ঈদের গান : সোনালী অতীতের গল্প অডিও বাজারে ধস নামায় বিপন্ন চাটগাঁইয়া গান

নাসির উদ্দিন হায়দার

বৃহস্পতিবার , ৭ জুন, ২০১৮ at ৪:২৬ পূর্বাহ্ণ
190

গ্রামোফোন যুগের পর গত চার দশকে চট্টগ্রাম তো বটেই বাংলাদেশের সংগীতশিল্প প্রধানত দুটি মাধ্যমে সুজলাসুফলা হয়েছে, তার একটি চলচ্চিত্র, অপরটি অডিও বাজার। রাজধানীসহ দেশের অডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলো সারাবছরই অডিও অ্যালবাম বের করত। কিন্তু রমজানের ঈদকে কেন্দ্র করেই অডিও শিল্প জমজমাট হয়ে উঠত। প্রায় প্রতি বছরই কোনো না কোনো শিল্পীর ক্যাসেট সুপারহিট হতো, ক্যাসেটের এক বা একাধিক গান মানুষের মুখে মুখে ফিরত। জাতীয় পর্যায়ে একজন মুজিব পরদেশীর ‘আমি বন্দী কারাগারে’, মোহাম্মদ ইব্রাহিমের ‘কি আছে জীবনে আমার’, মমতাজের ‘কালো কোকিল’, রবি চৌধুরীর ‘প্রেম দাও’, আসিফের ‘ও প্রিয়া তুমি কোথায়’, হাবিবের ‘দিন গেল’ কিংবা শিরিনের ‘পাঞ্জাবিওয়ালা’ গানগুলো অডিও ক্যাসেটেরই গান, আর এই গান সারাদেশ মাত করেছে। একটু খবর নিলে জানা যাবে, এসব শিল্পীর অ্যালবামগুলো মূলত ঈদেই প্রকাশিত হয়েছে। ঈদের এসব গান সারাবছরই শ্রোতাদের মধ্যে আনন্দ বিলিয়ে যেত। চট্টগ্রামও এর ব্যতিক্রম ছিল না। আশির দশকে গ্রামোফোন যুগ শেষ হওয়ার পর রিয়াজউদ্দিন বাজার কেন্দ্রিক অডিও শিল্পের মাধ্যমেই চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক ধারার সংগীত এগিয়েছে। চট্টগ্রামের অডিও বাজারও ছিল মূলত ঈদকেন্দ্রিক। তবে বিভিন্ন মাজারের ওরশ উপলক্ষে বিশেষ করে ফটিকছড়ির মাইজভাণ্ডার দরবার ও মোহছেন আউলিয়ার ওরশ ঘিরে আরেক দফা জমজমাট হয়ে উঠত অডিও বাজার।

১৯৮০ সালের দিকে সংগীতজ্ঞ আবদুল গফুর হালীর তত্ত্বাবধানে, বিখ্যাত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ঐকতান থেকে চট্টগ্রামে প্রথম অডিও ক্যাসেট বের হয়েছিল, ক্যাসেটের শিল্পী ছিলেন নামী গায়িকা শিল্পী রাণী। পরে জাহেদ ইলেকট্রনি থেকে বের হয়েছিল আইয়ুব বাচ্চুুর ‘রক্ত গোলাপ’, আবদুল মান্নান রানার ‘যেখানে যাও ভালো থেকো’ অ্যালবাম। সোলসের সাড়া জাগানো ‘কলেজের করিডোরে’ অ্যালবাম বের হয়েছিল জাহেদ ইলেকট্রনিক্সের ব্যানারে। এভাবে ঢাকার সাথে পাল্লা দিয়ে চট্টগ্রামেও গড়ে উঠেছিল সমৃদ্ধ এক অডিও শিল্প। আর শ্রোতারাও ঈদের নতুন জামা কেনার পাশাপাশি প্রিয় শিল্পীর আঞ্চলিক বা মাইজভাণ্ডারী গানের একটা ক্যাসেট কিনে ঘরে ফিরতেন। ঈদের উৎসবে সেই গান হতো বাড়তি আনন্দের উপলক্ষ। টানা তিন যুগ ছিল অডিও শিল্পের এমনই রমরমা।

