ইয়ার্ড সেল বা আঙিনায় বিক্রয়

মোহাম্মদ ফজলুল রেজা, মেরিল্যান্ড (যুক্তরাষ্ট্র) থেকে

শুক্রবার , ২৯ মার্চ, ২০১৯ at ৯:৩৭ অপরাহ্ণ
125

শীতের শেষে বসন্তের শুরুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ করে উত্তরের প্রায় প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে ঘরের সামনে বা আঙিনায় বসে যে কেনাবেচা করা হয় তা ইয়ার্ড সেল নামে পরিচিত। এ ইয়ার্ড সেল চলে শনি ও রবিবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ২টা পর্যন্ত। এজন্য ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে বিক্রেতারা শুক্রবার বিভিন্ন জায়গায় নোটিশ বা বিজ্ঞপ্তি লাগিয়ে দেয়। এসব বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ থাকে বেচাকেনার সময় ও স্থান। ইয়ার্ড সেল আরো বিভিন্ন নামে পরিচিত। সেগুলো হলো গ্যারেজ সেল, রামেজ সেল, ট্যাগ সেল, লন সেল, মোভিং সেল, স্টেট সেল ও কম্যুনিটি সেল ইত্যাদি।
এছাড়া পুরোপুরি বাণিজ্যিকভাবে বিক্রয়ের জন্য আরো দুই-তিন জায়গায় এর আয়োজন করা হয়ে থাকে। যেমন: ফ্লি মার্কেট, থ্রিফ্ট শপ/স্টোর, অকশন ও অকেশন ডামস্টার ইত্যাদি। প্রায় সময় সস্তায় অনেক উন্নতমানের ভালো ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এমনকি অ্যানটিকও পাওয়া যায় ইয়ার্ড সেলে। আমি আমেরিকার সব শ্রেণী-পেশার মানুষকে ইয়ার্ড সেলে কেনাবেচা করতে দেখেছি।
ইতিহাস থেকে জানা যায় পঞ্চদশ শতাব্দীর দিকে এটি ছিল বন্দরভিত্তিক বাণিজ্য অর্থাৎ বন্দরে অব্যবহৃত ও দীর্ঘদিন মালিকবিহীন পড়ে থাকা নষ্ট, অর্ধনষ্ট ও একেবারে নতুন মালামাল বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কিনে সুনির্দিষ্ট স্থানে বিক্রি করতে কিছু লোক। তখন ওই বিক্রয়কে বলা হতো রোমেজ সেল। ষষ্ঠদশ শতাব্দীতে রোমেজ শব্দটি ইংরেজিতে প্রবেশ করে রামেজ-এ পরিণত হয়। ইয়ার্ড সেল নামটি জনপ্রিয় হতে শুরু করে অষ্টাদশ শতাব্দীর দিকে। এই বাণিজ্য ধীরে ধীরে পাড়ায়-মহল্লায় শুরু হয় ১৮৯০ সালের দিকে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আমেরিকার ব্যাপক অর্থনৈতিক উন্নতির সাথে সাথে মানুষের হাতে প্রচুর টাকা-পয়সা আসায় তারা কেনাকাটায় অনেক বেশি মনোযোগী হয়ে ওঠে। ইয়ার্ড সেল বেশি জনপ্রিয় হতে শুরু করে ১৯৫০-৬০ সালের দিকে। আর এটি পুরোপুরি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে ১৯৭০ সালের দিকে।
ইয়ার্ড সেলে গেলে কেনাকাটার পাশাপাশি অনেক কিছু জানা যায়। দেখার সুযোগ হয় নানা ধরনের পণ্য। জানা যায় মানুষের রুচিবোধ ও পছন্দ সম্পর্কেও। এই ইয়ার্ড সেল বা আঙিনায় বিক্রয় যদি আমাদের দেশেও চালু করা যায় তাহলে মন্দ হবে না।

x