় ঈদ-উল-আযহার উৎসব। এই দেশে ঈদ-উল-আযহাকে ‘কোরবানির ঈদ’ বলা হয়ে থাকে। ঈদের এক মাস আগে থেকেই বিভিন্ন দোকানপাটে কেনাকাটা শুরু হয়ে যায়। কোরবানির পশু হিসেবে বাছাই করে নেয়া হয় গরু, ছাগল বা মহিষ। বস্তুত এভাবেই পবিত্র ঈদ-উল আযহা, পবিত্র কোরবানী আমার কাছে হয়ে উঠে মানব মহত্বের, মহত্তম জীবন বোধের এক অনতিক্রম্য স্মারক। অতএব, কামনা করি এই বোধ ও বোধির আলোক প্রক্ষেপনে নিরন্তর ধারায় আনন্দময় হয়ে উঠকু মানবভূমি। পবিত্র ঈদ-উল-আযহার শিক্ষা সব শ্রেনীর মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ুক- এমনটি প্রত্যাশা করছি।

অধ্যাপিকা বিবি মরিয়ম
শিক্ষিকা

আগ্রাবাদ মহিলা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপিকা। ঈদ-উল-আযহার ভাবনা ব্যক্ত করে বলেন, প্রতিবছরের ন্যায় এবারও পালিত হবে বিশ্ব মুসলিমের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদ-উল-আযহা। আল্লাহ পাকের প্রতি আনুগত্য এবং সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের ঐতিহাসিক ঘটনার স্মরণে মুসলিম বিশ্বে যুগ যুগ ধরে পবিত্র দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। কোরবানি শব্দের উৎপত্তিগত অর্থ হচ্ছে আত্মত্যাগ, আত্মোৎসর্গ, নিজেকে বিসর্জন, নৈকট্য লাভের চেষ্টা ইত্যাদি। এবছর ১২ আগষ্ট ঈদ-উল-আযহা এবং দুইদিন পর ১৫ আগষ্ট জাতীয় শোক দিবস পালনের আনুষ্ঠানিতকতায় একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে তিনি বলেন, সকালে ঈদ জামায়াতের পর গরু কোরবানী দিয়ে রান্না করা মাংসের তরকারি সবাইকে নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাঁর পরিবারের সকল শাহাদাত বরণকারী সদস্য এবং জাতীয় চার নেতার রুহের মাগফেরাত কামনায় ফাতেহা দেব। গরীব, দুঃখী, অসহায় প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের কোরবানী পশুর দুই তৃতীয়াংশ বন্টন করে দেব।
চট্টগ্রাম-১১ আসনের স্বাধীনতা নারী শক্তির পরিচালক অধ্যাপিকা বিবি মরিয়ম বলেন, ছোট বেলা থেকে পরিবার থেকে শিখেছি, প্রথম রান্না করা মাংস ধনী- গরীব নির্বশেষে সবাইকে নিয়ে একসাথে বসে খাওয়া। অত:পর গরীব ও অসহায় পরিবারগুলোর কাছে তাদের প্রাপ্র্য হক মাংস পৌঁছে দেওয়া। এবারও তার ব্যতিক্রম হবেনা। কিন্তু সবার সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ে দিনের পুরাটাই কেটে যাবে। গোসাইলডাঙ্গা ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের মহিলা সম্পাদিকা মরিয়ম আরো বলেন, এ বছরের ঈদ-উল-আযহা পালনের মধ্যে দিয়ে আশা করবো বঙ্গবন্ধুর স্বাপ্নের লালিত এবং প্রাণের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাস্তবায়িত বাংলাদেশে ৭১ এর পরাজিত শক্তি দমন করে মহান আল্লাহপাক যেন সকলের ভাগ্যেন্নয়নে সত্যিকারের শান্তিময় উন্নত বাংলাদেশ উপহার দেন।

