ঈদের ১০ দিন আগে থেকে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধের নির্দেশ

চসিকের সাথে ওয়াসার সমন্বয় নেই : মেয়র

আজাদী প্রতিবেদন

বৃহস্পতিবার , ১৬ মে, ২০১৯ at ২:৫৭ পূর্বাহ্ণ
55

বিশ রোজা থেকে ঈদ পর্যন্ত নগরীতে কোন সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করতে পারবেনা। ঈদের ১০দিন আগ থেকে নগর জুড়ে রাস্তা খোঁড়াখুড়ি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। চট্টগ্রাম ওয়াসা ইতোমধ্যে নগরীর যে সকল সড়কে খোঁড়াখুড়ি করেছে তা আগামী শনিবার থেকে সেখানে ফেইস ওয়ার্ক শুরু করার নির্দেশ দেন সিটি মেয়র। রাস্তা কাটতে হলে ওয়াসাকে বিশ রোজার আগেই তা সম্পন্ন করতে হবে। এরপর আর কোনো রাস্তা কাটতে দেয়া হবে না বলে জানান মেয়র। তিনি গতকাল বুধবার সকালে সিটি কর্পোরেশন কনফারেন্স হলে প্রকৌশল বিভাগের এক জরুরি সভায় এই নির্দেশনা দেন। মেয়র আরো বলেন, নগর জুড়ে ওয়াসার খোঁড়াখুঁড়ি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাথে ওয়াসার কোন সমন্বয় নেই। ফলে চসিক নতুন রাস্তা করে যাওয়ার পর আবার খুঁড়ে পুরো রাস্তাটি নষ্ট করে দেয় চট্টগ্রাম ওয়াসা। ফলে নগরবাসীকে চলাচলে ভোগান্তি পড়তে হচ্ছে। পবিত্র এই রমজান মাসে এ ধরনের ভোগান্তি কারো কাম্য নয়। এতে করে নগরবাসী চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে দোষারোপ করে যাচ্ছে। বিষয়টি জনগুরুত্বের সাথে বিবেচনায় আনতে হবে। এ প্রসঙ্গে সিটি মেয়র আসন্ন ঈদ উপলক্ষে নগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নতকরণে সড়কগুলো ফেইস ওয়ার্ক কার্যক্রম চালানো কথা উল্লেখ করে বলেন জনদুর্ভোগ কমাতে ওয়াসার সাথে দ্রুত সময়ের মধ্যে সমন্বয় করে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে চসিক প্রকৌশলীদেরকে দিকনিদের্শনা প্রদান করেন। এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম ওয়াসাকে দাপ্তরিকভাবে জানানো সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন।
সিটি মেয়র বলেন ঈদের আগেই ওয়াসার সাথে চসিক সমন্বয় করে কর্তনকৃত সড়ক দ্রুত সময়ের মধ্যে মেরামত করতে হবে। নগরের কোন কোন সড়ক ওয়াসা কর্তক কাটা হবে, তার পুর্ণাঙ্গ তালিকা নিয়মিতভাবে চসিক প্রকৌশলী বিভাগের জমা দেবে ওয়াসা। এ ব্যাপারে তিনি প্রকৌশলীদেরকে আন্তরিকতার সাথে অর্পিত দায়িত্ব পালনের আহবান জানান। মেয়র আগ্রাবাদ এঙেস রোড, পোর্টকানেকটিং রোড, বায়েজিদ বোস্তামী রোড, আরাকান রোড, বেপাড়ীপাড়া রোড ইত্যাদি সম্পূর্ণকৃত টেন্ডারের প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নে নিবিড়ভাবে তদারকির জন্য প্রকৌশলীদের পরামর্শ দেন। মেয়র বলেন সংস্থার শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে প্রকৌশল বিভাগের কাজের সমন্বয় অতিব প্রয়োজন। এ সমস্ত প্রতিষ্ঠানের কাজগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে করতে হবে।
এ সময় চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা, প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল মহিউদ্দিন আহমদ, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিক, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মুফিদুল আলম, প্রধান হিসাব রক্ষন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবু সালেহ, কামরুল ইসলাম, আনোয়ার হোছাইন, মুনিরুল হুদা, সুদিপ বসাক, ঝুলন কুমার দাশ, নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাদাত মো. তৈয়ব, মোহাম্মদ শহিনুল ইসলাম, ফারজানা মুক্তা, ফরহাদুল আলম, প্রকৌলী আবু ছিদ্দিক, অসিম বড়ুয়া, আহমদুল হক ও জসিম উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
পরে সিটি মেয়রের সাথে ওয়াল্ডারল্যান্ড ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিএম মোস্তাফিজুর রহমান এক বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে ওয়াল্ডারল্যান্ড ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিএম মোস্তাফিজুর রহমান চট্টগ্রাম নগরীতে ৫ একর বিশিষ্ট একটি এ্যাকুরিয়াম পার্ক প্রতিষ্ঠার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং এদৎসংক্রান্ত বিষয়ে অ্যাকুরিয়াম প্রকল্পটি পাওয়ার পয়েন্ট এর মাধ্যমে উপস্থাপন করেন। মেয়র প্রকল্পটি যাছাই বাছাই করে তা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের আশ্বাস দেন। অন্য প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, চট্টগ্রামে বসবাসরত শিশু কিশোরদের বিনোদনে সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধিকল্পে চসিক ইতোমধ্যে যে সমস্ত পদক্ষেপ গ্রহন করেছে, তা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম শিশু পার্ককে আরো আধুনিকতম পার্ক হিসেবে গড়ে তোলার তাগিদ দেন। এ সময় কর্ণফুলী শিশু পার্ক পরিচালক (প্রশাসন) বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এম এনামুল হক, সিয়াং, হু, চেন, রুই, শিংহু উপস্থিত ছিলেন।

x