রিয়াজউদ্দিন বাজারের বিভিন্ন অডিও প্রতিষ্ঠান গত ৪০ বছরে আনুমানিক ২ হাজার অ্যালবাম বের করেছে। একই সময়ে শুধু চট্টগ্রামের শিল্পীদের গান দিয়ে শত কোটি টাকার ক্যাসেট ব্যবসা হয়েছে।

বিগত ৪০ বছরে (১৯৭৮২০১৮) ঈদের অডিও বাজারকে কেন্দ্র করেই চট্টগ্রামের প্রধান তিন সংগীতধারা আঞ্চলিক গান, মরমী ও মাইজভাণ্ডারী গান এবং মোহছেন আউলিয়ার গান সমৃদ্ধ হয়েছে। ৪০ বছরে কালজয়ী শিল্পী শ্যামসুন্দর বৈঞ্চবের ‘ও জেডা ফইরার বাপ’, শেফালী ঘোষশ্যামসুন্দর জুটির ‘বাইক্যা টেয়া দে’, ‘আঁর বউরে আঁই কিলাইয়ম’, সঞ্জিৎ আচার্যকল্যাণী ঘোষ জুটির ‘দুবাইলঅলা জামাই’, শিমুল শীলের ‘মোহছেন আউলিয়ার গান’, সিরাজুল ইসলাম আজাদের ‘হেডমাস্টরে তোঁয়ারে তোয়ার’, সেলিম নিজামীর ‘চোখের পলকে’ গানগুলো মূলত সৃষ্টি হয়েছিল ঈদের অডিও বাজার ও ওরশ ঘিরে। আর এই চার দশকে চট্টগ্রামের অডিও শিল্পের প্রাণপুরুষ তথা প্রধানতম গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক ছিলেন কালজয়ী সংগীতজ্ঞ আবদুল গফুর হালী। শেফালী ঘোষ, কল্যাণী ঘোষ, সেলিম নিজামী, শিমুল শীল ও সিরাজুল ইসলাম আজাদের মতো জনপ্রিয় শিল্পীর অধিকাংশ অ্যালবাম তারই সংগীত পরিচালনায় প্রকাশিত হয়েছে। এক্ষেত্রে এম এন আখতার, সৈয়দ মহিউদ্দিন, নুরুল আলম, সঞ্জিত আচার্য্যের মতো গুণি সংগীতজ্ঞদের অবদানও অবিস্মরণীয়।

কিন্তু চট্টগ্রামের ঈদের গানের সেই সুদিন এখন আর নেই। এসব এখন সোনালী অতীত। মূলত, ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে অডিও বাজারে ধস শুরু হয়। মাত্র এক যুগ আগেও যেখানে চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজারের বিভিন্ন অডিও প্রতিষ্ঠান থেকে কয়েকশ গানের অডিও ও ভিডিও অ্যালবাম প্রকাশিত হতো, সিরাজুল ইসলাম আজাদের মতো শিল্পীরা একটি ক্যাসেটের জন্য ৫ লাখ টাকা পারিশ্রমিক নিতেন, কোনো কোনো ক্যাসেটের কাটতি কয়েক লাখ ছাড়িয়ে যেত, এখন সেই রিয়াজউদ্দিন বাজারের বনেদী অডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আমিন স্টোর, বিনিময় স্টোর, জাহেদ ইলেকট্রনিক্স, ন্যাশনাল ইলেকট্রনি, শাহ আমানত অডিও কমপ্লেক্স এখন আর গানের অ্যালবামই বের করে না। অনেক নামী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে, কিছু প্রতিষ্ঠান গানব্যবসা ছেড়ে অন্য ব্যবসায় নেমেছে। এতে করে চট্টগ্রামের সমৃদ্ধ সংগীতধারা আঞ্চলিক গান বিপন্ন হয়ে পড়েছে। এ ধারায় নতুন কোনো গান তৈরি হচ্ছে না, সৃষ্টি হচ্ছে না প্রতিশ্রুতিশীল কোনো শিল্পীও। বলতে গেলে অডিও বাজারে ধসের কারণে বিপন্ন হয়ে পড়েছে চাটগাঁইয়া গান।