ডা. এনামুল হক চৌধুরী
চিকিৎসক

চট্টগ্রামের পাহাড়তলীস্থ চক্ষু হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগে জুনিয়র কনসাল্টেন্ট হিসেবে কর্মরত। ঈদ ভাবনা নিয়ে তাঁর মুখোমুখি হলে তিনি জানান, মক্কা নগরীর মিনা প্রান্তরে আল্লাহর দুই নিবেদিত বান্দা ইব্রাহীম ও ঈসমাইল মহান আল্লাহর কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের মাধ্যমে তুলনাহীন ত্যাগের যে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন সেটিরই স্মৃতিচারণ হচ্ছে এই ঈদ-উল-আযহা বা কোরবানীর ঈদ। ইসলামের এক মহান নিদর্শন এই কুরবানী যা “সুন্নতে ইব্রাহীম” হিসেবে মহানবী (সাঃ) প্রতিবছর মদিনায় পালন করতেন। পরবর্তী সময়ে সাহাবীগণও নিয়মিতভাবে এটি পালন করেছেন। বছর শেষে আবার ঘুরে এল কুরবানীর ঈদ। তিনি বলেন, এক সময়কার ছেলে বেলায় ঈদের দিনে সকালে দল বেঁধে পুকুর ঘাটে যাওয়া, গোসল সেরে নতুন জামা পড়া, তারপর মসজিদে যাওয়া। কোরবানী দেওয়া। এ বাড়ি ও বাড়ি। কোরবানীর মাংস খাওয়ার মধ্যেই দিনটি কাটিয়ে দিতাম। আর এখন প্রথমে ছেলেকে তৈরি করি। বাচ্চাকে নিয়ে জমিয়তুল ফালাহ মসজিদে নামাজ পড়ি। শহরের আত্মীয়- স্বজন, বন্ধু- বান্ধবদের সঙ্গে দেখা- সাক্ষাৎ করি। এক ফাঁকে গ্রামের বাড়ি যাই। মা- বাবা সহ মুরুব্বিদের কবর জেয়ারত করি। সুযোগে, ছোট বেলাকার গ্রামের সেই ঈদ খুঁজে বেড়াই…! অন্যদিকে, এখন বুকের ভেতরে কষ্টও কম বাজে না। অক্ষমতার কষ্ট, ব্যর্থতার গ্লানি! আশ-পাশে এতো অভাবী মুখ! বিশেষ করে শিশুদের জন্য অনেক কিছু করতে আমার ইচ্ছে করে। যতটুকু পারা যায় আমি করি। কিন্তু তৃষ্ণা মেটে না! বাস্তবিকপক্ষে, ব্যক্তিগতভাবে এই সমস্যার সমাধান মোটেই সম্ভব নয়। প্রয়োজন রাষ্ট্রীয় সমাধান।

