ইয়াবা পাচার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কঠোর হতে হবে

মঙ্গলবার , ২০ আগস্ট, ২০১৯ at ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ
47

ভয়ংকর রূপে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে মরণ নেশা ইয়াবা। নানা রকম কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে। আর এসব ইয়াবা পাচারে জড়িয়ে পড়েছেন সমাজের কতিপয় ব্যক্তি। এদের মধ্যে আছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অসাধু সদস্য এবং সমাজের উচ্চশিক্ষিত পরিবারের অর্থলোভী সন্তানেরাও।
নিত্য নতুন কৌশল ও নিত্য নতুন পথ ব্যবহার করে প্রতিদিন এ প্রান্ত থেকে সারাদেশে পৌঁছে যাচ্ছে লক্ষ লক্ষ ইয়াবা।
গত ১৮ই আগস্ট দৈনিক আজাদীতে ‘পণ্য নিয়ে আসে -যায় ইয়াবা নিয়ে, পরিবহনের আড়ালে পাচার’ শীর্ষক এক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পণ্য পরিবহন তাদের মূল উদ্দেশ্য নয়। পণ্যের আড়ালে ইয়াবা পাচারই হচ্ছে তাদের উদ্দেশ্য। চালক ও তার সহকারীর সঙ্গে আঁতাত করে এসব যানবাহনে ইয়াবাসহ নানা ধরনের মাদক দেশের এক জেলা থেকে অন্য জেলায় পাচার করছে মাদক ব্যবসায়ীরা। এ কাজ করতে গিয়ে প্রায় সময়ই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হচ্ছেন মোটরযানের চালক ও তার সহকারী, জব্দ হচ্ছে যানবাহন। আর মামলার আলামত হিসেবে জব্দ হওয়া এসব ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান মামলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত জব্দ থাকায় একদিকে এসব যানবাহনের আয়ুষ্কাল শেষ হয়ে আসছে, অন্যদিকে বাড়ছে এর বিপরীতে নেয়া ঋণের সুদ। গত ১২ দিনে পণ্যবাহী চারটি ট্রাক ধরা পড়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জালে। জব্দ করা হয়েছে ৪৩ হাজার ৭০০ ইয়াবা।
আসলে ইয়াবা পাচারে নিত্য নতুন পথ ব্যবহার করা হয়। এমনকি পাচারকারীরা মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে পাচার করছে ইয়াবা। মারাত্মকভাবে বেড়ে চলেছে আকাশ পথে পানি পথেও। আর পানি পথে পরিবহনে এরা নিচ্ছে নিত্য নতুন কৌশল। কখনো মাছ ধরার ট্রলার, কখনো মাছের পেটের ভেতর, কখনো বা রশির মাধ্যমে পানির নিচে করে ইয়াবা পাচার করছে সিন্ডিকেটটি। সড়ক পথে ইয়াবা পাচারের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েকজন সদস্য জড়িত থাকার কথা গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। এছাড়া ইয়াবা পাচারের সঙ্গে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ সংশ্লিষ্ট একটি সিন্ডিকেটের যোগসাজস রয়েছে বলে অভিযোগ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে দহরম-মহরম সম্পর্ক করে অত্যন্ত সহজেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এসব মরণনেশা।
সংবাদমাধ্যমে মাদকবিরোধী অভিযানসহ নানা রকম তৎপরতার খবর প্রায়ই প্রকাশিত হয়। এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো মাদক ব্যবসায়ীদের দমন করার জন্য প্রবল চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ব্যাপক পুলিশি অভিযান চালিয়ে শুধু ইয়াবাই উদ্ধার করা হচ্ছে না, মাদকের কারবারিদের গ্রেপ্তার ও মামলা দায়েরের খবরও পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি মাদকবিরোধী অভিযানে অনেক সন্দেহভাজন মাদক ব্যবসায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর সদস্যদের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন। অর্থাৎ মাদক কারবারিদের দমনের চেষ্টা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো দৃশ্যমানভাবেই করে চলেছে। কিন্তু তারপরও প্রশ্ন হলো সেই চেষ্টার সুফল আসছে না কেন?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে মাদকদ্রব্য, বিশেষত ইয়াবার প্রবেশপথের দিকে তাকাতে হবে। কারণ, ইয়াবাসহ অধিকাংশ মাদকদ্রব্যই বাংলাদেশের ভূখণ্ডের ভেতরে উৎপাদিত হয় না, সেগুলো আসে দেশের বাইরে থেকে, বিশেষত মিয়ানমার থেকে। কিন্তু কীভাবে আসে? আমাদের জাতীয় সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্বে যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের তৎপর থাকতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের ভেতরে ইয়াবা ও অন্যান্য মাদকদ্রব্য কেনাবেচায় লিপ্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার কিংবা ‘বন্দুকযুদ্ধ’ নিষ্ফল হচ্ছে এই কারণে যে সীমান্ত পেরিয়ে সেগুলো দেশের ভেতরে ঢুকতে পারছে। তাই প্রথম কাজ হচ্ছে সীমান্তপথে মাদকদ্রব্যের প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা। যাঁরা এই দায়িত্বে আছেন, তাঁদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
ইয়াবার বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, এটির চোরাচালান ও বিক্রয়ে জড়িয়ে পড়াদের গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা যেমন দরকার, তেমনি সীমান্তসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কঠোর করা এবং পাচার-বহন ও এ ব্যবসায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রয়োগ করা দরকার। মাদকব্যবসার সাথে সন্ত্রাসী-অস্ত্রবাজরা জড়িত হয়ে পড়েছে বলে যে অভিযোগ চালু আছে, সেখানে কঠোর হস্তে তাদের মোকাবেলা করতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে ঘোষিত যুদ্ধে সরকারকে জয়ী হতেই হবে।

x