ঈদে হোক উপভোগ্য অনুষ্ঠান

আয়শা আদৃতা

বৃহস্পতিবার , ২৩ মে, ২০১৯ at ৪:১৩ পূর্বাহ্ণ
31

আসছে ঈদ। ধারণা করা যায় এরই মধ্যে ঈদের অনুষ্ঠান নির্মাণ শুরু হয়েছে। তাই আগেভাগেই এই আলোচনা। কারণ, প্রতিবছরই বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বেশ কয়েকদিনের জন্য অনুষ্ঠান নির্মাণ করেন। ছোটদের অনুষ্ঠান, ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান, আলোচনা-আড্ডার অনুষ্ঠান, গানের অনুষ্ঠান আরো নানারকম আয়োজন থাকে এ তালিকায়। কিন্তু, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেসব অনুষ্ঠান দর্শনযোগ্য হয়ে ওঠে না। সাধারণ চিন্তাভাবনায় (যেখানে সৃজনশীল তার ছাপ খুঁজে পাওয়া যায় না) নির্মিত সেসব অনুষ্ঠান দর্শকপ্রিয়তা পায় না. পাওয়ার প্রশ্নও ওঠে না। ঈদের সময় সব টেলিভিশন চ্যানেলগুলো প্রচুর অনুষ্ঠান নির্মাণ করেন, যেখানে প্রাধান্য থাকে নাটকের, দর্শক তখন আকর্ষণীয় সেসব অনুষ্ঠান ফেলে মনমরা, সাদামাটা বিটিভি চট্টগ্রামের অনুষ্ঠানের কথা মাথায় কিংবা মনে আনতে চান না। সাধারণ দর্শকের কথা বাদই দিলাম, যারা এসব অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন, স্বয়ং তারাও নিজেদের অনুষ্ঠান দেখেন কি-না যথেষ্ঠ সন্দেহ আছে। তাই আগেরবারের বাজে অভিজ্ঞতার আলোকে এবারের ঈদ অনুষ্ঠানের জন্য কিছু প্রস্তাবনা রাখতে চাই।
ছোটদের অনুষ্ঠান

প্রতিদিন টেলিভিশনের সম্প্রচার শুরু হওয়ার পরপর ছোটদের জন্য একটি অনুষ্ঠান প্রচার করা হয়। ঈদে তাদের জন্য আলাদা করে অনুষ্ঠান নির্মাণ হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু শুধু গান কিংবা নাচ নির্ভর অনুষ্ঠান না করে মজাদার অনুষ্ঠান বানানো যেতে পারে শিশুদের জন্য। থাকতে পারে কার্টুন। হতে পারে বিদেশি কার্টুনের বাংলা ডাবিংও। শিশুরা সাধারণত রূপকথার গল্প কিংবা কার্টুনটাকেই বেশি পছন্দ করে। আরো একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে, শিশুরা সাধারণত একনাগাড়ে একই জিনিস বেশিক্ষণ দেখতে পছন্দ করে না, তা যত মজাদারই হোক। তাই তাদের জন্য কম সময়ের ছোট ছোট করে অনুষ্ঠান বানাতে হবে। একইসাথে শিক্ষণীয় বিষয়ের ওপরও অনুষ্ঠান নির্মাণ করা যেতে পারে, যেখান থেকে অনুষ্ঠান দেখার পাশাপাশি কিছু শিখতেও পারবে শিশুরা।
টক শো-আড্ডা

বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের প্রাণ টক শো বা আলোচনা অনুষ্ঠান। একথা বলতে হয়, সম্প্রতি এসব টক শোতে দৃশ্যমান বেশ প্রশংসনীয় পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে সেট নির্মাণে আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে অনুষ্ঠানগুলো। তবে সেট বদলালেও উপস্থাপক এবং অতিথির মুখ না বদলানোতে তাতে পুরোপুরি প্রাণ সঞ্চারিত হয়নি। ঘুরেফিরে একই উপস্থাপক আর একই আলোচকের ‘ঘুরপাক’ থেকে বেুরতে পারেনি কেন্দ্রটি। তাই অন্তত ঈদের অনুষ্ঠানগুলোতে হলেও এর ব্যতিক্রম প্রয়োজন। চট্টগ্রামে বলতে গেলে সে মানের তারকা শিল্পী নেই। যারা আছেন তারা সবাই রাজধানীকেন্দ্রিক। সেখানেই প্রতিষ্ঠিত। বিটিভি চট্টগ্রামের ডাকে তারা হয়তো সাড়া দেন না। তাই টক শোগুলো সে অর্থে দর্শকপ্রিয়তা পায় না। সে কারণে টক শো নির্ভরতা কমানো যেতে পারে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত শিল্পীদের পাওয়া গেলে সে মানের কোনো উপস্থাপককে দিয়ে আড্ডা নির্ভর অনুষ্ঠান হলে সেটি দেখার জন্য দর্শক অপেক্ষা করতে পারে বলে আশা করা যায়। আড্ডার ফাঁকে ফাঁকে গেমস কিংবা অন্য কোনো মজার বিষয় রাখা যেতে পারে। এতে করে অনুষ্ঠানগুলো কিছুটা মুখর হবে।
গানের অনুষ্ঠান

ঢাকা কেন্দ্র আর পুনপ্রচার মিলিয়ে প্রতিদিন তিন থেকে চারটি গানের অনুষ্ঠান প্রচার হয় এ চ্যানেলে। যার অধিকাংশই শ্রোতা বিরক্তির অন্যতম কারণ। ঈদের অনুষ্ঠানে ভালো গীতাকার-সুরকারের গানের পাশাপাশি ভালো শিল্পীও প্রয়োজন। লিস্টেড শিল্পীদের দৌঁড় কতটুকু এতদিনে কর্তৃপক্ষ তা আঁচ করতে পেরেছেন আশা করি। তবু তাদের মধ্য থেকে ভালোদের ভালোটা বের করে আনতে হবে।
স্টুডিও নির্ভরতা কমিয়ে দর্শনীয় স্থানে গানের শ্যুট করা যেতে পারে। চাইলে মিউজিক ভিডিও বানানো যেতে পারে। এতে করে দর্শক নতুন কিছু পাবে।
এরপরও নাটক না হওয়াতে শুন্যতাটুকু চোখে পড়বে। কিন্তু ৯ ঘণ্টা সম্প্রচারের মধ্যে ঢাকার অনুষ্ঠান-সংবাদ বাদ দিয়ে যে সময়টুকু পাওয়া যাবে তাতে অন্তত প্রতিদিন দুয়েকটি ভালো অনুষ্ঠান পাওয়ার আশা করতেই পারি।

x