জেরিন মিলি
উন্নয়নকর্মী

উন্নয়ন ও সংস্কৃতিকর্মী জেরিন মিলি। এনজিও সংস্থা কোডেক এ প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। ঈদ-উল-আযহার ভাবনায় তিনি আনন্দের সাথে বলেন, ঈদ নিয়ে আমার আবেগ বা অনুভুতি অন্য দশ জনের মতোই অভিন্ন। ছোটোবেলায় ঈদ ছিলো অকৃত্রিম আনন্দের অফুরন্ত উৎস। অন্তত দশ দিন আগে চলত ঈদের প্রস্তুতি। আমাদের গ্রামের একঘেঁয়ে জীবনে ঈদের আগে পরের কয়েকদিন সবাই মেতে উঠতো অফুরন্ত অনাবিল আনন্দে। ঈদ-উল-আযহার আনন্দ কোরবাণীর পশুর আগমনের সাথে সম্পৃক্ত। কার গরু বড় বা সুন্দর এ নিয়ে চলতো ছোটোদের তর্কবিতর্ক। সেখানে নিজেদের পশুর শ্রেষ্ঠত্ব দাবিকে জয়ী করার আপ্রাণ প্রচেষ্টা থাকতো। পরিবারের নতুন সদস্যের মতোই কোরবাণীর পশুকে যত্ন নিতাম আমরা। অল্পকয়েক দিনে আপন করে নিতাম তাকে। একসময় অনুভব করতাম কোরবানীর পশুর সাথে আমাদের তৈরি হয়ে গেছে নিবিড় এক টান। তবে ঈদের দিন সকল আনন্দ রূপ নিত বিষাদে। গরু জবাইয়ের সময় কখনো সামনে যেতে পারিনি। প্রিয় বস্তু হারানোর বেদনায় বিষন্ন হত মন। কোরবানীর আদর্শ হয়তো এই অনুভুতিতেই লুকিয়ে আছে। তবে সময়ের সাথে সাথে সমাজে ঈদ ভাবনায় এসেছে পরিবর্তন। এ পরিবর্তনে প্রকট হয়ে উঠেছে আর্থ-সামাজিক বৈষম্য আর প্রতিযোগী মন। এখন ঈদের আনন্দ নিয়ন্ত্রণ করছে আর্থিক সামর্থ্য। প্রতিযোগিতায় ছিটকেপড়া সীমিত আয়ের মানুষের বেদনাও বটে। ছোটোবেলায় দেখার জগত ছিল ছোটো। সেখানে রঙ ছাড়া অন্যকিছু দেখিনি। তখন আনন্দ ছাড়া আর কোনো অনুভূতি ছিলো না। এখন বেড়েছে দেখা ও জানার জগত। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও নারীদের দিকে তাকালে, নিম্ম ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যদের দিকে তাকালে; সর্বোপরি লোক দেখানো যাকাতের টাকা, সস্তা শাড়ি লুঙ্গি আর কয়েক টুকরো হাড়মাংসের আশায় ঘন্টার পর ঘন্টা রৌদ্রতাপে ঘর্মাক্ত শরীরে দাঁড়িয়ে থাকা দরিদ্র মানুষ, অথবা পদপৃষ্টে মৃত যাকাতপ্রার্থীর লাশ দেখলে মনে প্রশ্ন জাগে- এমন বৈষম্যমূলক, বিষাদময় ঈদ কি আমরা কখনো চেয়েছিলাম?

সাইফুল ইসলাম
অভিনয় শিল্পী

চট্টগ্রাম থিয়েটার ওয়ার্কশপের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমি রেপার্টরি থিয়েটার দলের নিয়মিত অভিনয় শিল্পী হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি দলের বাইরেও বিভিন্ন দলে অতিথি শিল্পী হিসেবেও নিয়োজিত রয়েছেন। ঈদ-উল-আযহার ভাবনা নিয়ে চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমির সদস্য সাইফুল ইসলাম বলেন, সারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় তিন দিন ব্যাপী চলে ঈদ-উল-আযহার উৎসব। বছর শেষে যখন কোরবানির ঈদ ফিরে আসে ছোটবেলায় আব্বার সাথে গরুর হাটে যাওয়াটা কল্পনায় বীজ বুনতো মনের চিলেকোটায় কখন যাবো, কখন যাবো। আব্বা নিতে চাইতেন না, যদি গরু লাথি মারে কিংবা হারিয়ে যায় হাটে সেই ভয় চিন্তা থেকে আব্বা এড়িয়ে যেতেন। পরিশেষে আমার উন্মাদনা আর পাগলামির কাছে আব্বা নতুন হয়ে যেতেন। মজার ব্যাপার হলো, ছোটবেলায় যে গরু রচনা পড়েছি সেই গরুর রচনার সাথে বাস্তব গরুর সঙ্গে হাটে গিয়ে মিলিয়ে দেখতাম গরুর চারটি পা,দুটো শিং,দুটো চোখ,একটি লেজসহ গরুর বিভিন্ন রং। আর আব্বা অনেক সময় রাগ করতেন একটা গরু দেখতে তোর এতক্ষণ সময় লাগে? পরিশেষে পছন্দের গরুটি কিনে বাড়ির পথে যেতে যেতে মানুষ জিজ্ঞেস করতো ভাই দাম কত, আর আমি বুক ফুলিয়ে দামটা বলতাম। তিনি বলেন, বাজার থেকে বাড়িতে এনে গভীর রাত পর্যন্ত গরুকে নিয়ে মনের গভীরে জমে থাকা আনন্দ উপচে পড়া, গরুকে গাছের পাতা, খড় কুড় খাওয়ানোর মাঝে কি যে আনন্দ বিরাজ করে তা বলার ভাষা নেই। তবে খারাপ লাগতো কোরবানির ঈদের দিন যখন গরু জবাই করা হতো। মনটা খারাপ হয়ে যেতো। আমার ভালো লাগতো না তবুও ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী করতে হয় বলে মেনে নেওয়া। আর এখন সেইসব স্মৃতির এ্যালবামে আটকে গেছে। এখন আর হাটে যাওয়া হয়না,তবে যাত্রাপথে উপভোগ করি কোরবানির সময়গুলো। সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা। আপনারা যেখানে থাকুন সুস্থ ও নিরাপদেই থাকুন।