গ্রামোফোনের যুগ শেষ হতে না হতেই সত্তরের দশকের শেষের দিকে চট্টগ্রামে শুরু হয় অডিও শিল্পের স্বপ্নযাত্রা। শুরুর দিকে রিয়াজউদ্দিন বাজারের বিনিময় স্টোর, আমিন স্টোর ও জাহেদ ইলেকট্রনি, রাউজানের পথের হাটের শাহা আলম মাইক সার্ভিস এবং কবাজারের আলাউদ্দিন রেকর্ডিং হাউজ ছিল প্রতিনিধিত্বশীল প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। বিনিময় স্টোর ওই সময় শিল্পী আহমদ নুর আমিরীর একটি লাইভ অনুষ্ঠান থেকে দরবারি গান রেকর্ড করে অ্যালবাম আকারে বাজারে ছেড়েছিল, সেটি বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল। তখন ৫৪৩ ব্র্যান্ডের টেপ রেকর্ডার দিয়ে গান রেকর্ড করে বাজারে ছাড়া হতো। নামী শিল্পী হলে গান রেকর্ড করতে ছুটতে হতো ঢাকায়। অ্যালবামের নামকরণের চল তখনো হয়নি। ক্যাসেটের গায়ে শিল্পীর নাম দেওয়া হলেও ছবি দেওয়া ছিল কল্পনার বাইরে।

এমন পরিস্থিতিতে গ্রামোফোন যুগের জনপ্রিয় শিল্পী শেফালী ঘোষ, শ্যামসুন্দর বৈষ্ণব, সঞ্জিৎ আচার্য, কল্যাণী ঘোষ, ঊমা খান, কান্তা নন্দী অডিও অ্যালবামে গান গেয়ে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ও মাইজভাণ্ডারী গানে নতুন মাত্রা যোগ করেলেন। এম এন আখতার, আবদুল গফুর হালী, সঞ্জিৎ আচার্য, নুরুল আলম ও সৈয়দ মহিউদ্দিনের মতো সংগীতস্রষ্টার হাতে তৈরি হলো যুগোত্তীর্ণ অনেক গান।

ভাবতে অবাক লাগে, আশির দশকে রাউজানের নোয়াপাড়া পথের হাটের শাহা আলম মাইক সর্ার্ভিস নামে ছোট একটি প্রতিষ্ঠান থেকে শেফালী ঘোষ, শ্যামসুন্দর বৈষ্ণব ও শিল্পী রাণীর যৌথ গান দিয়ে ‘আঞ্চলিক গান’ নামে দারুণ এক অ্যালবাম বের হয়েছিল। যে অ্যালবামে ছিল শ্যামসুন্দরের কালজয়ী গান ‘ও জেডা ফাইরার বাপ’ (কথা ও সুরসৈয়দ মহিউদ্দিন)। আরো ছিল শ্যামশেফালীর দ্বৈতকণ্ঠের বিখ্যাত গান ‘একখান হতা পুছার গইত্তাম, মিছা ন হইঅ…’। সঞ্জিৎ আচার্য ও শেফালী ঘোষের ‘দুবাইওয়ালা জামাই’ নামে সুপারহিট অ্যালবাম উপহার দিয়েছিল শাহা আলম মাইক সার্ভিস।

