ঈদের জামাত ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নিরাপত্তা জোরদার

ঋত্বিক নয়ন

রবিবার , ১১ আগস্ট, ২০১৯ at ৭:৩০ পূর্বাহ্ণ
22

চট্টগ্রাম নগরীর ২৫৮ স্থানে ঈদুল আযহার জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) ব্যবস্থাপনায় ১৬৪টি এবং কেন্দ্রীয় ঈদ জামাত কমিটির ব্যবস্থাপনায় ৯৪টি জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নগরীর ৩৪টি বড় ঈদ জামাতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে। অন্যান্য ঈদ জামাতে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এরমধ্যে এক ভাগ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর পয়েন্টগুলোতে মোতায়েন করা হবে। অপর দু’ভাগের মধ্যে এক ভাগ ঈদ জামাতের স্থানে সার্বক্ষণিক দায়িত্বে ও অপরভাগ পুরো নগরজুড়ে বিভিন্ন ভাগে ভাগ হয়ে টহলে দেবে। এছাড়া পশুর হাটে মোতায়েন করা পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন এলাকায় ঈদ জামাতে মোতায়েন করা হবে।
ফাঁকা নগরীর নিরাপত্তা প্রসঙ্গে নগর পুলিশের গণমাধ্যম কর্মকর্তা অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার আবু বকর সিদ্দিক আজাদীকে বলেন, নগরবাসীর নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ঈদ উপলক্ষে নগরীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নগরীর সবগুলো আবাসিক এলাকায় পুলিশের টহল আরও জোরদার করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে স্থানীয় থানা পুলিশকে। তিনি জানান, ঈদের জামাতসহ ঈদের পর পর্যন্ত বাসস্ট্যান্ড, রেল স্টেশনে মোতায়েন থাকবে অতিরিক্ত পুলিশ। পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের উদ্যোগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রাখতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
নগরীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় মসজিদ জমিয়তুল ফালাহতে। চসিকের তত্ত্বাবধানে এখানে প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল পৌনে ৮টায়। একই স্থানে দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল পৌনে ৯টায়। প্রথম ও প্রধান জামাতে ইমামতি করবেন জাতীয় মসজিদ জমিয়তুল ফালাহ্‌’র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ আহমুদুল হক, আরবি প্রভাষক, জামেয়া আহমদিয়া ছুন্নীয়া আলিয়া মাদ্রাসা, চট্টগ্রাম এবং দ্বিতীয় জামাতে ইমামতি করবেন জামেয়া আহমদিয়া ছুন্নীয়া আলিয়া মাদ্রাসার প্রধান মোফাচ্ছির কাজী মাওলানা মোহাম্মদ ছালেকুর রহমান আলকাদেরী।
চসিক সূত্র জানায়, নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতেই কাউন্সিলরদের তত্ত্বাবধানে একটি করে প্রধান ঈদ জামাতসহ সর্বমোট ১৬৪টি স্থানে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। বাকলিয়া চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন স্টেডিয়ামে প্রথম ঈদ জামাত হবে সকাল ৮টায়, লালদীঘি সিটি কর্পোরেশন শাহী জামে মসজিদে ঈদ জামাত হবে সকাল ৭.৪৫ টায়। জালালাবাদ আরেফিন নগর সিটি করপোরেশন কেন্দ্রীয় কবরস্থান জামে মসজিদের ঈদ জামাত হবে সকাল সোয়া ৮টায়। প্রাকৃতিক দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে মাঠের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট মসজিদে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
সিএমপির নির্ভরযোগ্য সূত্র মতে, জোর করে কম দামে কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রিতে বাধ্য করা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক ভবনে গ্রিলকাটা চুরি ও ডাকাতি প্রতিরোধকেই এবারের ঈদুল আজহায় মূল টার্গেট হিসেবে নিয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি)।