মোহাম্মদ কায়সারুল আলম

কণ্ঠশিল্পী

পিতার অনুপ্রেরণায় শিল্পী সঙ্গীতাঙ্গনে প্রবেশ করেন। পৈতৃক বাড়ি ফৌজদারহাটে। ১৯৭৬-৭৭ সাল থেকে বাংলাদেশ বেতার ও বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের উদ্বোধনের পর থেকে সংগীত পরিবেশন করে আসছেন। ঈদ ভাবনা নিয়ে এই শিল্পী অনেকটা আনন্দের সাথে জানান, মুসলমানদের জন্য যে দুইটি ঈদ উৎসব রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম কোরবানি ঈদ। উৎসবের পাশাপাশি ঈদের রয়েছে আলাদা সামাজিক গুরুত্ব। আমাদের অনেক চেষ্টা থাকে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী সবচেয়ে প্রিয় কোন কিছু আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে সমর্পণ করা। পশু কোরবানির সাথে সাথে নিজেদের মধ্যকার পশুত্বকেও কোরবানের মাধ্যমে এবং সকলের মাঝে খুশির ভাগাভাগি করে আমরা অর্জন করতে চাই আল্লাহর সন্তুষ্টি। প্রকৃত ত্যাগের শিক্ষাতেই কোরবানি ঈদ এর মূল তাৎপর্য। তিনি বলেন, প্রতি বছর ঈদ আসে আনন্দের বার্তা নিয়ে। ঈদ মানে সমপ্রীতি, ভালোবাসার বন্ধনে একে অপরকে নতুন করে আবদ্ধ করে নেয়ার দিন। তাই ঈদের আনন্দ বিরাজ করে বেশ কয়েকদিন আগ থেকে। আর এ রেশ থেকে যায় ঈদের কয়েকদিন পর্যন্ত। মানুষ মানুষের জন্য, এই চিরসত্য নীতিতে সাম্য ও ঐক্যের ভিত্তি রচনা করতে হবে সুন্দর পৃথিবী তৈরী করার জন্য। তিনি আরো বলেন, প্রতিবারের মত এবার ঈদ জামাত পড়বো। তারপর পশু কোরবানি। বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করবো। দেশ, জাতির শান্তি ও সম্বৃদ্ধি কামনা করবো। ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখতে সকলের সাথে মিলিত হবে। এলাকার শিক্ষা,সংষ্কতি ও সংষ্কার কর্মকান্ডে জড়িত থাকায় আত্মীয়,পড়শী,বন্ধুবান্ধব ও সতীর্থদের সাথে আড্ডায় দিনটি কাটাবো। তবে বহু প্রিয়জন হারানোর ব্যথা আমাকে কাঁদাবে এ দিন।

