ঈদের আগেই খুলছে মেঘনা ও গোমতী সেতু

চালু হবে আট জোড়া স্পেশাল ট্রেন যুক্ত হবে অতিরিক্ত বগি

শুকলাল দাশ

বৃহস্পতিবার , ১৬ মে, ২০১৯ at ২:৫২ পূর্বাহ্ণ
90

এবারের ঈদে বাড়ি ফেরা হবে বিগত সময়ের তুলনায় অনেকটা স্বস্তিদায়ক। সড়ক ও রেলপথ দুটোতেই যাত্রীরা নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-চট্টগ্রাম-রাঙামাটিসহ বিভিন্ন মহাসড়কের অবস্থা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক ভালো। বিশেষ করে চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কের মেঘনা ও গোমতী সেতু দুটি ঈদের আগে খুলে দেয়া হচ্ছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২৫ মে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিতীয় মেঘনা সেতু এবং দাউদকান্দিতে মেঘনা-গোমতী দ্বিতীয় সেতু প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন। সেতু দুটি চালুু হওয়ার পর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যাতায়াতে অন্তত এক ঘণ্টা সময় এগিয়ে আসবে। ফলে যাত্রীরা ঈদ যাত্রায় অনেক স্বস্তি পাবেন।এদিকে সড়ক পথের মতো রেলপথেও এবার যাত্রা হতে স্বস্তিদায়ক। প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদে নিয়মিত প্রতিটি ট্রেনে যুক্ত করা হবে অতিরিক্ত বগি। সেই সাথে ঈদের আগে চালু হবে আট জোড়া স্পেশাল ট্রেন। এ ব্যাপারে রেলপথমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন জানান, ঈদের পাঁচ দিন আগে ৩১ মে থেকে রেলওয়েতে ট্রেনের কোনো ডে-অফ থাকবে না। ফলে ৪৮টি বিশেষ ট্রিপ পরিচালিত হবে। এছাড়াও ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন রুটে আট জোড়া স্পেশাল ট্রেন চলবে।
দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যাত্রীদের যানজটের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছিল। সেতু দুটির নির্মাণকালে যানচলাচলের পথ সরু থাকার কারণে প্রায়ই সমস্যার সৃষ্টি হতো। দীর্ঘ যানজটে আটকা পড়ে হাজার হাজার গাড়ি। বিশেষ করে গত দুটি ঈদ মৌসুমে জনদুর্ভোগ চরমে উঠে। এবার সেই দুর্ভোগ থাকবে না বলে মনে করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা।
চট্টগ্রাম-ঢাকা এবং চট্টগ্রামের সাথে সারাদেশের যোগাযোগের একমাত্র মহাসড়ক এটি। এই সড়কের একমাত্র দুর্ভোগ ছিল মেঘনা ও গোমতী সেতু। ঈদের আগে উদ্বোধনের ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ভয়াবহ যানজট নিরসনে এই দুটি সেতু বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। এর আগে গত ১৬ মার্চ দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতু উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
এদিকে চট্টগ্রাম-কঙবাজার-চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মহাসড়ক বিগত যে কোন সময়ের চেয়ে অনেক ভালো আছে বলে জানান সড়ক ও জনপথ বিভাগের সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলীরা। দক্ষিণ চট্টগ্রামসহ কঙবাজার ও বান্দরবানের যাত্রীরা এবারের ঈদে বহদ্দারহাট থেকে শাহ আমানত সেতুর দক্ষিণ প্রান্ত শিকলবাহা ক্রসিং পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার সংযোগ সড়কে নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারবে। ঈদের আগে ৩০ মে’র মধ্যে বহদ্দারহাট ইন্টারসেকশন থেকে কর্ণফুলী সেতুর শহরের অংশে (বহদ্দারহাট থেকে সেতু পর্যন্ত) ৬ লাইনের ৫ কিলোমিটার এবং সেতুর দক্ষিণ পাড়ে শিকলবাহা ক্রসিং পর্যন্ত ৪ লাইনের ৩ কিলোমিটার সড়কে নির্বিঘ্নে যানবাহন চলতে পারবে বলে জানান সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ও প্রকল্পের অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক আশিক কাদির।

x