ঈদের ছুটিতেও পর্যটকের ভিড় নেই বান্দরবানে

আলাউদ্দিন শাহরিয়ার, বান্দরবান

মঙ্গলবার , ১৩ আগস্ট, ২০১৯ at ১০:২৮ অপরাহ্ণ
217

ঈদের ছুটিতেও পর্যটকের ভিড় নেই বান্দরবানের দর্শনীয় স্থানগুলোতে।

রমজানের ঈদের পর কোরবানির ঈদের লম্বা ছুটিতেও আশানুরুপ পর্যটকের আগমন ঘটেনি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূতি খ্যাত বান্দরবান জেলায়।

আজ মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) পর্যটন স্পটগুলো ঘুরে দেখা গেছে, পর্যটন স্পট নীলাচল, মেঘলা, স্বর্ণমন্দির, নীলগিরি সহ আশপাশের দর্শনীয় স্থানগুলো অনেকটাই ছিল ফাঁকা।

বৃষ্টির কারণে দর্শনীয় স্থানগুলোতে আশপাশের স্থানীয় ভ্রমণপিপাসু মানুষের উপস্থিতিও ছিল কম। তবে বছরের দু’টি বিশেষ দিন ঈদের লম্বা ছুটিতেও বান্দরবানে পর্যটন ব্যবসা জমে না ওঠায় হতাশ আবাসিক হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট-গেস্ট হাউজ সহ পর্যটন শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

জানা গেছে, বৈচিত্রময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর জেলা বান্দরবানের অন্যতম পর্যটন স্পট নীলাচল, মেঘলা, স্বর্ণমন্দির, চিম্বুক, নীলগিরি, নীলদিগন্ত, শৈলপ্রপাত, রিজুকঝর্ণা, কিংবদন্তি বগালেক, নাফাকুম, রেমাক্রী বড় পাথর, ডিম পাহাড় চূড়া দর্শনীয় স্থানগুলোতে পর্যটকের উপস্থিতি থাকলেও কোথাও পর্যটকের ভিড় নেই।

পর্যটকদের বরণে সমস্ত আয়োজন করা হলেও আবাসিক হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট-গেস্ট হাউজ এবং রেস্তোরাঁগুলো সম্পূর্ণ ফাঁকা। অন্যান্য বছরগুলোর মতো অগ্রিম রুম বুকিং ছিল না আবাসিক হোটেলগুলোতে। পর্যটকবাহী তিন শতাধিক ট্যুরিস্ট গাড়ির অধিকাংশই স্টেশনে বসে ছিল। অলস সময় পার করেছে গাড়ির চালক-হেলপাররা।

বননিবাস রিসোর্টের সত্ত্বাধিকারী মোহাম্মদ আইয়ুব এবং হোটেল ফোর স্টারের সত্ত্বাধিকারী রিপন চৌধুরী বলেন, ‘রোজার ঈদে কিছু রুম হলেও বুকিং হয়েছিল কিন্তু কোরবানির ঈদে সেটিও হয়নি। বছরের দু’টি ঈদেই এ বছর পর্যটকের আগমন ঘটেনি। অথচ অন্যান্য বছরগুলোতে ঈদের অনেক আগেই হোটেলের সবগুলো রুম বুকিং হয়ে যেত। হঠাৎ পর্যটন ব্যবসায়ীদের চরম ক্ষতি হয়েছে। এই লোকসান পুষিয়ে নিতে অনেকদিন লাগবে ব্যবসায়ীদের।’

পালকি গেস্ট হাউজের ম্যানেজার মোহাম্মদ শাহীন বলেন, ‘ঈদের দিন কোনো রুম বুকিং হয়নি। ঈদের পরের দিন মঙ্গলবার শুধু একটি রুম বুকিং হয়েছিল। ব্যবসা না থাকায় দু’মাস ধরে বেতন পাচ্ছি না।‘

আবাসিক হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘পর্যটন শিল্পে ধস নেমেছে এ বছর। অথচ পর্যটনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা সারা বছর আশায় থাকে ঈদে জমে উঠবে ব্যবসা কিন্তু বন্যা, পাহাড়ে আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্বে অপহরণ-হত্যা, গুম-হত্যা গুজব এবং ডেঙ্গু আতঙ্কের বিরূপ প্রভাব পড়েছে পর্যটন শিল্পে। দু’টি ঈদেই আশানুরুপ পর্যটকের আগমন ঘটেনি এই অঞ্চলে। পর্যটন শিল্পের ধসের প্রভাব পড়বে স্থানীয় হাট-বাজার এবং স্থানীয়দের মধ্যেও। পর্যটন স্পটগুলোতে কিছু পর্যটক ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে ঠিকই কিন্তু তাদের মধ্যে চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবানের বিভিন্ন উপজেলার লোকজনদের সংখ্যাই বেশি।’

পুলিশ সুপার জাকির হোসেন মজুমদার বলেন, ‘পর্যটকদের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ একটি জেলা হচ্ছে বান্দরবান। পর্যটকদের ভ্রমণে কোথাও কোনো ধরনের ঝুঁকি নেই। দেশের সার্বিক পরিস্থিতির কারণে পর্যটকের সংখ্যা কিছুটা কম।’

ট্যুরিস্ট পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কামাল বলেন, ‘এবারের ঈদেও পর্যটকের বাড়তি চাপ নেই। আশানুরুপ পর্যটক না আসায় শ্রমিকেরাও অলস সময় পার করছে। ঈদের মৌসুমে পর্যটকের আগমন না ঘটায় দুঃখ-কষ্টে দিন কাটাচ্ছে পরিবহন শ্রমিকেরা।’

x