হাসিনা ইয়াছমিন

গৃহিণী

চট্টগ্রাম মহানগরীর দক্ষিণ খুলশীতে স্বামী সন্তান নিয়ে বসবাস করেন। ঈদ ভাবনা নিয়ে হাসিনা ইয়াছমিনের মুখোমুখি হলে অনেকটা আনন্দের সাথে জানান, ঈদের কয়েকদিন আগ থেকে আনন্দের বাঁধ ভেঙে যায়। অপেক্ষা শুধু ঈদের দিনটির। ঈদ উপলক্ষে আমাদের আনন্দ-আয়োজনের কোনো শেষ থাকেনা। অতীতের দুঃখ দুর্দশা ছুঁড়ে ফেলে সমস্ত মুসলিম জাতি একত্রিত হওয়ার আহ্বান নিয়ে ঈদ আসে। আমরা সকল ভেদাভেদ দূর করে ছোট-বড়, গরিব-ধনী সবার সঙ্গে মিলে মিশে জানান দেই-আমরা এক আল্লাহর সৃষ্টি, আমরা এক। মিরসরাইয়ের ব্যবসায়ী মরহুম হাজী শাহ আলমের কনিষ্ট কন্য হাসিনা ইয়াছমিন আরো বলেন, ঈদ-উল-আযহায় ঘর-গৃহস্থলির কাজ অনেকগুন বেড়ে যায়। রান্না-বান্নায় ব্যস্ত থাকতে হয়। কুরবানি দেয়া, মাংস কাটা-পরিষ্কার করা তার পাশাপাশি মাংস ভাগ করে গরিব-দুঃখী ও আত্মীয়দের মাঝে বণ্টন করতে সময় লেগে যায়। ঈদের রান্না আর অতিথি আপ্যায়ন তো আছেই। কুরবানির সময় মাংসের বিভিন্ন আইটেম রান্না হয়ে থাকে, তাই তার জন্য প্রয়োজনীয় মসলা যেমন- কাবাব মসলা, গরম মশলা ইত্যাদি তৈরি করে রেখে দিই। বিশেষ করে মাংস রান্না, মাংসের বিভিন্ন ডিশ বানানো- এসব করতেই ঈদ-উল-আযহার দিনটা চলে যায়। তিনি বলেন, প্রতিবারের মত এবার ঈদ আনন্দ উদ্‌যাপন করবো মিরসরাইয়ের শশুর বাড়িতে। ঈদ মানে খুশী, এক অনাবিল আনন্দ। বছরে অনন্ত এই একটা দিন সবাই মিলে উপভোগ করে খাওয়া-দাওয়া এবং বেড়ানোর নির্মল আনন্দ। ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল-আযহার দিনে সবচেয়ে বড় আনন্দ পরিবার-পরিজন,আত্মীয়-স্বজনের সাথে মিলিত হওয়া। বাড়িতে মেহমান, পাড়া প্রতিবেশী সকলের আগমনে মনটা আনন্দে ভরে উঠে। এবারের ঈদ-উল-আযহাও চিরায়ত আনন্দ উৎসবের আমেজে থাকবে পরিপূর্ণ এমনটি আমি আশা করছি।