এছাড়া ঈদের ছুটিতে ফাঁকা নগরীর রাস্তাঘাটে সড়ক পরিবহন নিয়ন্ত্রণেও কাজ করবে পুলিশ। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, কোরবানির পর পাড়ায় পাড়ায় উঠতি মাস্তান, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা সন্ত্রাসী কিংবা প্রভাবশালীরা নিরীহ কোরবানিদাতাদের উপর প্রভাব খাটায়। তারা জোরপূর্বক তাদের কাছে কম দামে চামড়া বিক্রিতে বাধ্য করে অথবা চামড়া ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এছাড়া ট্যানারিতে নেয়ার পথেও কম দামে চামড়া ছিনিয়ে নেয়। নগর পুলিশ এবার এ অত্যাচারের হাত থেকে নগরবাসীকে রক্ষায় বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এছাড়া নগরীতে চামড়া সংগ্রহের পর জমা করার মূল স্থান নগরের বায়োজিদ থানার আতুরার ডিপো এলাকাকে ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে র‌্যাব-পুলিশের পক্ষ থেকে।
নগর পুলিশের হিসেব মতে চট্টগ্রামে সর্বাধিক ৭৪টি আবাসিক এলাকা আছে বায়েজিদ বোস্তামি থানা এলাকায়। এছাড়া আকবর শাহ থানায় ২৩টি, খুলশী থানায় ২২টি, পাঁচলাইশে ১৭টি, ডবলমুরিংয়ে ১৫, চকবাজারে আটটি, পতেঙ্গা, চান্দগাঁও ও পাহাড়তলীতে সাতটি করে, হালিশহরে পাঁচটি, বাকলিয়া, কর্ণফুলী, ইপিজেড ও সদরঘাট থানায় চারটি, বন্দর থানায় তিনটি ও কোতোয়ালী থানায় একটি করে আবাসিক এলাকা রয়েছে। এসব আবাসিক এলাকার বিভিন্ন কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠক করে নির্ধারণ করা হচ্ছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ঈদের ছুটিতে নগরীর নিরাপত্তা জোরদারে থানা পুলিশের বাইরে অতিরিক্ত আরও তিন থেকে চারশ পুলিশ ফোর্স মোতায়েন থাকবে। এছাড়া নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা (কেপিআই) ও বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে নজরদারির পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
নগরীর ডবলমুরিং থানার ওসি সদীপ কুমার দাশ আজাদীকে বলেন, চামড়া ছিনতাই প্রতিরোধের পাশাপাশি বিভিন্ন আবাসিক এলাকা ও বাণিজ্যিক এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সেভাবে কাজ চলছে।
কোতোয়ালী থানার ওসি মোহম্মদ মহসিন আজাদীকে জানান, বিভিন্ন আবসিক এলাকার তালিকা করে সংশ্লিষ্ট সমিতির কর্মকর্তাদের পুলিশের নম্বর দিয়ে দেয়া হয়েছে। চুরি-ডাকাতি প্রতিরোধে যেকোন সময় তাদের পুলিশের সহযোগিতা চাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। একইভাবে ব্যাংকের শাখার তালিকা করে তাদের নিজস্ব নিরাপত্তা কর্মীর সঙ্গে পুলিশ সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বাকলিয়া থানার ওসি নেজামউদ্দিন আজাদীকে জানান, নগরীতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সিএমপির থানা এলাকায় অলি-গলিতে বাড়ানো হয়েছে পুলিশের নিয়মিত টহল।
পাঁচলাইশ থানার ওসি আবুল কাশেম ভূঁইয়া আজাদীকে বলেন, ঈদুল আযহা উপলক্ষে নিরাপত্তায় বিশেষ করে চামড়া কেন্দ্রিক যেসব ঝামেলা হয় সেদিকে আমাদের নজর থাকবে বেশি। বিভিন্ন আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় পুলিশের টহল থাকবে।
৬০ বর্গমাইলের এ চট্টগ্রামে অন্তত: ৫৫ লাখ লোকের বাস। কিন্তু এর মধ্যে স্থায়ী বাসিন্দা অর্ধেক। আর প্রিয়জনের সাথে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে ১৫ থেকে ২০ লাখ মানুষ নগর ছেড়ে যায়। ইতোমধ্যে এর অধিকাংশ মানুষ নগর ছেড়ে চলে গেছে। অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, এসময় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকে ব্যাংক-বীমার মতো আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। আর এসময় আবাসিক এলাকাগুলোতে গ্রীলকাটা চোর এবং ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম বেড়ে যায়।এ অবস্থায় কমিউনিটি পুলিশের ওপর ভরসা করতে হচ্ছে পুলিশ প্রশাসনকে। নগরীতে ৫৫টি সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের ৫শ’র বেশি শাখা রয়েছে এবং জুয়েলারি দোকানের সংখ্যা আড়াই হাজারের বেশি।

x