(ঈদ আসে ঈদ যায়)

রনিতা জামান

রবিবার , ১১ আগস্ট, ২০১৯ at ৮:০৩ পূর্বাহ্ণ
63

: ঈদ আসে ঈদ চলে যায়, ঠিক আগের নিয়মেই! কিনু্ত আমার আর আগের মতন করে ঈদ আসে না! কাপড় গুছানো হয় না, শুটকি কেনা হয় না, বেলা বিস্কুট ও কেনা হয় না! সব যেন স্মৃতি হয়েই থেকে যাচ্ছে! যত দিন যাচ্ছে একা হয়ে যাচ্ছি, যেন একা এসে, একাই যাবার সময় হয়ে গেছে! কখন যে যাব চলে, কখন সে ডাক আসবে জানা নেই, তবুও দিন দিন সব কাছের মানুষগুলো অচেনা, অজানা হতে চললো! এক সময় ছিল, যখন কত জমজমাট ছিল আমার বাসা! নিজের পরিবারের সদস্য ছাড়াও, সব সময় বাসা ভর্তি মানুষের আড্ডা! আমি ছোট থেকেই মানুষ পছন্দ করতাম, যেটা পরবর্তী সময়ে হয়ে এসেছে! আর এখন সময়ের সাথে সাথে চেনা মানুষ গুলো হয়ে যাচ্ছে সব অচেনা, আর অচেনা মানুষ গুলো চারপাশে আছে নানান ভাবে সময়ে অসময়ে! এই হয়তো বাস্তবতা! যেটা বলার চেষ্টা করছিলাম —-ঈদে গত ১৯৮৭ সাল থেকেই ২০১৬ সাল পর্যন্ত, চট্টগ্রাম থেকে লালমনিরহাট যাওয়া — সে এক অবর্ণনীয় কষ্ট কিন্তু তারপর ও ছিল প্রাণের এক উচ্ছ্বাস! মনে হতো না কতটা কষ্ট করে পৌঁছাতে পেরেছি কতটা কষ্ট হয়েছে! বাচ্চাদের ১২ দিন কিংবা ৩ মাস বয়স থেকেই এই জার্নির সাথে পরিচয় ছিল! নতুন টাকা সংগ্রহ করে নিয়ে যাওয়া প্রথম প্রথম দুই টাকার নোটের বান্ডিল কারণ লালমনিরহাটে সর্বোচ্চ রিঙা ভাড়া ছিল দুই টাকা, কাজেই দুই টাকার নোট নিয়ে যেতাম! রিক্সা ভাড়া দিতে গেলে প্রায় শুনতাম “তোমরা গুলা কটে থেকে আসলেন” খুব ভাব নিয়ে বলতাম চট্টগ্রাম থেকে! হায়রে দিন, মনে হয় এই সেদিনের কথা! শেষ মেয়েদের বাবার সাথে গেলাম ২০১৪ সালের ৩ জুলাই। অনেক লাগেজের সাথে পুরানো কাপড়ের বস্তা ছিল ২ টা আর একটা প্লাস্টিকের ড্রাম তাতে পুরনো সেল্ডেল ছিল, আমাকে সব সময় বলতো এগুলো ফেলবে না, বাড়িতে কত মানুষ খালি পায়ে হাঁটে, তাদেরকে দিব! বাস স্টেশনে আমার আরেক বড় ভাই এগুলো দেখে মজা করেছিল, বললো-‘সেলিম এগুলো দিয়ে তোমার ছবি তুলে এফবিতে দিব আমি ’। তখন আমার হাসবেন্ড বলেছিলো- ‘দেন চাচা, মোর তো এফবি নাই’ কথাগুলো এখনো কানে লেগে আছে! আমি আর যাই না আগের মতন করে বাড়ি! আমার সে মনটাই মরে গেছে! এখন শুধু সময়ের হাত ধরে বেঁচে থাকা! স্বপ্ন আর স্মৃতির মাঝে বিচরণ করা ছাড়া কি আর করার আছে –আমার জীবনে, ঈদ আসে ঈদ চলেও যায় —/এটাই মানুষের জীবনের বাস্তবতা!

x