মো.ফজল আমিন শাওন
নৃত্যশিল্পী

বাংলাদেশ শিশু একাডেমি চট্টগ্রামের নৃত্য প্রশিক্ষক মো.ফজল আমিন শাওন। একই সাথে বাংলাদেশ টেলিভিশনের নৃত্য পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ঈদ-উল-আযহার উদ্‌যাপনের বিষয়ে মুখোমুখি হলে চারুতা সংগীত একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা, অধ্যক্ষ ও পরিচালক মো.ফজল আমিন শাওন বলেন, ঈদ-উল-আযহা মূলত: ধর্মীয় উৎসব হলেও বাহ্যিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানের দিক থেকে এটি প্রায় ঈদুল ফিতরের অনুরূপ। ত্যাগের মহিমায় উজ্জ্বল এই দিনেও থাকে আনন্দ উৎসব। ঈদ-উল-আযহা মানে শুধুমাত্র গরু-ছাগলের মাংস ভক্ষন নয়, ত্যাগের আদর্শে উজ্জীবিত হওয়ার দিনও বটে। পৃথিবীর তাবৎ ধর্ম ও সমাজে স্ব স্ব সংস্কৃতি ও অবকাঠামো অবয়বে উদযাপিত উৎসবাদিতে মানবিক মূল্যবোধের সৃজনশীল প্রেরণা প্রকাশের অভিষেক ঘটে থাকে। নানান উপায় উপলক্ষ্যে সমপ্রীতিবোধের বিকাশ লাভ ঘটে থাকে; অবনিবনার পরিবর্তে বন্ধন, মতপার্থক্যের অবসানে সমঝোতার পরিবেশ সৃজিত হয়। তেমনি মানবিক কল্যাণ সাধনই হোক ঈদুল আযহার প্রত্যয়। ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে, প্রসারিত হোক সপ্নীল সুন্দর ভবিষ্যৎ। নৈতিক মূল্যবোধ ও দৃঢ়তায় বলীয়ান হয়ে মানবিক কল্যাণ সাধনই হোক আমাদের প্রত্যয় ও দূর হোক সকল প্রকার বৈষম্য। আত্মত্যাগের মহিমায় ভাস্বর হোক সকলের জীবন এই প্রত্যাশা করছি। তিনি বলেন, প্রতিবছরের মত নিজ বাড়ি চট্টগ্রাম মহানগরীর হালিশহরে এবারের ঈদ-উল-আযহা উদ্‌যাপন করবো। সকালে নামাজ পড়ার পর শুরু হবে এ পবিত্র দিনের আনুষ্ঠানিকতা। বিশেষ করে বন্ধু বান্ধব, আত্মীয় স্বজন এবং আমার একাডেমীর শিক্ষার্থীদের সাথে আনন্দ উপভোগের মধ্যেই এ পবিত্র দিনটি পালন করবো। তবে আমরা ঈদ কেনাকাটা আর কোরবানির পশু কেনা নিয়ে ব্যস্ত যখন, তখন অসহায় দরিদ্র পরিবারগুলোতে নেই ঈদ নিয়ে কোন আয়োজন, নেই কোন কেনাকাটার ধুম। এসব পরিবারগুলোর বেশিরভাগই ঈদের দিনটি কাটান কাজ করে, বাড়তি রোজগারের আশাতেই অনেকে কাজে ছোটেন। আবার অনেকে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেন মাংস সংগ্রহ করার জন্য। প্রতিবার এসব দৃশ্য আমাকে অনেক কষ্ট দেয়।