চট্টগ্রামের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক যুগোত্তীর্ণ শিল্পীর জন্ম দিয়েছে। বিনিময় স্টোরের ব্যানারে আবির্ভাব হয়েছিল মাইজভাণ্ডারী ও বিচ্ছেদ গানের দিকপাল শিল্পী আহমদ নুর আমিরীর। নব্বই দশকের মাঝামাঝি সময়ে ন্যাশনাল ইলেট্রনিক্স ব্যানারে মোহসেন আউলিয়ার গান নিয়ে দেশ মাত করেছিলেন শিমুল শীল। একবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে ২০০২ সালে আমিন স্টোরের ব্যানারে আবির্ভাব হয়েছিল হেডমাস্টার খ্যাত শিল্পী সিরাজুল ইসলাম আজাদ। একই প্রতিষ্ঠান থেকে ১৯৮৯ সালে কাওয়ালী গানের অ্যালবাম ‘রওজা মিলগায়া’ দিয়ে বাজার মাত করেছিলেন সেলিম নিজামী।

আশির দশকের মাঝামাঝি রাউজানের নোয়াপাড়া পথের হাটের শাহা আলম মাইক সর্ার্ভিস থেকে কক্সবাজার অঞ্চলের জনপ্রিয় শিল্পী আহমদ কবির আজাদ ও বুলবুল আকতারের ‘নয়া প্রেমের নয়া মজা’ নামে একটি সুপারহিট অ্যালবাম বের হয়েছিল।

শেফালী ঘোষ, শ্যামসুন্দর বৈষ্ণব, লক্ষ্মীপদ আচার্য, সঞ্জিৎ আচার্য, কল্যাণী ঘোষ, শিল্পী রাণী, সন্ধ্যা রাণী, কান্তা নন্দী, আইয়ুব বাচ্চু, আবদুল মান্নান রানা, সাইফুদ্দীন মাহমুদ খান, সেলিম নিজামী, শিমুল শীল, ওয়াকিল কাওয়াল, সৈয়দ আমিনুল ইসলাম (ইসলাম কাওয়াল), আহমদ কবির আজাদ, বুলবুল আকতার, সিরাজুল ইসলাম আজাদ, দীপক আচার্য, আবদুল মান্নান, বাচ্চু কাওয়াল, শরীফ উদ্দিন ও শাহজাহান আলীর মতো শিল্পীদের গান নিয়ে ঢাকার সাথে পাল্লা দিয়ে চট্টগ্রামেও গড়ে উঠেছিল জমজমাট এক অডিও ইন্ডাস্ট্রি। শিল্পীদের গান রেকর্ডের জন্য তৈরি হয়েছিল বেশ কয়েকটা অডিও স্টুডিও, কয়েকটির রেকর্ডিং মান ছিল ঢাকার কাছাকাছি।

রিয়াজউদ্দিন বাজারের অডিও শিল্পের সাথে আমার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ঠিক এক যুগ আগে, ২০০২ সালে। যখন সিরাজুল ইসলাম আজাদের প্রথম অ্যালবাম ‘হেডমাস্টর’ বের হয়। আমিন স্টোরের ব্যানারে সৈয়দ মহিউদ্দিনের সংগীত পরিচালনায় ওই অ্যালবাম সুপারডুপার হিট হয়েছিল, ভেঙ্গে দিয়েছিল অতীতের ক্যাসেট বিক্রির সব রেকর্ড। সিরাজের পরপর তিনটি অ্যালবাম অডিও বাজারে সুদিন এনেছিল। তাঁর দুটি অ্যালবাম ‘পরীক্ষা’ ও ‘চেয়ারম্যান সাব’ এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলাম আমি। রেকর্ডিং থেকে শুরু করে মিউজিক ভিডিও তৈরি পর্যন্ত ওতোপ্রোতভাবে জড়িত ছিলাম। সিরাজের ওই দুই মিউজিক ভিডিওতে অভিনয় করেছিলেন ইত্যাদিখ্যাত অমল বোস, খ্যাতিমান অভিনয় শিল্পী ফখরুল হাসান বৈরাগী, আফজাল শরীফ, চিত্রনায়িকা শাহনুর, কৌতুক অভিনেতা পাপ্পুসহ অনেকে। বলা যায় চট্টগ্রামের অডিও বাজারে জাতীয় তারকাদের আগমন সিরাজের অ্যালবাম দিয়েই। এরপর সেলিম নিজামীসহ আরো কয়েকজন শিল্পীর অ্যালবাম তৈরির সাথেও যুক্ত ছিলাম।