সানজানা হক অন্ড্রিলা
শিক্ষার্থী

চট্টগ্রাম ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটিরি ডিপার্টমেন্ট অব ‘ল’র শিক্ষার্থী সানজানা হক অন্ড্রিলা। হালিশহর মধ্যম রামপুরা বাবা রবিউল হক ও মা মাসুমা হক আলোর সাথে বসবাস করলেও মিরসরাই করেরহাট এলাকার বাসিন্দা তারা। সানজানা হকের রোজার ঈদটা বেশি ভালো লাগলেও কোরবানীর ঈদেও অনেক আনন্দ উচ্ছাসে কাটানোর কথা বলেন। এবারের ঈদ উদ্‌যাপনের বিষয়ে এই শিক্ষার্থী জানায়, বছর ঘুরে আবার এল পবিত্র ঈদ-উল-আযহা। সুখ, সৌহার্দ্য আর আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে এ উৎসব। ধনী-দরিদ্র, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী সব মুসলমান মিলেমিশে ঈদের আনন্দ সমভাগ করে নেন, পারস্পরিক হিংসা-বিদ্বেষ, অহংকার ভুলে খুশিমনে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করেন। সানজানা বলেন, ঈদ আসলে প্রতিটি মানুষের জীবনে আনন্দ বয়ে যায়। জীবন হয়ে উঠে বাস্তবতার সবুজ চত্বরে একরাশ কাশ ফুলের স্পর্শানুভূতি। স্বপ্ন বিলাসী মন হয়ে উঠে জাগতিক কোলাহলপূর্ণ। প্রকৃত অর্থে ঈদ আসলে খুশীতে ভরে উঠে প্রতিটি হৃদয় আকাশ। একইভাবে আমরাও আনন্দে মেতে উঠি। যেখানে নেই কোন দুঃখ ভারাক্রান্ত মন, আবিলতা ও হিংসা বিদ্বেষের কোন হঠকারিতাপূর্ণ চিন্তা-চেতনা। সেই সমাজ ও পরিবেশ, যাতে আছে কল্যাণ কামিতা, আছে ভালবাসা, প্রেম-প্রীতি ও সহমর্মিতা। এই শিক্ষার্থী জানান, আট থেকে দশদিন আগে প্রহর গুনে থাকি কবে আসবে ঈদ। বিশেষ করে ঈদের কয়েকদিন আগ থেকে শুরু হয় ঘর সাজানোর কাজ। ঈদের দিন মাকে রান্নায় সাহায্য করবেন। মায়ের সঙ্গে মাংস দিয়ে বিভিন্ন আইটেম তৈরী করবেন। ঈদের আনাবিল আনন্দে পরিবার পরিজন, পাড়া-প্রতিবেশী ও বান্ধবীদের নিয়ে সামিল হবেন। উচ্ছাসের আনন্দ ধারায় সামিল হতে আগত মেহমানদের জন্য থাকবে মাংসসহ হরেক রকম সুস্বাদু খাবারের আয়োজন। সারাটা দিন গল্প গুজব আর আনন্দে কাটাবেন পরিবার পরিজন ও বান্ধবীদের নিয়ে। অনেক ব্যস্ততার মধ্যে দিনটি কেটে যায়। তবুও এই পবিত্র দিনের মত শান্তি আর সুখ কোন দিন থাকেনা বলে জানান এই শিক্ষার্থী।

খোদেজা আক্তার
সেবিকা

ফৌজদারহাটস্থ বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল এন্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বি.আই.টি.আই.ডি) হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত। ঈদ ভাবনা নিয়ে তার মুখোমুখি হলে অনেকটা আনন্দের সাথে তিনি জানান, আমাদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল-আযহা। দিনটি ত্যাগ ও আনন্দের দিন। ইসলাম আনন্দ-উৎসবের এ দিনকে ইবাদত-বন্দেগি দ্বারা সুসজ্জিত করেছে। তিনি বলেন, বর্তমানে কোরবানীর পশু কেনা নিয়ে একটা প্রতিযোগিতা পড়ে যায়। পশুর সাইজ (আকার) নিয়েই মূলত: এই প্রতিযোগিতা অর্থাৎ বিত্তবানরা কে কত বড় পশু ক্রয় করলো, কে কত বেশী দাম দিয়ে ক্রয় করলো এসব নিয়ে নগরীর বিভিন্ন পাড়ায়-পাড়ায় চলে আলোচনা। এ ধরনের প্রতিযোগিতা অনাকাঙ্খিত এবং বাড়াবাড়ি। তিনি বলেন, নার্সিং পেশা একটি বড় মহৎ পেশা। অসুস্থ মানুষকে মন থেকে সেবা দিতে পারলে অবশ্যই রোগী এবং তার আত্মীয়স্বজন সন্তুষ্ট হন। কারণ আমরা হাসপাতালে কর্মরত। ঈদের দিন ছুটি নাও পেতে পারি। যদি ছুটি পাই শ্বশুর বাড়ি পটিয়াতে ঈদ আনন্দে সামিল হবো। সকালে নামাজ শেষে শুরু হবে আমাদের এই পবিত্র দিনের আনুষ্ঠানিকতা। সারাদিন আনন্দ উচ্ছ্বাসে কাটানো বড় ইচ্ছা। আর ছুটি না পেলে হাসপাতালে কর্মরত থাকলেও আনন্দটাই আলাদা। কারণ এই ঈদ আনন্দে জনগনের সেবার মাঝে আলাদা একটা আনন্দ বিরাজ করে। পরিশেষে তিনি বলেন, পশুর রক্ত, আবর্জনা ও হাড় থেকে যেন পরিবেশ দূষিত না হয়, সে দিকে প্রত্যেক মুসলমানের সতর্ক হওয়া উচিত। কোরবানি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রক্ত, আবর্জনা ও হাড় নিরাপদ দূরত্বে নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলে দিতে হবে। বেশিরভাগ লোকই নিজস্ব জায়গায় পশু জবাই করে। এতে করে অলি-গলিতে বর্জ্য যেমন পড়ে, তেমনি রক্ত পড়ে দূষিত হয় পরিবেশ, চলাচলের অনুপযোগী হয় রাস্তাঘাট। মনে রাখতে হবে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ। এই শহর, এই গ্রাম আমার আপনার সকলের। তাই এটিকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে নিজেদের সচেতন হতে হবে।

মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দীন রায়হান
শিক্ষার্থী
সরকারী সিটি কলেজ থেকে আনার্সের অর্থনীতি বিভাগ থেকে শেষ বর্ষের পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। ঈদ-উল-আযহার ভাবনা নিয়ে বলেন, ঈদ মানে আনন্দ। ঈদ আমাদের হাসতে এবং ভালবাসতে শেখায়। বছর ঘুরে আমাদের মাঝে আবারো ফিরে এসেছে পবিত্র ঈদ-উল-আযহা। ঈদ আমাদের জন্য শান্তি, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের বার্তা নিয়ে আসে। ঈদের আগমনে আনন্দে মনের পূর্ণতা পায়,জেগে উঠে আমাদের উচ্ছ্বসিত মন। ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর পবিত্র ঈদ-উল-আযহা মহান আল্লাহর প্রতি অপরিসীম আনুগত্যের অনুপম নিদর্শন। ইসলামের পরিভাষায় কোরবানি হলো- নির্দিষ্ট পশুকে একমাত্র আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট সময়ে তাঁরই নামে জবেহ করা। মহান সৃষ্টিকর্তার দরবারে জবাই করা পশুর মাংস বা রক্ত কিছুই পৌঁছায় না, কেবল নিয়ত ছাড়া।
ঈদ-উল-আযহার অন্যতম শিক্ষা হচ্ছে, মনের পশু অর্থাৎ কু-প্রবৃত্তিকে পরিত্যাগ করা। হযরত ইব্রাহীম (আ.) এর অনুপম ত্যাগের অনুসরণে হাজার হাজার বছর ধরে বিশ্ব মুসলমানরা কোরবানি করে আসছেন। তারই নিদর্শনস্বরূপ প্রতিবছর হজ্ব পালনকারীরা পশু কোরবানি দিয়ে থাকেন। তিনি বলেন, ঈদের কয়েকদিন আগে থেকেই আমাদের ঈদ শুরু হয়ে যায়। ঈদের আগে বাবা আর ভাইয়ের সাথে হাটে গিয়ে গরু কেনা অন্য রকম ভালোলাগা। ঈদের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে নামাজের পরপরই শুরু হয়ে যায় কোরবানির সব কার্যক্রম। এরপর সূর্যাস্ত পর্যন্ত চলে কোরবানির সব আয়োজন। বিশেষ করে নামায শেষে গরু জবেহ, মাংস বন্টন এবং পরিবার-প্রতিবেশীদের নিয়ে একসাথে হরেক রকমের খাওয়া-দাওয়া এভাবেই কাটবে ঈদের সুন্দর মুহূর্তগুলো। এই শিক্ষার্থী আরো বলেন, আসুন আমরা আমাদের এই ত্যাগের মাধ্যমে আমাদের মনের যাবতীয় ক্রোধ, লোভ, মোহ, পরনিন্দা, পরশ্রী কাতরতা দূর করে নিজ নিজ অবস্থান থেকে জনকল্যাণমুখী কাজে অংশ নিয়ে বৈষম্যহীন সুখী, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ সমাজ তথা বাংলাদেশ গড়ে তুলি।

x