২০০২ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত অডিও শিল্পের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকাকালীন দেখেছি রমজানের শুরু থেকেই সাজসাজ রব পড়ে যেত রিয়াজউদ্দিন বাজারের অডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। আঞ্চলিক, মাইজভাণ্ডারী ও কাওয়ালিসহ হরেক রকম গানের অ্যালবাম প্রকাশের প্রস্তুতি চলত। স্টুডিওগুলোতে গান রেকর্ডিং হতো দিনরাত। শিল্পী, সংগীত পরিচালক ও যন্ত্রীদের ব্যস্ততা আর মফস্বলের ছোটবড় অডিও প্রতিষ্ঠানের মালিকদের দৌড়ঝাঁপসব মিলিয়ে চট্টগ্রামের অডিও বাজারে ঈদের আয়োজন ছিল দেখার মতো।

এমনও হয়েছে মফস্বলের অনেক ব্যবসায়ী জনপ্রিয় শিল্পীর অ্যালবাম সংগ্রহের জন্য আগেভাগেই শহরে চলে আসতেন, হোটেলে উঠে যেতেন। প্রতিদিন সকালসন্ধ্যা উপস্থিত থাকতেন সংশ্লিষ্ট অডিও প্রতিষ্ঠানেণ্ডকখন পাওয়া যাবে হিট শিল্পীর অ্যালবাম এই প্রতীক্ষায়! কিন্তু সেদিন এখন আর নেই। শুনেছি এবার ঈদে দুইএকটি প্রতিষ্ঠান নামকাওয়াস্তে দুই একটি অ্যালবাম বাজারে আনছে, কিন্তু মূলধারারও প্রতিষ্ঠিত কোনো শিল্পীর অ্যালবাম বের হচ্ছে না।

অডিও শিল্পে দুর্দশার কারণ কি? বছর তিনেক আগে প্রয়াত আবদুল গফুর হালী বলেছিলেন এর একটি কারণ-‘আমরা আমাদের মূল সংস্কৃতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছি। এখন নকল আর অনুকরণের সময়। গুণী শিল্পী, গীতিকার, সুরকারের কদর নেই। ভালো গান হবে কী করে? আর ভালো গান না হলে দর্শক কিনবে কেন?’ তবে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন মালিক বললেন ভিন্ন কথা। তাদের বক্তব্যমুঠোফোন, এমপি ত্রি, এমপি ফোর অডিও জগতের বারোটা বাজিয়েছে। শ্রোতারা এখন টাকা দিয়ে অ্যালবাম কেনে না, মুঠোফোনে পছন্দের গান ডাউনলোড করে নেয়। আর অগ্রসর শ্রোতাদের জন্য তো ইন্টারনেট, ইউটিউব তো আছেই। মূলত অডিও শিল্পের বারোটা বাজিয়েছে মুঠোফোনের গান।

বাণিজ্যের যোগ না থাকলে মহৎ কিছু সৃষ্টি হয় কি না তা প্রশ্নসাপেক্ষ। কিন্তু বাণিজ্যে ভাটার কারণেই যে চট্টগ্রামের অডিও শিল্পে ধস নেমেছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আকাশসংস্কৃতি, ইন্টারনেট ও মোবাইলের যুগে চট্টগ্রামের গানকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে মুনাফামুখী পেশাদার অডিও ব্যবসায়ীদের দিকে না তাকিয়ে উদ্যোগ নিতে হবে সংস্কৃতিপ্রেমীদের। তাতে বাংলা গানের সমৃদ্ধ ধারা চাটগাঁইয়া গান আবার সুজলসুফলা হয়ে উঠবেএটাই আশা।

লেখক : সাংবাদিক ও চট্টগ্রামের লোকসংগীত গবেষক

x